“ছয় বছর অপেক্ষা করছিলাম” – অবশেষে স্বপ্নপূরণ শিবম মাভির
অভিষেক টি-২০তে ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন ডান-হাতি পেসার
আপডেট করা - Jan 4, 2023 1:15 pm

মঙ্গলবার ভারতের হয়ে স্বপ্নের টি-টোয়েন্টি অভিষেকের পরে, উঠতি ফাস্ট বোলার শিবম মাভি প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁর যাত্রার কথা স্মরণ করেছেন। মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইন গুঁড়িয়ে দিয়ে মাভি চার ওভারে ২২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ শেষ করেছেন।
২০২২ সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের পরে জাতীয় দলে তাঁর বহু প্রতীক্ষিত ডাক পেয়েছেন মাভি। সেই টুর্নামেন্টে তাঁর রাজ্য দল উত্তর প্রদেশের হয়ে সাত ম্যাচে ১০ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। যদিও ২০১৮ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাঁর দক্ষতা প্রমাণ করার পর থেকেই জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন মাভি।
অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ২০১৮-তে তাঁর গতি প্রদর্শন করার পরে মাভিকে ভবিষ্যতের তারকা হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। সৌরভ গাঙ্গুলী এবং ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো ভারতীয় কিংবদন্তীরা তাকে দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন। সেই বছরে ৩ কোটি টাকায় তাঁকে কেনে দুইবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন কলকাতা নাইট রাইডার্স। চোট ও ধারাবাহিকতার অভাব ২৪ বছর বয়সীকে বেশ কিছুটা পিছিয়ে দিলেও ভারতের হয়ে অভিষেক ম্যাচে মাভি হতাশ করেননি।
“অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে খেলার পর ছয় বছর অপেক্ষা করছিলাম। সেই ছয় বছরে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, চোটও পেয়েছি। কিছু সময়ের জন্য মনে হয়েছিল আমার স্বপ্ন হয়তো স্বপ্নই থেকে যাবে। কিন্তু আমি টিঁকে থেকেছিলাম। আইপিএল খেলার ফলে নার্ভাসনেসটা একটু কম। পাওয়ারপ্লেতে আমার পরিকল্পনা ছিল আক্রমণ করা এবং তাদের আউট করা। প্রিয় আউট ছিল প্রথমটি, তাকে বোল্ড করা,” মাভি তাঁর অভিষেকের দুর্দান্ত পারফর্ম্যান্সের পরে বলেছেন।
ভারতের হয়ে অভিষেক ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করেন শিবম মাভি
ওয়াংখেড়ের পাটা পিচে ভারতের ব্যাটাররা খুব বেশী রান তুলতে পারেননি। তাই এমন কাউকে প্রয়োজন ছিল যে শুরু থেকেই উইকেট তুলে বিপক্ষকে চাপে রাখবে। তাঁর করা প্রতিটি ওভারেই উইকেট তুলে মাভি সেই কাজটি অসামান্যভাবে পালন করেন।
দ্রুত পাঁচ উইকেট পড়ে যাওয়ার পরে লঙ্কান লায়ন্সের লোয়ার অর্ডার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং লক্ষ্যের কাছাকাছি এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল শ্রীলঙ্কাকে। সেই সময় নয়ডাতে জন্মগ্রহণকারী বোলার ১৫তম ও ১৮তম ওভারে দুটি উইকেট তোলেন যার মধ্যে একটি ছিল অলরাউন্ডার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার (১০ বলে ২১)। শ্রীলঙ্কার অগ্রগতি রুখে দেওয়ার জন্য সেই হাসারাঙ্গার উইকেটটি গুরুত্বপূর্ণ ছিল।