ব্যাটিংয়ে মিলার, ক্লাসেন দাপট দেখানোর পরে রাবাডা, মহারাজের বোলিংয়ের সামনে আত্মসমর্পণ ভারতীয় ব্যাটারদের

হারা ম্যাচে স্যামসনের লড়াকু অপরাজিত ৮৬

South Africa Team
South Africa Team. (Photo Source: Twitter)

টি-২০ সিরিজ হারলেও ৬ই অক্টোবর, বৃহস্পতিবার, তিন ম্যাচের ওডিআই সিরিজ জয় দিয়ে শুরু করল দক্ষিণ আফ্রিকা। লখনউইয়ের ভারতরত্ন শ্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী একানা ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পিচে বোলারদের জন্য শেষ পর্যন্ত সহায়তা ছিল এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ভারতীয় ব্যাটাররা ভালো মতোই বিপাকে পড়ল। বৃষ্টির কারণে ম্যাচ কমে আসে ৪০ ওভারে এবং তার মধ্যেই ২৫০ রানের বড় স্কোর তাড়া করতে নেমে দক্ষিণ আফ্রিকার পেসাররা রীতিমতো নাজেহাল করে ছাড়ল ভারতের টপ অর্ডারকে। মিডল অর্ডার লড়াই করলেও ভারতের ইনিংস থামল ২৪০ রানে।

ভারতের ইনিংসের তৃতীয় ওভারে কাগিসো রাবাডার ডেলিভারিতে শুবমান গিল ড্রাইভ মারতে গেলে বল তাঁর ব্যাটের ভিতরের প্রান্তে লেগে স্টাম্পে এসে লাগে। সেই ওভার এবং তার পরের দুই ওভার মেডেন হয়, ফলে রানের গতি বাড়ানোর চাপ পড়ে শিখর ধাওয়ানের উপর। পার্নেলের একটি বল কাট মারতে গেলে তিনিও প্লেড-অন হয়ে আউট হন। সেই জায়গা থেকে ভারতের ইনিংস গড়ার চেষ্টা করেছিলেন রুতুরাজ গায়কওয়াড় ও ঈশান কিষাণ। তবে দুজনেই অত্যন্ত মন্থর গতিতে রান করছিলেন। তাব্রেইজ শামসির বলে গায়কওয়াড় স্টাম্প এবং মহারাজের বলে কিষাণ লেগ স্লিপের হাতে ক্যাচ দিয়ে যখন আউট হচ্ছেন তখন ভারতের স্কোর ১৭.৪ ওভারে ৫১/৪।

এরপর শ্রেয়াস আইয়ার ও সঞ্জু স্যামসনের মধ্যে অংশীদারিত্ব গড়ে ওঠে যা ভারতের ইনিংসকে প্রয়োজনীয় গতি প্রদান করেছিল। শ্রেয়াস ক্রিজে নামার পর থেকেই আগ্রাসী হয়ে খেলতে থাকেন এবং মাত্র ৩৪ বলে অর্ধশতক পূর্ণ করেন। যদিও হাফ সেঞ্চুরির পরে লুঙ্গি ঙ্গিডির ওভারে শর্ট পিচ বলে পরাস্ত হন এবং যযাবতীয় দায়িত্ব এসে পড়ে একা স্যামসনের কাঁধে।

স্যামসন তৎক্ষণাৎ আক্রমণ করেননি, বরং শার্দূল ঠাকুর বেশ কিছু নজরকাড়া শট খেলে রান রেট উন্নত করছিলেন। কাগিসো রাবাডার এক ওভারে তিনটি বাউন্ডারি মেরে শার্দূল ভারতের আসা জিইয়ে রেখেছিলেন। স্যামসন ও শার্দূলের মধ্যে ৯৩ রানের পার্টনারশিপ হয় ১০.৫ ওভারে। যদিও ৩৮তম ওভার করতে এসে লুঙ্গি ঙ্গিডি শার্দূল ও আভেশ খানকে পরপর দুই বলে আউট করতেই ভারতের আশা ক্ষীণ হয়ে যায়। শেষ ওভারে তাব্রেইজ শামসির বিরুদ্ধে স্যামসন ২০ রান করলেও তা যথেষ্ট ছিল না।

দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটিং ইনিংসকে টানেন মিলার ও ক্লাসেন

দিনের শুরুতে ভারতীয় বোলাররা প্রোটিয়া ব্যাটারদের বিপদে ফেললেও ডেভিড মিলার (৭৫*) ও হাইনরিখ ক্লাসেন (৭৪*) পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে আভেশ, রবি বিষ্ণোইদের কাছে কোন জবাব ছিল না। মিলার এবং ক্লাসেনের পার্টনারশিপে ১৭.৪ ওভারে অপরাজিত ১৩৯ রান ওঠে। অভিষেক হওয়া বিষ্ণোইয়ের ছন্নছাড়া বোলিং ও ফিল্ডারদের ক্যাচ মিস দক্ষিণ আফ্রিকার এই দুই ব্যাটারকে অনেকাংশে সাহায্য করেছিল। 

ভারতের অস্থায়ী অধিনায়ক শিখর ধাওয়ান টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার জন্য সফরকারীদের পাঠান এমন একটি পিচে যেখানে বোলারদের প্রাথমিকভাবে সহায়তা ছিল, তবে ভারত পাওয়ারপ্লেতে উইকেট তুলতে ব্যর্থ হয়। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস মন্থরভাবে শুরু হলেও য়্যানেম্যান মালান ও কুইন্টন ডি ককের মধ্যে ৪৯ রানের উদ্বোধনী পার্টনারশিপ গড়ে উঠেছিল। শার্দূল ঠাকুর বোলিং করতে এসে মালানকে আউট করেন প্রথমে।

প্রোটিয়া অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা পরের ওভারে শার্দূলের দুর্দান্ত ইনডাকারে পরাস্ত হন। তবে সেই ডেলিভারিকেও ছাপিয়ে যায় ১৬তম ওভারের শেষ ডেলিভারিটি যখন এইডেন মার্করাম বোল্ড হন। স্টাইলিশ ডান-হাতি ব্যাটার কুলদীপ যাদবের একটি ডেলিভারিও ঠিকভাবে বুঝতে পারছিলেন না। ওভারের শেষ ডেলিভারির আগে চার বল খেলার পরেও মার্করাম রান করার উপায় খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বাঁহাতি রিস্ট স্পিনারের একটি সুন্দর ফ্লাইট হওয়া ডেলিভারি ফ্রন্ট ফুটে খেলতে গিয়ে ব্যাট ও প্যাডের মাঝখান দিয়ে বোল্ড হন মার্করাম। ডেলিভারিটি অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করার পরে তীব্রভাবে ঘুরে স্টাম্পে এসে লাগে।

দক্ষিণ আফ্রিকার জয়ের পরে টুইটার যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাল

close whatsapp