মান্ধানার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের দাপটে সিরিজে সমতা ফেরাল ভারত

বোলারদের সম্মিলিত প্রয়াসে ইংল্যান্ড ১৪২ রানের বেশী করতে পারেনি

Smriti Mandhana
Smriti Mandhana. (Photo by Alex Davidson/Getty Images)

ওপেনিং ব্যাটার স্মৃতি মান্ধানার একটি উদ্যমী প্রচেষ্টা ভারতকে তিন ম্যাচের সিরিজে তাদের প্রথম জয় এনে দেয়, যার ফলে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজ এখন ১-১ সমতায়। ডার্বিতে ভারতীয় ব্যাটারদের ভালো ট্র্যাক রেকর্ড ছিল, এবং সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মান্ধনার অপরাজিত ৫৩ বলে ৭৯* রানের সৌজন্যে সেই রেকর্ড আরও উন্নত হল।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা এবং পেসার রেণুকা সিং পাওয়ারপ্লেতে রানের গতি সীমিত রাখেন এবং নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিং করে প্রথম থেকেই ভারতের আধিপত্য বিস্তার করতে সাহায্য করেন। দুজন ইংলিশ ওপেনার ড্যানি ওয়াইয়াট ও সোফিয়া ডাঙ্কলি প্রথম তিন ওভারের মধ্যেই আউট হন এবং তারপর রান আউট হয়ে ড্রেসিং রুমের পথ ধরেন অ্যালিস ক্যাপসি।

মাত্র তিন ওভারের মধ্যেই ইংল্যান্ডের টপ অর্ডার লাইনআপ ভেঙে পড়ে। ব্রায়োনি স্মিথ ও অধিনায়ক অ্যামি জোন্স ইনিংস স্থির করার চেষ্টা করলেও স্নেহ রানা স্প্লেল শুরু করতেই আবার উইকেট পড়তে শুরু করে। স্পিন-বোলিং অল-রাউন্ডার স্মিথ প্রথমে রাধা যাদবের অনবদ্য ক্যাচের সৌজন্যে আউট হন। এরপর জোন্স বোল্ড হন রিভার্স সুইপ মারতে গিয়ে।

ইংল্যান্ড ১০ ওভারের মধ্যে পাঁচ উইকেট হারিয়েছিল এবং খেলার উপর দখল ছিল ভারতের। কিন্তু এরপর ফ্রেয়া কেম্প ও মাইয়া বুশিয়ার অসাধারণ ইনিংস খেলে ষষ্ঠ উইকেটে মাত্র ৮ ওভারে ৬৫ রানের জুটি গড়েন। বুশিয়ার ২৬ বলে ৩৪ করে আউট হলেও কেম্প আগ্রাসী ইনিংস খেলা বজায় রাখেন এবং মাত্র ১৭ বছর ১৪৫ দিনে পঞ্চাশ রান পেরিয়ে ইংল্যান্ডের কনিষ্ঠতম ব্যাটার হিসেবে টি-২০তে হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করার রেকর্ড করেন। কেম্প নট আউট থাকনে ৫১*(৩৭)। 

ডার্বিতে স্মৃতি মান্ধানার সামনে কুপোকাত ইংল্যান্ডের বোলাররা

সিরিজের প্রথম ম্যাচে ভারতীয় ব্যাটাররা ভালো শুরুর পরেও গতি বজায় রাখতে পারেননি বলে ১৪৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করা দলের জন্য সহজ ছিল না। তবে শাফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা ভারতকে স্বপ্নের সূচনা দিয়েছিলেন। দুজনেই ভালো গতিতে রান সংগ্রহ করেছিলেন এবং পাওয়ারপ্লের শেষ ওভারে শাফালি ২০ রান করে সোফি একলস্টোনের বলে আউট হওয়ার আগে স্কোর কার্ডে ৫৫ রান উঠে গিয়েছিল। এরপর দয়ালান হেমলথাও কয়েক ওভার পরে বোল্ড হন ফ্রেয়া ডেভিসের বলে।

ইংল্যান্ডের বোলাররা দ্রুত দুটি উইকেট পেয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করলেও ভারতীয় ব্যাটাররা রানের গতি কমতে দেন না। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউর ভাগ্যের সহায়তা পান যখন ওয়াইয়াট তাঁর ক্যাচ ফেলে দেন। তারপর হরমনপ্রীত গতি বাড়িয়ে খেলে ২২ বলে ২৯ রানে অপরাজিত থাকেন। 

মান্ধানা ও হরমনপ্রীত দুজনে অপরাজিত ৬৯ রানের অপরাজিত পার্টনারশিপ ভাগ করেন। মান্ধানা বিস্ফোরক মেজাজে রান করতে থাকেন। দুজনের সম্মিলিত প্রয়াসে ভারত ২০ বল বাকি রেখে সফলভাবে রান তাড়া করে সিরিজ ১-১ সমতায় নিয়ে আসেন। সিরিজের চূড়ান্ত নির্ধারক ম্যাচটি ১৫ই সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ব্রিস্টলে আয়োজিত হবে।

ভারতের জয়ের পরে টুইটারের প্রতিক্রিয়া

close whatsapp