আইপিএল মেগা নিলামে যে তিনটি দলের নজর থাকবে ভুবনেশ্বর কুমারের দিকে

ভুবনেশ্বর আইপিএলের অষ্টম সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী

Bhuvneshwar Kumar
Bhuvneshwar Kumar. (Photo by RODGER BOSCH/AFP via Getty Images)

ন্যূনতম মূল্যের সর্বোচ্চ দর ২ কোটি টাকার তালিকায় নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করা ভুবনেশ্বর কুমারের সাম্প্রতিক পারফর্ম্যান্স তেমন উল্লেখযোগ্য না হলেও আইপিএলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নজর কাড়ছেন। ২০০৯-এ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর তাঁকে প্রথম কিনলেও তিনি পারফর্ম করতে শুরু করেন পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়ার হয়ে। তারপর ২০১৪তে সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ তাঁকে কেনার পর থেকে আইপিএলে তিনি তাঁর সেরা পারফর্ম্যান্স দেখাতে শুরু করেন।

১৩২টি আইপিএল ম্যাচ খেলে ভুবি ১৪২টি উইকেট নিয়েছেন ৭.৩ ইকোনমি রেটে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের হয়ে আটটি মরসুমে তিনি ১০১ ম্যাচ খেলে ১১৮ উইকেট সংগ্রহ করেছেন। যদিও গত বছর এসআরএইচের হয়ে তিনি একেবারেই ছন্দে ছিলেন না। ১১ ম্যাচে মাত্র ৬ উইকেট নিয়েছিলেন ৫৫.৮৩ গড়ে। ২০১৮-র নিলামের আগে হায়দ্রাবাদ তাঁকে ধরে রাখলেও এবার আর তাঁকে ধরে রাখার ব্যাপারে উৎসাহ দেখায়নি।

বিগত কয়েক মাস তিনি ভালো ফর্মে না থাকলেও ভুলে গেলে চলবে না ২০১৬ ও ২০১৭, পরপর দুবার, আইপিএলের শীর্ষ উইকেটশিকারী ছিলেন ভুবনেশ্বর। আইপিএলে ডোয়েন ব্রাভো ছাড়া আর কোন বোলার দুটি সংস্করণের শীর্ষ উইকেটশিকারী হতে পারেনি। ইনিংসের শুরুতে বল সুইং করানোর ক্ষমতা এবং ডেথ ওভারে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বোলিংয়ে বৈচিত্র্য দেখানোর পারদর্শিতা দেখানোর জন্য ভুবনেশ্বরের দিকে বেশ কিছু ফ্র্যাঞ্চাইজির নজর থাকবে।

দেখে নেওয়া যাক আসন্ন আইপিএল নিলামে ভুবনেশ্বর কুমারকে দলে পেতে কোন তিনটি দল সবচেয়ে বেশী আগ্রহী হবে

১. পাঞ্জাব কিংস

পাঞ্জাব কিংস আসন্ন নিলামে সবচেয়ে বেশী অর্থ হাতে রেখে অংশ নিতে চলেছে। প্রত্যাশিতভাবেই তাঁরা কিছু ক্রিকেটারের জন্য এমন পরিমাণ অর্থ খরচ করতে সক্ষম হবে যা বাকি দলগুলি পারবে না। ভুবনেশ্বরের মতো সুইংয়ে পারদর্শী বোলারকে দলে যুক্ত করতে পাঞ্জাব আগ্রহী হবে কারণ, পাঞ্জাবের ঘরের মাঠ মোহালির আই এস বিন্দ্রা স্টেডিয়ামে ইনিংসের শুরুর দিকে সুইং করানো বোলাররা সহায়তা পান।

এ ছাড়া ভুবির জাতীয় দলের সতীর্থ মহম্মদ শামিকে দলে নিয়ে এর আগে পাঞ্জাব আশানুরূপ ফল পায়নি। তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে এবং সেই শূন্যস্থানে যদি ভুবনেশ্বরের মতো এমন একজনকে পাওয়া যায় যিনি প্রায় দশ বছর জাতীয় দলে খেলছেন তা হলে পাঞ্জাবের বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো একজনকে পাওয়া যাবে। কিংস ম্যানেজমেন্ট এই বিষয়টিও তাদের পরিকল্পনায় রাখবে যে ভুবনেশ্বর ব্যাটার হিসেবেও অবদান রাখতে পারেন।

২. আহমেদাবাদ

আহমেদাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজি এই প্রথমবার আইপিএলে নামছে, ফলে দলে এমন খেলোয়াড়ের উপস্থিতি পছন্দ করবে যাঁরা আইপিএলে দীর্ঘদিন ধরে খেলছেন এবং কীভাবে চাপের পরিস্থিতিতে পারফর্ম করতে হয় সেই সম্বন্ধে অবগত। তা ছাড়া ভুবনেশ্বরের ২০১৬ আইপিএল জেতার অভিজ্ঞতাও আছে। সুতরাং একটি টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হতে জানা ক্রিকেটারের দিকে স্বাভাবিকভাবেই নজর দেবে নতুন যুক্ত হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি।

২০২১-এ ইংল্যান্ড যখন ভারত সফরে এসেছিল, তখন টি-২০ সিরিজটি হয়েছিল আহমেদাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির হোম গ্রাউন্ড নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। সেই সিরিজে ভুবনেশ্বরের ইকোনমি রেট ছিল ঈর্ষণীয়। যেখানে অধিকাংশ বোলারের ইকোনমি রেট আটের কাছাকাছি বা তার বেশী ছিল, সেখানে ভুবি প্রতি ওভারে মাত্র ৬.৩৮ রান দিয়েছিলেন। সেই সিরিজে ভুবনেশ্বরের পারফর্ম্যান্স স্বাভাবিকভাবেই আহমেদাবাদ ফ্র্যাঞ্চাইজির খেয়াল থাকবে।

৩. কলকাতা নাইট রাইডার্স

আইপিএলের প্রথম দিকে নাইট রাইডার্সের হোম গ্রাউন্ড ইডেন গার্ডেন্স স্পিনসহায়ক থাকলেও বিগত পাঁচ-সাত বছর মূলত পেসাররাই বেশী সুবিধা পাচ্ছেন এবং ইনিংসের শুরুর দিকে সুইংও পেয়ে থাকেন বোলাররা। কেকেআর সাম্প্রতিক অতীতে পাওয়ারপ্লেতে বোলিং করার সময় একেবারেই সুবিধা করতে পারেনি। এমনকী, প্যাট কামিন্সের মতো বোলারকে এনেও পাওয়ারপ্লের ওভারগুলিতে ধারাবাহিকভাবে উইকেট তুলতে পারেনি। এই সমস্যাটি দূর করার জন্য ভুবনেশ্বর কুমার তাদের জন্য আদর্শ খেলোয়াড় হতে পারেন।

ইডেনে আইপিএলে মোট ৮টি ম্যাচ খেলে ১২টি উইকেট নিয়েছেন ২০.১৭ গড়ে। ইডেনের মতো উচ্চ-স্কোরিং মাঠেও তাঁর ইকোনমি রেট মাত্র ৭.৯৮, যেখানে সাধারণত ওভারপ্রতি সাড়ে আটের কাছাকাছি রান ওঠে। নাইটদের দলে একাধিক তারকা থাকলেও কখনওই কোন খেলোয়াড়ের একার দিকে লাইমলাইট এসে পড়ে না এবং নাইটরা দলগত পারফর্ম্যান্সে সাফল্য পায়। এরকম একটি দলের সঙ্গে ভুবনেশ্বরের মানিয়ে নিতেও সুবিধা হবে।

close whatsapp