লখনউয়ে ইশান-শ্রেয়সের ঝড়ে উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা বাহিনী, টুইটার জুড়ে শুভেচ্ছা বার্তার ঢল

Team India
Team India. (Photo Source: Twitter)

লখনউয়ে ইশান কিষাণ-শ্রেয়স আইয়ার ঝড়ে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল শ্রীলঙ্কা। ভারতের বিরাটের রানের ধারে কাছেও পৌঁছতে পারলেন দাসুন সনাকারা। দুরন্ত জয় দিয়ে ঘরের মাঠে লঙ্কা বাহিনীর বিরুদ্ধেও যাত্রা শুরু করল টিম ইন্ডিয়া। দুর্ধর্ষ ব্যাটিং শ্রেয়স আইয়ার ও ইশা কিষাণের।  জয়ের রাস্তা তারাই এদিন প্রস্তুত করে দিয়েছিলেন। সেই রাস্তার ওপর চলে শুধু  ভারতের কাঙ্খিত জয়টা পাকা করে দিয়েছেন বোলাররা। লখনউয়ে শ্রীলঙ্কাকে ৬২ রানে হারাল টিম ইন্ডিয়া।

ওয়েস্ট ইন্ডিজকে একদিন ও টি টোয়েন্টি দুই সিরিজেই হোয়াইট ওয়াশ করেছে ভারত। এরপর ঘরের মাঠে তাদের সামনে শ্রীলঙ্কা। ধারেভারে অবশ্য শ্রীলঙ্কার থেকে এদিন এগিয়ে থেকেই নেমেছিল ভারত। যদিও ভারতীয় দলের বহু তারকাকেই এই সিরিজে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। তেমনই শ্রীলঙ্কার বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারও ছিটকে গিয়েছেন। যদিও এই ম্যাচ একেবারেই হাল্কাভাবে নিতে নারাজ ছিলেন রোহিত শর্মা।

সেইসঙ্গে লখনউয়ে সকলের চোখ ছিল ইশান কিষাণের দিকেও। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওপেনিংয়ে সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি তিনি। এই সিরিজে তাঁর দিকে তাকিয়ে ছিলেন সকলে। আর ভারতের জয়ের নায়কও এদিন হয়ত হয়ে গেলেন তিনি। সঙ্গে অবশ্যই শ্রেয়স আইয়ার তো রয়েছেনই। তাঁর ঝোরো ইনিংস ছাড়া এদিন দুশো রানের গন্ডী টপকানো ভারতের পক্ষে সম্ভব ছিল না। প্রথম ম্যাচে সুযোগ পেয়েই, নিজেকে প্রমাণ করা শুরু করেছেন শ্রেয়স।

ইশান কিষাণ ও শ্রেয়স আইয়ারের জোড়া অর্ধশতরানে জয় টিম ইন্ডিয়ার

লখনউয়ে টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত রোহিত শর্মার। প্রথম থেকে লক্ষ্যটা ছিল বড় রান  করার। তাই শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজেজে ছিলেন রোহিত এবং ইশান দুজনেই। যদি্ও এদিন একটু বেশীই আক্রমণাত্মক ছিলেন ইশান। ১১১ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ। ভারত যে বড় রানের থে হাঁটছে তা সেই সময়ই স্পষ্ট। যদিও রোহিত শর্মাকে থামতে হয় ৪৪ রানেই।

এরপরই মাঠে আসেন শ্রেয়স আইয়ার। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দুই তরুণ ক্রিকেটারের ঝড় শুরু মাঠে। ইশানের থেকেও তখন মাঠে আরও বেশী ভয়ঙ্কর শ্রেয়স আইয়ার। একের পর এক বলে বাউন্ডারি পার করে চলেছেন তিনি। সঙ্গে ইশান কিষাণও ছিলেন দুর্ধর্য ছন্দে। শেষ পর্যন্ত থাকতে পারলে এদিন হয়ত শতরানটা পেয়ে যেতেন তিনি। কিন্তু তা হয়নি। ৫৬ বলে ৮৯ রানের ইনিংস খেলে ফিরতে হয় তাঁকে। তাঁর গোটা ইনিংসে রয়েছে ১০টি চার ও তিনটি ছিয়। তবে শেষপর্যন্ত ক্রীজে টিকে ছিলেন শ্রেয়স আইয়ার। তাঁর ২৮ বলে ৫৬ রানের ঝোরো ইনিংসে ভর করে ১৯৯ রানে পৌঁছয় ভারত। আর সেই থেকেই টুইটার জুড়ে এই দুই তারকার প্রশংসায় সকলে।

শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তখন রানের পাহাড়ে ভারত। শুরু থেকে লঙ্কাবাহিনী যে খানিকটা হলেও চাপে ছিল তা বেশ স্পষ্ট। আর সেই সুযোগ কাজে লাগাতেই এতটুকু ভুল করেননি ভারতীয় বোলাররা। শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার ব্যাটারদের ওপর চাপ বাড়তে থাকেন ভুবনেশ্বর কুমার, জাদেজা এবং চাহালরা। প্রথম দুই ওপেনারকেই এদিন ১৫ রানের মধ্যে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন ভুবনেশ্বর কুমার।

শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে ১-০-এ এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া

অধিনায়ক দাসুন সনাকাকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন যুজবেন্দ্র চাহাল। আরেক তারকা ব্যাটার দীনেশ চন্ডীমলকে প্যাভিলিয়নের পথে ফিরিয়ে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। আর তখন ভারতের জয় ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। ভারত জিততেই শুরু উচ্ছ্বাস। সেইসঙ্গেই শ্রীলঙ্কারে হারানোর উচ্ছ্বাস শুরু সোশ্যাল সাইটেও।

আসালঙ্কা শেষপর্যন্ত একটু লড়াই দেওয়ার চেষ্টা করলেও, ভারতের এই বিরাট রান তাদের পক্ষে টপকানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ১২৭ রানেই থামতে হয় তাদের। শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে সিরিজে ১-০-এ এগিয়ে গিয়েছে ভারত। পরের ম্যাচ জিতলেই মরসুমের দ্বিতীয় টি টোয়েন্টি সিরিজ জয় হয়ে যাবে টিম ইন্ডয়ার।

close whatsapp