নিলাম থাকা পাওয়া অর্থে মা-বাবাকে কলকাতায় ফ্ল্যাট কিনে দিতে চান রিচা ঘোষ

১.৯০ কোটি টাকায় রিচাকে কিনেছে দিল্লি ক্যাপিটালস

Richa Ghosh
Richa Ghosh. (Photo by Matthew Lewis-ICC/ICC via Getty Images)

মহিলা প্রিমিয়ার লিগে লাভজনক চুক্তি পাওয়ার পরে ১৯ বছর বয়সী রিচা ঘোষ তাঁর বাবা-মায়ের জন্য কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট কেনার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। শিলিগুড়ি থেকে কলকাতায় যাতায়াতের জন্য যাতে আগের মতো তাঁদের কঠোর পরিশ্রম করতে না হয় তাই রিচা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। রিচার বাবা ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অফ বেঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত একজন পার্ট-টাইম আম্পায়ার।

প্রত্যাশামতোই সোমবার, ১৩ই ফেব্রুয়ারি, মুম্বাইতে ডাব্লিউপিএল নিলামে রিচা ঘোষের জন্য একটি বিডিং যুদ্ধ শুরু হয়েছিল। রিচাকে ১.৯০ কোটি টাকায় কিনেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর। ভারতীয় খেলোয়াড়দের মধ্যে রিচার দর যুগ্ম পঞ্চম সর্বোচ্চ। ভারতের অধিনায়ক হরমনপ্রীত কউরের চেয়েও রিচার দর বেশী হয়ে যায়। হরমনপ্রীতকে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ১.৮০ কোটি টাকায় কিনেছে।

আমি চাই আমার মা-বাবা এখন তাদের জীবন উপভোগ করুক: রিচা ঘোষ

২০২৩ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের উদ্বোধনী ম্যাচে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ম্যাচজয়ী ৩০* রানের ইনিংস খেলার পরের দিনে উইকেটকিপার-ব্যাটার রিচা ঘোষের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিরা আগ্রহ দেখিয়েছিল। উল্লেখ্য, ২৯শে জানুয়ারি, অনূর্ধ্ব-১৯ মহিলাদের টি-২০ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে পরাজিত করা ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ দলেরও অংশ ছিলেন রিচা।

“আমার বাবা-মা এটাই চেয়েছিলেন যে আমি যেন ভারতের হয়ে খেলি। আমি আমার দলের অধিনায়কত্ব করতে চাই এবং ভারতের হয়ে একটি বড় ট্রফি জিততে চাই। আমি কলকাতায় একটি ফ্ল্যাট কিনতে চাই। আমি চাই আমার মা এবং বাবা সেখানে স্থায়ী হোক। আমি চাই তারা এখন তাদের জীবন উপভোগ করুক,” রিচা বলেছেন।

তাঁর কেরিয়ারের শুরু থেকে তাঁর বাবা-মাকে যে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে সেই প্রসঙ্গে রিচা বলেছেন, “তারা তাদের জীবনে অনেক সংগ্রাম করেছে, এবং তারা আমার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছে। এখনও, আমার বাবা আম্পায়ারিং করেন। আমি আশা করি নিলামের পরে তাকে এত পরিশ্রম করতে হবে না।”

মাত্র সাড়ে চার বছর বয়সে ক্রিকেট ব্যাট হাতে নেওয়া রিচা ঘোষ তাঁর সাফল্যের জন্য তাঁর বাবা মানবেন্দ্র ঘোষের কাছে অনেকাংশে ঋণী। দক্ষিণ আফ্রিকায় আয়োজিত বিশ্বকাপ থেকে ফিরে আসার পর মানবেন্দ্র তাঁর মেয়েকে একটি এসইউভি গাড়ি কেনার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। নিলামের আগে মানবেন্দ্র বলেছিলেন যে মহিলা প্রিমিয়ার লিগ দেশের মহিলা ক্রিকেটের ব্যাপক উন্নতি করতে সাহায্য করবে এবং উদীয়মান ক্রিকেটারদের আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রদান করবে।

“রিচাকে নিয়ে আমার ব্যক্তিগত প্রত্যাশা নেই। এটা চমৎকার কিছুর সূচনা হতে চলেছে। রাজ্য স্তরের খেলোয়াড়রা, তারাও সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলতে পারবে। তারা আর্থিক সহায়তাও পাবে। খেলোয়াড়দের ডাব্লিউপিএলে খেলতে দেখে, অনেক তরুণী অনুপ্রাণিত হবে এবং ক্রিকেট খেলার জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হবে,” তিনি যোগ করেছেন।

close whatsapp