তাঁর বাড়িতে বিরিয়ানি খেতে এসে চমকে দিয়েছিলেন বিরাট, স্মৃতি চারণায় মহম্মদ সিরাজ
আপডেট করা - Feb 18, 2022 3:52 pm

ভারতীয় ক্রিকেটের আকাশে এখন অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্রের নাম মহম্মদ সিরাজ। নিজের দক্ষতা প্রদর্শন করে টিম ইন্ডিয়া ব্রিগেডের অটোমেটিক চয়েজ হয়ে গিয়েছেন তিনি। সেই মহম্মদ সিরাজের কাছেই এখনও পর্যন্ত সেরা মুহূর্ত একটাই। ২০১৯ সালে বিরিয়ানির নিমন্ত্রনের জন্য যখন বিরাট কোহলি তাঁর বাড়িতে এসেছিলেন, সেটাই সিরাজের কাছে এখনও পর্যন্ত সেরা মুহূর্ত। আইপিএলের নতুন মরসুম শুরু হওয়ার আগে তারই স্মৃতি চারণায় ভারতের তারকা পেসার মহম্মদ সিরাজ।
তাঁর বাবা অটোচালক ছিলেন। মা বাড়িতে কাজ করতেন। ছোট থেকেই অভাবের সঙ্গে লড়াই মহম্মদ সিরাজের। কিন্তু কখনও নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন দেননি। বরং ক্রমশই বেড়েছে তাঁর জেদ। মনের শক্তিকে কাজে লাগিয়েই শেষপর্যন্ত সাফল্য এসেছে মহম্মদ সিরাজের। আর তার পিছনে সবচেয়ে বড় অবদান নাকি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। আরসিবিতে যাওয়ার পরই তাঁর জীবন বদলে গিয়েছিল। সেজন্য তিনি যেমন কৃতজ্ঞ তেমনই বিরাট কোহলির মতো নেতাকে পেয়েও আপ্লুত সিরাজ।
২০১৯ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুতে সুযোগ পেয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ। সেই থেকেই নিজেকে প্রমান করা শুরু তাঁর। নিজের দক্ষতা প্রমান করে ভারতীয় দলেও এখন পাকাপাকি জায়দা করে নিয়েছেন হায়দরাবাদের এই তারকা পেসার। যদিও এখনও অনেকটা পথ চলা বাকি তাঁর। কয়েকদিন পরই শুরু হবে আইপিএল। তার আগে স্মৃতি চারণায় মহম্মদ সিরাজ।
আর সেখানেই ২০১৯ সালে তাঁর বাড়িতে বিরাট কোহলির আসার কথা উঠে আসে। যে ঘটনা এখনও পর্যন্ত ভুলতে পারেননি তিনি। প্রথমে কোমড়ের যন্ত্রনার জন্য বিরাট আসবে না জানালেও, শেষ মুহূর্তে পুরো দলের সঙ্গে এসেছিলেন তিনি। চমকে গিয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ। সেই সাপ্রাইজ এখনও পর্যন্ত ভুলতে পারেননি মহম্মদ সিরাজ।
বিরাট কোহলি তাঁর বাড়িতে আসাটাই এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় চমক মহম্মদ সিরাজের কাছে
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সিরাজ জানান, “আমি আরসিবির সকলকে আমার বাড়িতে নৈশভোজের জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছিলাম। বাড়ি এসেই প্রথম ফোনটা করি বিরাট ভাইকে। কিন্তু তাঁর কোমড়ে যন্ত্রনার জন্য তিনি আসতে পারবেন না জানিয়েছিলেন। আমিও তাঁকে বিশ্রাম নিতেই বলেছিলাম। এরপরই একে একে দলের বাকী সদস্যরা আসতে থাকেন। সেখানেই দেখি গাড়ি থেকে নামছেন বিরাট কোহলি। আর সেটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চমক”।
মহম্মদ সিরাজের বাড়িতে বিরাটের আসার সেই ছবি যেমন সোশ্যাল সাইটে ভাইরাল হয়েছিল, তেমনই সমস্ত সংবাদ সংস্থার শিরোনামে উঠেছিল সেই ঘটনা। আর তা দেখেই আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন হায়দরাবাদের এই তরুণ পেসার। আরসিবির হাত ধরে তাঁর দীবন ঘুরে দাঁড়িয়েছিল। এবারেও নিলামের আগে তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।
এই রয়্যাল চ্যালে়্জার্সে যাওয়ার পরই তাদের পারিবারিক অবস্থার উন্নতি হয়েছিল। ভাড়া বাড়ি ছেড়ে নিজেদের বাড়ি হয়েছিল মহম্মদ সিরাজদের। বাবাকে আর অটো চালাতে হয়নি। তাঁর মাও এখন কোনও বাড়িতে কাজ করেননা। সিরাজের লক্ষ্য এখন নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।