ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং তিন বিভাগেই উজ্জ্বল ভারত গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমি-ফাইনালে গেল

আগামী ১০ই নভেম্বর অ্যাডিলেডে ভারতের প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড

Team India
Team India. (Photo by Daniel Pockett-ICC/ICC via Getty Images)

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চলমান টি-২০ বিশ্বকাপের শেষ সুপার ১২ পর্বের ম্যাচে জিম্বাবোয়েকে হারিয়ে গ্রুপ শীর্ষে থেকে সেমি-ফাইনালে যাচ্ছে ভারত। কেএল রাহুল ও সূর্যকুমার যাদবের আগ্রাসী হাফ সেঞ্চুরির অবদানে ১৮৬ রানের বিশাল স্কোর স্থাপন করার পরে বোলিং করতে নেমে ভারতের বোলাররা শুরু থেকেই ছন্দে ছিলেন এববগ তাঁদের যথোচিত সাহায্য করেছেন ফিল্ডাররা। 

শারীরিক নমনীয়তা দেখিয়ে বিরাট কোহলি একটি চমৎকাল ক্যাচ নিয়ে জিম্বাবোয়ের ইনিংসের প্রথম বলেই তরুণ ওপেনিং ব্যাটার ওয়েসলি মাধভেরেকে ড্রেসিং রুমে ফেরত পাঠান। রেজিস চাকাবভা পরের ওভারে আর্শদীপ সিংকে একটি অসামান্য ডেলিভারিতে বোল্ড করেন।

জিম্বাবুয়ের পতন অব্যাহত থাকে কারণ তারা তাদের পরের তিনটি উইকেট হারিয়েছিল মাত্র আট রানে এবং অর্ধেক ব্যাটার হারিয়েছিল দলীয় ৩৬ রানে। সেই পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেছিলেন দুই হার্ড-হিটিং অলরাউন্ডার অলরাউন্ডার সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল। পাল্টা-আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলে দুজনের মধ্যে ষষ্ঠ উইকেটের পার্টনারশিপে ৩৫ বলে ৬০ রান ওঠে।

অভিজ্ঞ অফস্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন বার্লকে আউট করার আগে তিনি অশ্বিন ও অন্য স্পিনার অক্ষর প্যাটেলের বিরুদ্ধে বেশ কিছু আগ্রাসী শট খেলেছিলেন। বার্ল ২২ বলে ৩৫ রান করে সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন ইনিংসের। এরপর রাজা কিছু বড় শট খেললেও টার্গেট তখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল। অশ্বিন তাঁর চার ওভারে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ভারতের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী ছিলেন এবং তিনি দ্রুত জিম্বাবোয়ের ইনিংসকে ১১৫ রানে গুটিয়ে দিতে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখেন।

ভারতকে বিশাল স্কোরের দিকে এগিয়ে নিয়ে যান সূর্যকুমার যাদব

ম্যাচের শুরুতে ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা টস জিতে এমসিজিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন। যদিও রোহিত ব্যাটিং-বান্ধব পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করতে পারেননি এবং ম্যাচের চতুর্থ ওভারে ১৫ রানে আউট হন। কিন্তু তাঁর ওপেনিং সঙ্গী কেএল রাহুল জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ইচ্ছামতো বাউন্ডারি পেতে থাকেন। 

প্রাক্তন ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলির সঙ্গে রাহুল ৬০ রানের মূল্যবান জুটি গড়েন। কিন্তু জিম্বাবোয়ের স্পিনাররা পরপর দুই ওভারে দুই সেট ব্যাটারকেই আউট করে ভারতকে জোরালো ধাক্কা দেন। এই বিশ্বকাপে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া ঋষভ পান্তও উল্লেখযোগ্য স্কোর করতে ব্যর্থ হন। ভারত ১৪ ডেলিভারির মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়েছিল।

তবে জিম্বাবোয়ের সাফল্য ক্ষণস্থায়ী ছিল কারণ সূর্যকুমার যাদব তখনও ক্রিজে উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বের এক নম্বর টি-টোয়েন্টি ব্যাটার ২০২২ সালে টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ মাইলস্টোন তিক্রম করা প্রথম খেলোয়াড় হওয়ার পাশাপাশি মাত্র ২৩ বলে একটি বিস্ফোরক হাফ সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন। এটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের চতুর্থ দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরি ছিল। তাঁর বিনোদনমূলক ২৫ বলে ৬১* ভারতকে ২০ ওভারে ১৮৬ রানের বিশাল স্কোর তুলতে সাহায্য করেছিল।

ভারতের শেষ সুপার ১২ ম্যাচে জয়ের পরে টুইটারের প্রতিক্রিয়া

close whatsapp