রোহিত শর্মার দাপুটে ইনিংস ও দীনেশ কার্তিকের ফিনিশিং টাচে জয়ের সরণীতে ভারত

Rohit Sharma
Rohit Sharma. ( Image Source: BCCI)

মোহালীতে প্রথম ম্যাচে বিরাট রান করেও হার। নাগপুরে প্রতিকূল পরিবেশের জেরে ৮ ওভারের ম্যাচ। সেখানেও অস্ট্রেলিয়ার কঠিন চ্যালেঞ্জ। সেই নাগপুরেই ফের একবার জ্বলে উঠলেন রোহিত শর্মা। অস্ট্রেলিয়ার তাবড় তাবড় বোলাররা দেখল ফের একবার দ্য হিটম্যান শো। ২০ বলে ৪৬ রানের দাপুটে ইনিংস খেলে একা হাতেই ভারতকে ফের জয়ের সরণীকে ফেরালেন রোহিত শর্মা। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে জিতে নিল ভারচ। হায়দরাবাদেই হবে সিরিজ নির্ণয়।

ভারতের বোলিং কিন্তু এদিনও ব্যর্থ হয়েছে। বিশেষ করে হর্শল পটেল চূড়ান্ত ব্যর্থতার জন্য অস্ট্রেলিয়ার রান পৌঁছেছিল ৮ ওভারে ৯০। সিরিজে টিকে থাকতে হলে এই ম্যাচ তোজিততেই হত ভারতকে। দলের সবচেয়ে প্রয়োজনের দিনে রোহিত শর্মাই জেগে উঠলেন। অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে হাঁকালেন একাই ৪টি ছয় ও ৪টি বাউন্ডারি। শেষদেখা গেল ফিনিসার দীনেশ কার্তিকেরও ঝলক।

২০ বলে ৪৬ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের নায়ক অধিনায়ক রোহিত শর্মা

আউট ফিল্ড ভেজা থাকার জন্য এদিন নির্ধারিত সময়ের থেকে আড়াই ঘন্টা পড়ে শুরু হয়েছিল দ্বিতীয় ম্যাচ।  ম্যাচ যে নির্ধারিত ওভারের থেকে কম হবে তা  তো আগে থেকেই বোঝা যাচ্ছিল। শেষপর্যন্ত মাঠ পর্যবেক্ষণ করে সাড়ে নটার সময় ম্যাচ শুরুর সিদ্ধান্ত এগিন নিয়েছিবেন আম্পায়াররা। এই ম্যাচের টস যে একটা বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে তা  বেশ স্পষ্ট। সেখানেই টস জেতেন রোহিত শর্মা। আর টস জেতার পর কোনোরকম ধুঁকির রাস্তায় হাঁটতে চাননি তিনি। প্রথমে বোলিংয়েরই সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে দলের বোলাররাই সবচেয়ে খারাপ পারফরম্যান্স করেছিলেন। এদিন দলে এসেছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। বাদ পড়েছিলেন ভুবনেশ্বর কুমার ও উমেশ যাদব। বল হাতে  ভারতও যে শুরুটা খুব একটা খারাপ করেছিল তা কিন্তু নয়। বরং অক্ষররের স্পিনের দাপটে  ক্যামেরন গ্রীন ও ম্যাক্সওয়েল দ্রুত সাজঘরে ফিরে যান। সেইসঙ্গে দেশের জার্সিতে প্রত্যাবর্তনটা জসপ্রীত বুমরারও খুব একটা খারাপ হয়নি। অধিনায়ক অ্যারণ ফিঞ্চ এদিন তাঁরই শিকার ছিলেন।

জসপ্রীত বুমরার ই.র্কারের কোনও উত্তর ছিল না অ্যারণ ফিঞ্চের সামনে। ৪১ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে সেই সময় অস্ট্রেলিয়া কিন্তু বেশ চাপে পড়ে গিয়েছিল। আবারও তাদের ত্রাতা সেই ম্যাথু ওয়েড। আর বল হাতে ফের চূড়ান্ত ব্যর্থ সেই হর্ষল পটেল। শেষের দুকে দুই ওভারে একাই সব শেষ করে দিয়েছিলেন ম্যাথু ওয়েড। ২০ বলে ৪৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। সেইসঙ্গে হর্ষল পটেল এদিনও দেন ২ ওভারে ৩২ রান।

বল হাতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে এদিন ২ উইকেট নেন অক্ষর পটেল

অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস শেষ হয় ৯০ রানে। ভারতকে জিততে হলে শুরু থেকেই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের বিরুদ্ধে বিধ্ংসী ইনিংস খেলতে হত।  আর সেখানে যে রোহিত র্মাকেই প্রধান দায়িত্ব নিতে হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। প্রথম ওভার থেকেই হিটম্যান ছিলেন ভয়ঙ্কর মেজাজে। প্রথম ওভারেই রোহিতের জোড়া ছয়। সেই ওভারেই ভারত তুলে নিয়েছিল ২০ রান। রোহিতের ব্যাটে এদিন শুরু থেকেই ছিল রানের ঝলক।

লোকেশ রাহুলকে নিয়ে শুরুটা বেশ ভালভাবেই করেছিলেন রোহিত শর্মা। কিন্তু রাহুল ফেরার পরই যেন বদলে গিয়েছিল চিত্রটা। বিরাট কোহলি দুটো বাউন্ডারি মারলেও, কিছুক্ষণের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান। এররপর সূর্যকুমার যাদব প্রথম বলেই এলবি ডব্লু। ভারতের রান তখন ৩ উইকেটে ৫৫। কিন্তু অধিনায়ক এদিন একাই দয়িত্ব নিয়ে নিয়েছিলেন তিনি। ২০ বলে ৪৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন রোহিত শর্মা। আর শেষ ওভারে দীনেশ কার্তিকের ফিনিশিং টাচ।

৪ বল বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজে সমতায় ফিরল টিম ইন্ডিয়া। ম্যাচের সেরা যে অধিনায়ক রোহিত শর্মা তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

close whatsapp