শিখর ধওয়ানের লড়াইয়ে চেন্নাইয়ের কিংসদের হারিয়ে জয়ের রাস্তা পঞ্জাব কিংস

Shikhar Dhawan
Shikhar Dhawan. (Photo Source: IPL/BCCI)

ওয়াংখেড়েতে গব্বর শো। আর তাতেই চেন্নাইয়ের সুপার কিংসদের হারিয়ে ফের জয়ের রাস্তায় পঞ্জাব কিংস। এদিনও ধোনির সামনে একবার ফিনিশার হওয়ার সুযোগ এসেছিল। কিন্তু হল না। শিধর ধওয়ানের ৮৮ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস ব্যর্থ হল না। ম্যাচের লড়াই শেষ ওভার পর্যন্ত হলেও, জয়ের হাসি ফুটল ময়াঙ্ক আগরওয়ালের মুখেই। আর ম্যাচের নায়ক যে শিখর ধওয়ান তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তাঁর আরও একটা দুর্ধর্ষ ইনিংসে ধোনির চেন্নাইকে হারিয়ে দিল পঞ্জাব কিংস। ১১ রানে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে দিল পঞ্জাব। সেইসঙ্গে চেন্নাইয়েরও প্লেঅফের আশা কার্যত শেষ হয়ে গেল।

গত ম্যাচে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে রান তাড়া করে ম্যাচ জিতেছিল চেন্নাই সুপার কিংস। এদিনও টস জিতে প্রথমে বলিংয়েরই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। আর বরাবরের মতো এদিনও চেন্নাই সুপার কিংসের বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে সফল সেই শিখর ধওয়ান। শুরু থেকেই এদিন ডোয়েন প্রিটোরিয়াস, ডোয়েন ব্রাভোদের বিরুদ্ধে বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন গব্বর। আর তাতেই নাজেহাল হয়ে গিয়েছিলেন চেন্নাইয়ের বোলাররা। এদিন মাঠ জুড়ে ছিল ধওয়ানের শাসন।

চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে ফের জয়ের রাস্তায় ফিরল পঞ্জাব কিংস

ব্যাট হাতে এদিনও বড় রান পেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন ময়াঙ্ক আগরওয়াল। তখন পঞ্জাব কিংসের রান ১ উইকেটে ৩৭। সেই জায়গা থেকেই রাজাপক্সেকে নিয়ে শিখর ধওয়ানের পার্টনারশিপ গড়ার কাজটা শুরু। আর তাদের ১০৫ রানের ইনিংসটাই এদিন পঞ্জাবের বড় রানের ইনিংসটা গ়ড়ে দিয়েছিল। শিখর ধওয়ানকে এদিন আউট করা যেন অসাধ্য ছিল চেন্নাই বেলারদের কাছে। রাজাপক্সে ফেরার পর তখন ধওয়ানের সঙ্গে লিয়াম লিভিংস্টোন। দুই তারকার হাত থেকে তখন বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারির ঝলক। ৭ বলে ১৯ করে লিভিংস্টোন ফেরেন। শেষপর্যন্ত প়ঞ্জাব কিংস করে ১৮৭। আর শিখর ধওয়ান একাই করেছেন ৫৯ বলে ৮৮। দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসাবে এদিনই আইপিএলে ৬০০০ রান সম্পূর্ণ করেন গব্বর।

ওয়াংখেড়ে বরাবরই ব্যাটার সহায়ক পিচ। তবুও ১৮৮ রান তাড়া করে জেতার কাজটাও কঠিন নয়। চেন্নাই অবশ্য এদিন হার না মানা মানসিকতা নিয়েই নেমেছিল। যদিও ৪০ রানে মধ্যে ৩ উইকেট খুইয়ে চাপেই পড়ে গিয়েছিল তারা। এদিন ওপেনিংয়ে রুতুরাজ গায়কোয়াড় ভাল খেললেও ৩০ রানে থামতে হয় তাঁকে। ৮৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চেন্নাই তখন অনেকটাই ব্যাকফুটে। দলকে সামাল দেওয়ার কাজটা সেই থেকেই শুরু করেন অম্বাতি রায়াডু।


https://twitter.com/rpsingh/status/1518651851423453185

আর সময় যত এগোতে থাকে, ততই যেন ভয়ঙ্কর হতে থাকেন তিনি। ম্যাচের ১৬ ও ১৭, এই দুই ওভারেই যেন ম্যাচের মোর ঘুরিয়ে দেন অম্বাতি রায়াডু। তাঁর পরপর ছয় ও চারে হঠাত্ই যেন চেন্নাই সুপার কিংসের জয়ের আশা উজ্জ্বল হতে শুরু করেছে। ক্রিজে রায়াডুর সঙ্গে সেই সময় জাদেজা। কিন্তু ক্রিকেট সবসময়ই অনিশ্চয়তার খেলা। আর রাবাডার ওভারটাই যেন ম্যাচের ক্লাইম্যাক্সটা আরও জমিয়ে দেয়। ৭টি চার ও ৬টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে সাজানো ৭৮ রানের ঝোরো ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরতে হয় রাাডুকে। ক্রিজে ফের মহেন্দ্র সিং ধোনি।

আইপিএলের মঞ্চে দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসাবে ৬০০০ রান করলেন শিখর ধওয়ান

গতম্যাচেও এমনই এক পরিস্থিতি থেকে দলকে জিতিয়েছিলেন ধোনি। তাঁর দিকেই এদিন তাকিয়েছিল সকলে। কিন্তু অর্শদীপের ১৯ নম্বর ওভারটাই যেন ম্যাচের প্রধান টার্নিং পয়েন্ট এদিন। শেষ ওভারে তখন বাকি ২৮ রান। ধোনি ব্যাটিং করছেন। প্রথম বলে ছয় হাকালেও, এদিন আর পারলেন না তিনি। ঋষি ধওয়ানের বলে ধোনি আউট হতেই, পঞ্জাব শিবিরে জয়ের উচ্ছ্বাস শুরু।

close whatsapp