আসন্ন এশিয়া কাপ ও টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব অল হাসান

Shakib Al Hasan
Shakib Al Hasan. (Photo Source: Twitter/T20 World Cup)

এশিয়া কাপ শুরু হওয়ার আগে আশার আলো বাংলাদেশ শিবিরে। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন এশিয়া কাপ ও টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত বাংলাদেশের অধিনায়কের দায়িত্ব উঠল সাকিব অল হাসানের ওপর। কয়েকদিন আগেই সাকিব আল হাসানকে বাংলাদেশ দলে রাখা নিয়ে শুরু হয়েছেন জোর জল্পনা। এক বেটিং সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার জেরেই সেই সমস্যার সূত্রপাত হয়েছিল। তাদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পর শুধু দলে ফেরাই নয় একেবারে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্যন্ত সাকিব আল হাসানের কাঁধে অঝধিনায়কের দায়িত্ব তুলে দিল বিসিবি। তাঁকে অধিনায়ক ঘোষণা করার সঙ্গে ১৭ সদস্যের দলও ঘোষণা করল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

জিম্বাবোয়ে সফরের পর থেকেই বাংসাদেশের টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল নিয়ে শুরু হয়েছিল জল্পনা। চোট আঘাতের জেরে বাংলাদেশ শিবিরের একাধিক ক্রিকেটার মাঠের বাইরে রয়েছেন। সেজন্যই দল গঠনের ক্ষেত্রে খানিকটা বেশী সময় দেওয়া হয়েছিল।  সেই পরিস্থিতিতেই শুরু হয়েছিল সাকিব আল হাসানকে ঘিরে আরেক নতুন সমস্যা। এক বেটিং সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সাকিব আল হাসান। আর তাতেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা।

সেই সংস্থার সঙ্গে সাকিব যদি সম্পর্ক ছিন্ন করে না বেড়িয়ে আসেন, তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের সঙ্গে তাঁর যে কোনও সম্পর্ক থাকবে না তা বলতেও দ্বিধা করেননি তিনি। এমনকী সামনে থাকা এশিয়া কাপেও যে সাকিব অল হাসানের খেলতে নামবেন নাসেই কথাও সাফ জানিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের তরফে। অবশেষ বিতর্ক থেমেছে। সেই বেটিং সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার কথা জানিয়েই বিসিবিকে চিঠি দিয়েছিল। এরপরই সাকিব আল হাসানকে নিয়ে বৈঠকে বসেছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা। সেখানেই তাঁকে নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। সইসঙ্গেই এশিয়া কাপের দলও ঘোষণা করে দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।

সাকিব অল হাসানের নেতৃত্বে এখনও পর্যন্ত সাতটি টি টোয়েন্টি জিতেছে বাংলাদেশ

সাকিব অল হাসানকে অধিনায়ক নির্বাচিত করার পর বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান জালাল ইউনুস জানিয়েছেন, “সামনেই রয়েছে আমাদের এশিয়া কাপ। এরপরই রয়েছে নিউ জিল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমাদের বোর্ডে আগেই একটা সভা হয়েছিল, সেখানে একটি সিদ্ধান্তের জায়গা ছিল অধিনায়ক নির্বাচন। এদিন আমরা ফের একটি বৈঠকে বসেছিলাম, সেখানে নির্বাচক এবং বোর্ড কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানেই সাকিব অল হাসানকে অধিনায়ক হিসাবে ঘোষণা করছি”।

বাংলাদেশের ১৭ সদস্যের দল

সাকিব অল হাসান (অধিনায়ক), এনামুল হক, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, মোসাদ্দেক হোসেন, মাহমুদউল্লাহ, শেখ মেহেদি হাসান, মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন, হাসান মাহমুদ, মুস্তাফিজুর রহমান, নাসুম আহমেদ, সাব্বির রহমান, মেহেদী হাসান মিরাজ, ইবাদত হোসেন, পারভেজ হোসেন ইমন, নুরুল হাসান সোহান, তাসকিন আহমেদ।

বাংলাদেশের টেস্ট দলের নেতৃত্বের দায়িত্বে আগে থেকেই ছিলেন সাকিব অল হাসান। কিন্তু এরপরই ২০১৯ সালে তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। সেই সময়ই টি টোয়েন্টি দলের নেতৃত্বও ছে়়ে দিয়েছিলেন সাকিব। সাকিবের পরই বাংলাদেশের টি টোয়েন্টি দলের অধিমায়ক হয়েছিলেন মাহমুদুল্লাহ। কিন্তু অধিনায়ক হিসাবে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। একইসঙ্গে মাহমুদুল্লাহ ফর্মেও ছিলেন না।

জিম্বাবোয়ে সফরের আদেই তাঁর জায়গায়  বাংলাদেশ টি টোয়েন্টি দলের নেতৃত্ব পান নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু জিম্বাবোয়ে সফর চলাকালীনই আঙুলে বড়সড় চোট পান নুরুল হাসান। এরপরই সেই সিরিজ তো বটেই, এশিয়া কাপ থেকেও চিটকে গিয়েছেন তিনি। সেই থেকেই বাংলাদেশের অধিনায়ক কে হবেন তা নিয়ে শুরু হয়েছিল জল্পনা।

সমস্ত জল্পনার শেষে বাংলাদেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব উঠল সেই সাকিব অল হাসানের ওপরই। এখনও পর্যন্ত সব মিলিয়ে ২১টি টি টোয়েন্টিতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাকিব অল হাসান। তার মধ্যে ৭টি ম্যাচেই অবশ্য জয় এসেছে বাংলাদেশের। এশিয়া কাপে তারা সাকিবের হাত ধরে ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।

close whatsapp