রিয়ান পরাগের অর্ধশতরান ও অশ্বিন, কুলদীপদের দাপুটে বোলিংয়ে ধরাশায়ী বেঙ্গালুরুর চ্যালেঞ্জার্সরা

Rajasthan Royals vs Lucknow Super Giants
Rajasthan Royals vs Lucknow Super Giants. (Photo Source: IPL/BCCI)

রিয়াল পরাগের অর্ধশতরান ও অশ্বিনের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে কম রান নিয়েও রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ম্যাচ জিতে নিল রাজস্থান রয়্যালস। ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি রাজস্থানের বোলিও যে কোনও দলকে শেষ করে দিতে পারে, সেটা হয়ত এদিনই বুঝিয়ে দিল সঞ্জু স্যামসনের দল। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ২৯ রানে হারাল রাজস্থান রয়্যালস। টানা খারাপ পারফরম্যান্স দেখিয়ে এই ম্যাচেই রাজস্থানের জয়ের না.ক হয়ে উঠলেন রিয়ান পরাগ। ব্যাট হাতে যেমন দক্ষতা দেখালেন, তেমনই ফিল্ডিংয়েও নজর কাড়লেন অসমের এই তরুণ ক্রিকেটার।

লো স্কোরিং ম্যাচ। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামনে লক্ষ্য ছিল মাত্র ১৪৫ রান। এমন ম্যাচ জিততে হলে প্রয়োজন দুর্ধর্ষ একটা বোলিং পারফরম্যান্স। সেটাই করে দেখালেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, কুলদীপ সেন এবং প্রসিদ্ধ কৃষ্ণারা। শুরু থেকেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ছিল চাপ তৈরির কৌশল। আর  সেই ফাঁদে পড়েই একে একে এদিন বেঙ্গালুরুর তাবড় তাবড় ব্যাটাররা সাজঘরের দিকে ফিরে যান। অশ্বিন ও কুলদীপের ৩ উইকেটই শেষ করে দেয় এদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে।

রিয়ান পরাগ ও কুলদীপ সেনের দাপটে শেষ রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি। পিচে এদিন প্রথম থেকেই ছিল বোলারদের জন্য সুবিধা। আর সেটাই শুরু থেকে কাজে লাগিয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজরা। প্রথম থেকেই আরসিবি বোলারদের লক্ষ্য ছিল এদিন জস বাটলার। তাঁর ঝড় উঠলে যে তা থামানো অসম্ভব তা সকলেরই জানা ছিল।  যদিও বাটলার এদিন পারেননি। তাঁকে জস হেজেলউড মাত্র ৮ রানেই সাজঘরে ফিরিয়ে দেন।

দলের রান এগনোর দায়িত্ব নিয়ে সঞ্জু স্যামসন আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করলেও, তাঁকে থামতে হয় ২৭ রানে। সেই সময় রাজস্থান রয়্যালসের রান ৪ উইকেটে ৬৮। টানা খারাপ পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন রিয়ান পরাগ। এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁর দিকেই এদিন তাকিয়ে ছিলেন সকলে। এই ম্যাচটাই বোধহয় এদিন আইপিএলে তাঁর ভাগ্য নির্ধারণেরও ম্যাচ ছিল। আর সেখানেই ব্যাট হাতে সফল রিয়ান পরাগ। কঠিন পরিস্থিতিতে রাজস্থান শিবিরের ত্রাতা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন এই তরুণ ক্রিকেটার রিয়ান পরাগ।

বেঙ্গালুরুর বোলারদের বিরুদ্ধে দাপুটে ব্যাটিং প্রদর্শন করেন তিনি। তাঁর ৫৬ লরানের সৌজন্যেই কোনওরকমে রাজস্থান রয়্যাবলস ১৪৪ রানে  পৌঁছতে পেরেছিল। রিয়ান পরাগের গোটা ইনিংসে ছিল ৩টি চার ও ৪টি ওভার বাউন্ডারি। যদিও এই লক্ষ্যটা কিন্তু টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে খুব একটা কঠিন ছিল না।

১২ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষে পৌঁছল রাজস্থান রয়্যালস

বিশেষকরে যে দলে বিরাট কোহলি, ম্যাক্সওয়েল, ডুপ্লেসি এবং দীনেশ কার্তিকের মতো তারকারা রয়েছেন। কিন্তু এদিন শুরু থেকেই যথেষ্ট হিসাবী বোলিং ছিল রাজস্থান বোলারদের। ওপেনিংয়ে ডুপ্লেসির সঙ্গে এদিন এসেছিলেন বিরাট কোহলি। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার বলে ৯ রানেই সাজঘরে ফেরেন তিনি। কিন্তু রাজস্থান রয়্যালসের দখলে এদিন ম্যাচ এনে দেন তরুন কুলদীপ সেন। ফাফ ডুপ্লেসি এবং গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো তারকাদের সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন তিনি। ৩৭ রানে মধ্যে তিন উইকেট খুইয়ে এমনিতেই চাপে পড়ে গিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

সেই পরিস্থিতিতে তাদের চাপও আরও বাড়িয়ে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। পাতিদার ও প্রভুদেশাইকে তুলে নেন তিনি। যদিও তখনও পর্যন্ত ম্যাচ যে রাজস্থান জিতে গিয়েছে তা বলা যায় না। কারণ ক্রিজে ছিলেন এবারের আইপিএলের সবচেয়ে ভাল ফিনিসার দীনেশ কার্তিক। কিন্তু চাহালের কাছে ব্যর্থ হন তিনি। নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে কার্তিক সাজঘরে ফিরতেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হার নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। মাত্র ১৪৪ রান করেও বোলারদের দক্ষতায় ম্যাচ জিতে লিগ টেবিলে শীর্ষে পৌঁছে গেল রাজস্থান রয়্যালস।

close whatsapp