এজবাস্টনে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাটারদের আক্রমণাত্মক খেলার বার্তা জেমস অ্যান্ডারসনের
আপডেট করা - Jul 3, 2022 1:45 pm

এজবাস্টন ব্রিটিশদের দূর্ভেদ্য দূর্গ। এখনও পর্যন্ত এখানে ভারতের কাছে একটিও টেস্টে হারেনি ইংল্যান্ড। ২০২২ সালে সেই ধারাই বদলাতে মরিয়া হয়ে রয়েছে ভারতীয় দল। এজবাস্টন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের থেকে অনেকটাই পিছিয়ে পড়েছে ব্রিটিশ বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে ভেঙে পড়া নয়, সেই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়নোই এখন প্রধান লক্ষ্য থ্রি লায়ন্সদের। পাঁচ উইকেট হারিয়ে পিছিয়ে পড়লেও, ব্যাটারদের ওপুর ভরসা রাখছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ভারতের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলারই বার্তা দিচ্ছেন এখন অ্যান্ডারসন।
প্রথম দিনের একটি মাত্র সেশনই ইংল্যান্ডের দখলে ছিল। এরপর থেকেই এজবাস্টনে ধীরে ধীরে বদলাতে শুরু করেছিল ম্যাচের চিত্রটা। ঋষভ পন্থ এবং রবীন্দ্র জাদেজার পার্টনারশিপটাই ম্যাচের মোর ঘুরিয়ে দিয়েছিল। যে ব্রিটিশ বোলাররা ভারতী দলের টপ অর্ডার থেকে মিডল অর্ডারকে একেবারে ধসিয়ে দিয়েছিলেন। সেই তারকা বোলারদের ওপরই ধীরে ধীরে দাপট দেখানো শুরু করেছিলেন জাদেজা এবং ঋষভ পন্থ।
প্রথম দিনে দুই তারকা ক্রিকেটারের ২২২ রানের পার্টনারশিপেই ভারতীয় দলের বড় রানের ভিতটা মজবুত হয়ে গিয়েছিল। এরকপর দ্বিতীয় দিনটা ছিল জাদেজা এবং জসপ্রীত বুমরার। ঋষভ পন্থের পর চতুর্থ ক্রিকেটার হিসাবে এদিন এজবাস্টনে সেঞ্চুরী পেয়েছিলেন তিনি। সেই সময়ই কার্যত ভারত অনেকটা এগিয়ে গিয়েছিল। যদিও তাঁকে আউট করেই টেস্টে ৫৫০ উইকেটের মালিক হয়ে যান স্টুয়ার্ট ব্রড। কিন্তু এররই জসপ্রীত বুমরার সেই ইনিংস ব্রডের কেরিয়ারে ফের এক ছাপ ফেলে।
দ্বিতীয় দিনই ৮৪ রানের মধ্যেই পাঁচ উইকেট খুইয়েছে ইংল্যান্ড
টেস্টের মঞ্চে এক ওভারে সর্বোচ্চ রান দেওয়ার রেকর্ড গড়েন স্টুয়ার্ট ব্রড। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারত থেমেছিল ৪১৬ রানে। সেই জবাবে ব্যাট করতে নেমে নিজেদের মাঠেই এখন ব্যাকফুটে রয়েছে ইংল্যান্ড। জসপ্রীত বূুমরার ধাক্কায় তারা রীতিমত বেসামাল হয়ে রয়েছে। যদিও এই জায়গা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যপারে আশাবাদী অ্যান্ডারসন। তাঁর মতে সেই পুরনো কথা। অফেন্স ইজ দ্য বেস্ট ওয়ে টু ডিফেন্স। অর্থাত্ ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ব্যাটার থেকে আক্রমণাত্মক ইনিংসেরই বার্তা এই তারকা ক্রিকেটারের।
তিনি জানিয়েছেন, “আমার মনে হয় ভারতের বিরুদ্ধে আমাদের ডিফেন্সের সবচেয়ে ভাল রাস্তা হল আক্রমণ। আমাদের ব্যাটাররা সকলেই বেশ আক্রমণাত্মক । আমাদের খেলায় ফেরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের ওপর ফের চাপ বাড়ানোটাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য। এই গ্রীষ্মের আগেও আমরা এমন এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলাম”।
ভা্রতের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ড যখন প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল, সেই সময় বল হাতে ভয়ঙ্কর মেজাজে ছিলেন জসপ্রীত বুমরাহ। ইংল্যান্ডের টপ অর্ডারকে ৪৪ রানের মধ্যে একাই সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন তিনি। প্রথম তিন উইকেটই তুলে নেন বুমরাহ। জো রুট ক্রিজে থাকলেও, তাঁকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে আরও স্বস্তি ফেরান মহম্মদ সিরাজ। এরপর জ্যাক লিচকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ সামি। ৫ উইকেট খুইয়ে এখন অনেকটাই চাপে রয়েছে ইংল্যান্ড। তৃতীয় দিন তারা কোনও চমক দেখাতে পারে কিনা সেটাই এখন দেখার।