চতুর্থ রাউন্ডে দীপক চাহার ১৪ কোটি টাকা পেয়ে সাড়া জাগালেন, ফিরলেন ধোনির ছত্রচ্ছায়াতেই
শার্দূল, প্রসিধ, ফার্গুসনও ১০ কোটি বা তার বেশী পেলেন
আপডেট করা - Feb 12, 2022 6:48 pm

ভারতীয় পেসারদের সংখ্যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের জন্য বেশী না থাকায় প্রত্যাশিত ছিল পেসারদের প্রথম তালিকায় থাকা ভারতীয়দের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিরা প্রবল আগ্রহ নিয়ে ঝাঁপাবে। নিলামের এই তালিকা থেকে পেসারদের মধ্যে প্রথম নাম আসা নটরাজনকে আবার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ। গুজরাত টাইটান্সের আগ্রহ থাকলেও শেষ অবধি ৪ কোটিতে এসআরএইচ তাঁকে পেয়ে যায়।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশী টানাটানি হয় দীপক চাহারের জন্য। শুরুতে দিল্লী ক্যাপিটালস ও সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ লড়াইয়ে ছিল। এই দুই দলের টানাটানিতে অচিরেই চাহারের দর ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। এরপর নাটকীয়ভাবে চাহারের জন্য দর হাঁকতে শুরু করে তাঁর প্রাক্তন আইপিএল দল চেন্নাই সুপার কিংস। ১০ কোটি অবধি চুপ করে থাকা সিএসকে দিল্লী ক্যাপিটালসের সাথে লড়তে থাকে। দর যখন ১৩ কোটি ছাড়িয়েছে তখন দিল্লী সরে যায় এবং আগ্রহ দেখানো শুরু করে রাজস্থান রয়্যালস। যদিও সিএসকে তাদের লক্ষ্যে অবিচল ছিল এবং ১৪ কোটি টাকার বিনিময়ে আবার চাহারকে দলে ফেরাতে সক্ষম হয়।
সম্প্রতি ভারতীয় দলের হয়ে দুরন্ত ফর্মে থাকা এবং সদ্য সমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে ম্যান অফ দ্য সিরিজ হওয়া প্রসিধ কৃষ্ণর জন্য রয়্যালস ও সুপার জায়ান্টস লড়াই করছিল। সাড়ে ৫ কোটি দর ছাড়াতেই গুজরাত টাইটান্স আগ্রহ দেখায়। যদিও তাদের আগ্রহ বেশীক্ষণ ছিল না। লড়াই আবার রয়্যালস ও সুপার জায়ান্টসের মধ্যে শুরু হয়। অবশেষে ১০ কোটি টাকা দিয়ে তাঁকে কেনে আরআর।
নিউজিল্যান্ডের পেসার লকি ফার্গুসন এই তালিকার তৃতীয় পেসার হিসেবে ১০ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। দিল্লী ক্যাপিটালস ও গুজরাত টাইটান্সের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলতে থাকে এবং নিমেষে তাঁর দর ৬ কোটি টাকা পার হয়ে যায়। ৭ কোটি টাকা দরে আরসিবি তাদের আগ্রহ প্রকাশ করে। যদিও টাইটান্সের আক্রমণাত্মক বিডিংয়ের সামনে কোন দল টিকতে পারে না এবং তারা ১০ কোটি দিয়ে ফার্গুসনকে দলে অন্তর্ভুক্ত করে।
আগ্রহ কম স্পিনারদেরকে নিয়ে
হ্যাজলউডের জন্য শুরুতে চেন্নাই দর ডাকা শুরু করেছিল লখনউ সুপার জায়ান্টসের সঙ্গে। ৩ কোটি পেরোতেই চেন্নাই সরে গিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করে দিল্লী ক্যাপিটালস। মাঝখানে মুম্বইও তাদের আগ্রহ জানায়, কিন্তু সমস্ত দাবিদারকে পিছনে ফেলে আরসিবি তাঁকে কিনে নেয়। মার্ক উডের জন্য ভালো লড়াই হয় দিল্লী ক্যাপিটালস ও লখনউ সুপার জায়ান্টসের মধ্যে। তাঁকে সাড়ে ৭ কোটি টাকায় লখনউ তুলে নেয়। ভুবনেশ্বর কুমারের জন্য বিশেষ চাহিদা ছিল না এবং তাঁকে তাঁর প্রাক্তন দল সানরাইজার্স ফিরিয়ে আনে ৪.২০ কোটি টাকার বিনিময়ে।
দিনের নবম খেলোয়াড় হিসেবে ১০ কোটি টাকার অর্থমূল্যে পোঁছন শার্দূল ঠাকুর। পাঞ্জাব কিংস তাঁর জন্য দর ডাকা শুরু করলেও, গুজরাত টাইটান্স ও দিল্লী ক্যাপিটালস অচিরেই নিজেদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে শুরু করে। দর যখন ৬ কোটি টাকা, তখন পাঞ্জাব আবার আগ্রহ প্রকাশ করে। সিএসকে সাময়িক আগ্রহ দেখালেও দিল্লী ও পাঞ্জাবের মধ্যে তীব্র লড়াই চলতে থাকে। শেষ হাসি হাসে দিল্লী, শার্দূলকে পায় ১০.৭৫ কোটি টাকায়। তালিকার শেষ পেসার মুস্তাফিজুরকে ২ কোটির ন্যূনতম মূল্যে কেনে দিল্লী।
স্পিনারদের নিলাম শুরুতে একেবারেই ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে আগ্রহের জন্ম দেয়নি। আদিল রশিদ, মুজিব উর রহমান ও ইমরান তাহির অবিক্রিত থাকেন। অ্যাডাম জাম্পাকেও কেউ কেনে না। ভারতীয় স্পিনারদের নিয়ে তাও কিছুটা আগ্রহ দেখা গেছে ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে। কুলদীপকে কেনে দিল্লী ২ কোটি টাকায়।
এরপর নিলামে ওঠেন রাহুল চাহার। তাঁর জন্য অনেক দল দর হাঁকা শুরু করে। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ ও দিল্লী ক্যাপিটালস লড়াইয়ে নামে প্রথমে। খানিক পরেই পাঞ্জাব কিংস ও রাজস্থান রয়্যালস উৎসাহী হয় চাহারের জন্য। মুম্বই এসে তাঁর দর ৩.৬০ কোটিতে নিয়ে যান। ৪ কোটি ৮০ লাখে পাঞ্জাবের কাছে যখন প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছেন চাহার, তখন রয়্যালস আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করে। যদিও ৫.২৫ কোটি টাকায় পাঞ্জাব তাঁকে কিনে নেয়।
যুজবেন্দ্র চাহালের জন্য দর ডাকা শুরু করে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স ও দিল্লী ক্যাপিটালস। মাঝে সানরাইজার্স এলেও বেশীক্ষণ আগ্রহ দেখায় না এবং ৬ কোটি দরে রাজস্থান প্রথম আগ্রহ দেখায় এবং সাড়ে ৬ কোটি টাকা দিয়ে তারাই কিনে নেয়। অমিত মিশ্র অবিক্রিত থাকেন।
চতুর্থ রাউন্ডে কোন পেসার কোন দলে
টি নটরাজন – সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ – ৪ কোটি টাকা
দীপক চাহার – চেন্নাই সুপার কিংস – ১৪ কোটি টাকা
উমেশ যাদব – অবিক্রিত
প্রসিধ কৃষ্ণ – রাজস্থান রয়্যালস – ১০ কোটি টাকা
লকি ফার্গুসন – গুজরাত টাইটান্স – ১০ কোটি টাকা
জশ হ্যাজলউড – রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর – ৭.৭৫ কোটি টাকা
মার্ক উড – লখনউ সুপার জায়ান্টস – ৭.৫০ কোটি টাকা
ভুবনেশ্বর কুমার – সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ – ৪.২০ কোটি টাকা
শার্দূল ঠাকুর – দিল্লী ক্যাপিটালস – ১০.৭৫ কোটি টাকা
মুস্তাফিজুর রহমান – দিল্লী ক্যাপিটালস – ২ কোটি টাকা
চতুর্থ রাউন্ডে কোন স্পিনার কোন দলে
আদিল রশিদ – অবিক্রিত
মুজিব উর রহমান – অবিক্রিত
ইমরান তাহির – অবিক্রিত
কুলদীপ যাদব – দিল্লী ক্যাপিটালস – ২ কোটি টাকা
অ্যাডাম জাম্পা – অবিক্রিত
রাহুল চাহার – পাঞ্জাব কিংস – ৫.২৫ কোটি টাকা
যুজবেন্দ্র চাহাল – রাজস্থান রয়্যালস – ৬.৫ কোটি টাকা
অমিত মিশ্র – অবিক্রিত