লোকেশ রাহুলের শতরানের ভারে ধরাশায়ী মুম্বই, হাফ ডজন ম্যাচ হারলেন রোহিত শর্মারা

KL Rahul
KL Rahul. (Photo Source: IPL/BCCI)

লোকেশ রাহুলের বিধ্বংসী ইনিংসে ধরাশায়ী মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে হেরে এবারের আইপিএলে হাফডজন ম্যাচে হার পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন রোহিত শর্মাদের। ব্রেবোর্ণ স্টেডিয়ামে এদিন উঠল লোকেশ রাহুল ঝড়। আর ততেই রোহিত শর্মার সমস্ত আশা শেষ। লখনউ সুপার জায়ান্টসের কাছে রানে হেরে গেল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। আর সেইসঙ্গে এবারের আইপিএলের প্লে অফে যাওয়ার রাস্তাও প্রায় বন্ধ করে ফেললেন তারা। বড়সড় মিরাকেল হলেই হয়ত প্লে অফে যাবে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।

এবারের াইপিএলে প্রথম ম্যাচ হারলেও, এরপর থেকেই দুরন্ত পারফর্ম্যান্স প্রদর্শন করেছে লখনউ সুপার জাটান্টস। যদিও লখনউ অধিনায়ক লোকেশ রাহুল সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি সেভাবে। অপেক্ষায় ছিলেন একটা সুযোগের। রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধেই  পুরনো ফর্মে ফিরলেন লোকেশ রাহুল। মুম্বই বোলারদের ওপর টানা দেড় ঘন্টার নির্মম অত্যাচার চালালেন তিনি। কেরিয়ারের শততম ম্যাচে সেঞ্চুরী করে  রোহিতের মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে লখনউয়ের জয়ের নায়ক এদিন তিনিই।

আইপিএলের মঞ্চে টানা ছয় ম্যাচে হারের রেকর্ড গড়ল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স

টস জিতে এদিনও মুম্বই ইন্ডিয়ান্স প্রথম বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। আর প্রথমে ব্যাটিং করার সুযোগটাও পুরোদস্তুর কাজে লাগিয়েছিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। ম্যাচের শুরু থেকেই এদিন বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন লোকেশ রাহুল। আর তাঁর হাত ধরেই যেন জয়ের ভিতটা এদিন মজবুত করে ফেলেছেল লখনউ সুপার জায়ান্টস।  কুইন্টন ডিকক এদিন সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। যদিও লোকেশ রাহুলের কাওকেই সেভাবে লাগেনি। মুম্বই বোলারদের বিরুদ্ধে তিনি একাই খেলে গিয়েছেন।

তাঁর ৫৬ বলে ১০০ রানের ইনিংসেই লখনউয়ের জয়ের রাস্তাটা পাকা হয়ে গিয়েছিল । ক্রিজে কখনও মনীশ পান্ডে তো কখন মার্কাস স্টয়নিস এবং দীপক হুডারা লোকেশ রাহুলকে সঙ্গ দেন। তাঁকে আউট করে সাজঘরে ফেরানোর সাধ্য এদিন কোনও মুম্বই বোলারের মধ্যেই ছিল না। ৬০ বলে ১০৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেছেন তিনি।  তাঁর গোটা ইনিংসটি সাজানো রয়েছে ৯টি চার ও পাঁচটি ছয় দিয়ে। অপরাজিত থাকেন তিনি শেষ পর্যন্ত। একাধিক রেকর্ড গড়ে লোকেশ রাহুল  যখন মাঠ ছাড়েন তখন লখনউ সুপার জায়ান্টসের রান ১৯৯।
https://twitter.com/LucknowIPL/status/1515332083584958465

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সামনে আবারও একটা রানের পাহাড় তখন। এমন মঞ্চে জিততে হলে রোহিত শর্মার ব্যাট চলা যে সবচেয়ে বেশী জরুরী  তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু রোহিত শর্মা যেন এবার শুরু থেকেই বড্ড বেশী নিস্প্রভ। এদিনও নেমেই ৬ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ইশান কিষাণ ব্যার্থ হয়ে মাঠ ছাড়েন ১৩ রানে। ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এদিনও একটা চেষ্টা করলেও ১৩ বলে ৩১ রান খেলেই ফিরে যেতে হয় দক্ষিণ আফ্রিকার এই তরুণ তারকাকে।

ব্যাট হাতে লোকেশ রাহুল যেমন এদিন দাপট দেখিয়েছেন, তেমনই বল হাতে বাকি কাজটা এদিন শেষ করেঠেন আভেশ খান। ৩০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। রোহিত শর্মা, ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এবং ফ্যাবিয়ান অ্যালেনকে সাজঘরে ফেরেন আভেশ খান। সূর্যকুমার যাদব এদিনও একটা লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু লখনউয়ের বিরুদ্ধে জেতার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। ১৮১ রানেই থামতে হয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে।

close whatsapp