লোকেশ রাহুলের লড়াইয়ের সম্মান রাখলেন পান্ডিয়া, হোল্ডাররা, মুম্বইকে ৩৬ রানে হারাল লখনউ

Lucknow Super Giants
Lucknow Super Giants. (Photo Source: IPL/BCCI)

লোকেশ রাহুলের একার লড়াইয়ের যোগ্য সম্মান দিলেন লখনউ সুপা জায়ান্টস বোলাররা। ওয়াংখেড়েতেও জিততে পারলনা মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। রোহিত শর্মার নায়ক হয়ে ওঠার মঞ্চে নায়ক হয়ে উঠলেন লোকেশ রাহুলের। ওয়াংখেড়েতে এদিন লখনউয়ের বাকি ব্যাটাররা ব্যর্থ হলেন ঠিকই।  কিন্তু লোকেশ রাহুলকে আটকানোর কোনও অস্ত্র এদিন ছিল না রোহিত শর্মার কাছে। আর লোকেশ রাহুলের বিধ্বংসী ইনিংসেই রোহিতের প্রথম জয়ের আশাটা ঘরের মাঠেও অধরাই রয়ে গেল তাদের। ৩৬ রানে মুম্বইকে হারাল লখনউ সুপার জায়ান্টস।

এবারের আইপিএলে ভারতীয় ক্রিকেটারদের মধ্যে লোকেশ রাহুল যেন সবচেয়ে ধারাবাহিক ফর্মের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন। শুরু থেকেই তাঁর ব্যাটে এবার বড় রানের ঝলক। আর মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে তিনি যেন আরও বেশী ভয়ঙ্কর। ব্রেব্রোর্ণের পর ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেও রোহিতের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ালেন সেই লোকেশ রাহুল। চলতি আইপিএলে জোড়া শতরানের মালিক লোকেশ রাহুল। আর দুটো শতরানই এল সেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধেই। এদিন মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে লোকেশ রাহুলের ৬২ বলে ১০৩ রানের ইনিংসটাই যেন লখনউয়ের জয়ের ভিতটা গড়ে দিয়ে এসেছিল।

আইপিএলে এই নিয়ে টানা আট ম্যাচ হারল মুম্বি ইন্ডিয়ান্স

যদিও মুম্বইয়ের তিলক বর্মা এবং কায়রণ পোলার্ড শেষপর্যন্ত একটা চেষ্টা চালালেও শেষরক্ষা করতে পারল না। ওয়াংখে়ড়েতে এবারের আইপিএলের অষ্টম হারের স্বাক্ষী রইল রোহিত শর্মারা। টস জিতে এদিন রোহিত শর্মা প্রথম বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শুরু থেকে বুমরাহ, উনাদকাট এবং পোলার্ডরা শুরুটা করেছিলেনও ভাল। কিন্তু একা লোকেশ রাহুলই যেন গোটি চিত্রটা এদিন বদলে দিয়েছিলেন। ম্যাচের শুরুতেই ১০ রানে সাজঘরে ফেরেন কুইন্টন ডিকক।

ব্যাট হাতে চূড়ান্ত ব্যর্থ এদিন মার্কাস স্টয়নিস এবং ক্রুণাল পান্ডিয়া। কিন্তু একা ক্রিজে টিকে ছিলেন এদিন লোকেশ রাহুল। তাঁকে সাজঘরে ফেরাতে ব্যর্থই হয় এদিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স বোলাররা। অধিনায়কের মতোই দলকে একা টেনে নিয়ে গেলেন তিনি। মুম্বই একের পর এক উইকেট তুলে নিয়ে যত চাপ দেওয়া শুরু করে, ততই যেন শক্তিশালী হতে শুরু করেন লোকেশ রাহুল। শেষপর্যন্ত এদিন ক্রিজে টিকে রইলেন তিনি। আর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত আয়ূশ বাদোনিরও। লোকেশ রাহুলের ১০৩ রানে ভর করে শেষ পর্যন্ত লখনউ সুপার জায়ান্টস পৌঁছয় ১৬৮ রানে। তাঁর গোটা ইনিংসে রয়েছে ১২টি বউন্ডারি এবং ৪টি ওভার বাউন্ডারি।

আইপিএলের ইতিহাসে ওয়াংখেড়ে হল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সবচেয়ে পয়া মাঠ। আর সেখানে জয়ের লক্ষ্যটাও খুব একটা বড় নয়। ব্যাট হাতে টানা ব্যর্থ রোহিত শর্মা। এদিন দলকে জেতানোর দায়িত্বটা নিজের কাঁধেই তুলে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। বহুদিন পর ফের ক্রিকেটের বাইশগজে রোহিত শর্মাকে সেই পুরনো ছন্দে দেখা যাচ্ছিল। কিন্তু ব্যর্থ ইশান কিষাণ। অবিশ্বাস্য ক্যাচ আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি। এরপর ডেওয়াল্ড ব্রেভিস এসেই মহসিন খানের বলে ৩ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। যদিও ক্রিজে রোহিতকে দেখে আশায় ছিলেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স সমর্থকরা।

আইপিএলের মঞ্চে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শতরানের রেকর্ড লোকেশ রাহুলের

কিন্তু ৩৯ রানেই থামতে হয় রোহিত শর্মাকেও। সেইসময় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের রান ৩ উইকেটে ৫৮। একইসঙ্গে মুম্বইয়ের হারের সময়ও সামনে। যে সূর্যকুমার যাদব প্রতিদিন মুম্বইয়ের মিডল অর্ডার সামলেছেন, সেই সূর্যকেও এদিন সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন আয়ূষ বাদোনি। আর সেইসঙ্গেই লখনউ সুপার জায়ান্টসের জয়টা তন সময়ের অপেক্ষা।

তিলক বর্মা এবং কায়রণ পোলার্ড শেষপর্যন্ত একটা চেষ্টা চালিয়েছিলেন ঠিকই কিন্তু লোকেশের দক্ষ নেতৃত্ব এবং হোল্ডার, মহসিন খান এবং ক্রুণালদের দাপটে জয় আসে লখনউয়ের জায়ান্টদের পক্ষেই। প্রাক্তন অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে ফেরান ক্রুণাল পান্ডিয়া। একইসঙ্গে কায়রণ পোলার্ডও তাঁরই শিকার।

close whatsapp