ফাইনালের মঞ্চে রশিদের বিরদ্ধে জস বাটলারকে অতি সাবধানী হওয়ার পরামর্শ সঞ্জয় মঞ্জরেকরের
আপডেট করা - May 29, 2022 5:54 pm

আর কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা। এরপরই আইপিএলের মঞ্চে মেগা ফাইনাল। একদলের সামনে অভিষেকেই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতিহাস গড়ার হাতছানি। অন্যদিকে রাজস্থান রয়্যালসের সামনে ১৪ বরের খরা কাটিয়ে দ্বিতীয়বার ট্রফি হাতে নেওয়ার সুযোগ। সেই ম্যাচে নামার আগেই রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান অস্ত্র জস বাটলারের উদ্দেশ্যে বিশে, পরামর্শ দিলেন প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার সঞ্জয় মঞ্জরেকর। প্রতিপক্ষ শিবিরে থাকা রশিদ খানের বিরুদ্ধে অতি সাবধানী হয়ে খেলার পরামর্শ দিচ্ছেন মঞ্জরেকর।
এবারের আইপিএলের শুরু থেকেই রাজস্থান রয়্যালসের প্রধান অস্ত্র জস বাটলার। তাঁর একের পর এক বিধ্বংসী ইনিংসে শেষ হয়ে গিয়েছে প্রতিপক্ষ শিবিরের বোলাররা। এমন রাজস্থানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারেও এই জস বাটলারই ছিল জয়ের নায়ক। এই ব্রিটিশ তারকার ওপর যে রাজস্থান শিবিরের সাফল্যের বেশীরভাগটাই নির্ভর করে তা বুঝতে কারোরই অসুবিধা নেই। আর সেজন্যই রশিদ খানের তো বোলাররে একটু এড়িয়ে যাওয়ারই পরামর্শ দিচ্ছেন সঞ্জয় মঞ্জরেকর।
তাঁর মতে রশিদ খানের স্টাম্পের সোজাসুজি বোলিং করার দক্ষতা রয়েছে। সেইসঙ্গে তাঁর নিশিনা লক্ষ্য করে নিখুঁত বোলিং তাবড় তাবড় ব্যাটারদেরই সমস্যায় ফেলেছে। এই ম্যাচে বাটলারকে সাজঘরে ফেরানোর জন্য যে সেই অস্ত্রকে ব্যবহার করবে গুজরাত টাইটান্স, তা বেশ স্পষ্ট। প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই বাটলারকে ফেরানোর জন্য তাঁকে বোলিংয়েও নিয়ে আসা হতে পারে বলে মনে করেন সঞ্জয় মঞ্জরেকর। সেজন্যই ফাইনালের মঞ্চে নামার আগে বারবার বাটলারকে অতি সাবধানী হয়ে খেলারই পরামর্শ দিচ্ছেন তিনি।
৮২৪ রান করে এবারের আইপিএলে অরেঞ্জ ক্যাপ পাকা করে ফেলেছেন জস বাটলার
ইএসপিএন ক্রিকইনফো-কে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে সঞ্জয় মঞ্জরেকর জানিয়েছেন, “আমার মনে হয় গুজরাত টাইটান্স প্রথম ছয় ওভারের মধ্যেই রশিদ খানকে ব্যাবহার করতে চাইবে। কারণ তিনি স্টাম্প টু স্টাম্প বোলিং করতে পারেন। আর সেই লাইন এবং লেন্থে জস বাটলার খানিকটা হলেও সমস্যা পড়তে পারেন। কারণ রশিদের বল একেবারে স্টাম্পের নিশানায় থাকে। রশিদকে এড়িয়ে অন্যান্য বোলারদেরই লক্ষ্য করা উচিত্ তাদের। আর হার্দিক যদি বোলাং না করেন, তবে আরও কিছু বোলারকে টার্গেট করার সুবিধা পেয়ে যাবেন রাজস্থান রয়্যালস ব্যাটাররা”।
এবারের আইপিএলে জস বাটলারের ব্যাট থেকে শুধুই রানের ঝড় দেখা গিয়েছে। ইতিমধ্যেই আইপিএলে ৮২৪ রান করে অরেঞ্জ ক্যাপ পাকা করে ফেলেছেন তিনি। সেইসঙ্গে গোটা আইপিএলে চারটি সেঞ্চুরী করে বিরাট কোহলির রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলেছেন। ফাইনালের মঞ্চে বাটলার যদি ফের একটা সেঞ্চুরী করতে পারেন তবে নতুন রেকর্ডের মালিক হবেন তিনি। রাজস্থানের রয়্যালসের সাফল্যের কান্ডারীই এবার জস বাটলার। অন্যদিকে রশিদ খানেরও ইকনমি রেট দেখার মতো। গোটা প্রতিযোগিতায় ১৫ ম্যাচে ১৮ উইকেট নিলেও, তাঁর ঈর্ষনীয় ইকনমি রয়েছে ৬.৭৪।
সেই ক্রিকেটার যদি ফাইনালের মঞ্চে ব্যর্থ হয় তবে যে প্রতিপক্ষ শুরুতেই অ্যাডভান্টেজে পৌঁছে যাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এখন শুধুই ফাইনাল শুুরু হওয়ার অপেক্ষা। সেখানে বাটলারের ব্যাট থেকে রানের ঝড় নাকি রশিদের স্পিনের জাদু দেখা যায়, তারই অপেক্ষায় সকলে।