মার্কি তারকাদের মধ্যে নজর কাড়লেন শ্রেয়াস আইয়ার, কেকেআর কিনল ১২.২৫ কোটি টাকায়
দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দাম পেলেন কাগিসো রাবাডা
আপডেট করা - Feb 12, 2022 1:24 pm

মোট দশজন ক্রিকেটারকে রাখা হয়েছিল মার্কি খেলোয়াড়দের তালিকায়। এই তালিকায় এমন ক্রিকেটারদেরকেই রাখা হয়েছিল যাঁরা এর আগে আইপিএলে বেশ কয়েক বছর খেলেছেন এবং নিজগুণে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তারকা হিসেবে স্বীকৃতি পান। প্রত্যেকেরই ন্যূনতম মূল্য ধার্য করা হয়েছিল ২ কোটি টাকা। তালিকায় যে দশজন ক্রিকেটার ছিলেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন, ট্রেন্ট বোল্ট, প্যাট কামিন্স, শিখর ধাওয়ান, কুইন্টন ডি কক, ফাফ ডু প্লেসি, শ্রেয়াস আইয়ার, কাগিসো রাবাডা, মহম্মদ শামি, ডেভিড ওয়ার্নার।
এই তালিকায় প্রথমেই নাম উঠেছিল শিখর ধাওয়ানের। রাজস্থান রয়্যালস তাঁর জন্য প্রথম দর হাঁকে। তাঁর পুরনো দল দিল্লী ক্যাপিটালসও তাঁর জন্য দর দিতে শুরু করে। শুরুতে মন্থর বিডিং হলেও তাঁর দর নিমেষে অনেকটা বেড়ে যায়। ৫ কোটির পর পাঞ্জাব কিংসও লড়াইয়ে নামে। শেষ অবধি ৮.২৫ কোটি টাকায় শিখর ধাওয়ানকে কেনে পাঞ্জাব কিংস।
এরপর রবিচন্দ্রন অশ্বিনের নাম ওঠে নিলামের জন্য। তাঁর জন্য দিল্লী ক্যাপিটালস ও রাজস্থান রয়্যালস দর ডাকা শুরু করে। ক্যাপিটালস বেশ কিছুক্ষণ তাদের দলে খেলে যাওয়া অশ্বিনকে কিনতে চায়লেও একটা সময়ের পর তাঁর প্রতি উৎসাহ হারায় তারা। শেষ অবধি ৫ কোটি দিয়ে সঞ্জু স্যামসনের দলে যান অশ্বিন।
প্যাট কামিন্স নিলামে এরপর আসতেই কেকেআর আসরে নামে। তক্কে তক্কে থাকে গুজরাত টাইটান্সও। দুটি দলই মুহূর্মুহূ দর হাঁকতে থাকে। সাড়ে ৫ কোটি টাকায় টাইটান্স সরে দাঁড়ায়। তারপর লখনউ জায়ান্টস তাঁর জন্য আগ্রহ দেখায়। যদিও ৭ কোটির পর তারাও দর ডাকা থামিয়ে দেয়। শেষ অবধি ৭.২৫ কোটি টাকায় কেকেআর তাঁকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়।
দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কাগিসো রাবাডার জন্য দিল্লী ক্যাপিটালস ও গুজরাত টাইটান্স টানাটানি করতে থাকে। ৮ কোটির পর দিল্লী দর ডাকা থেকে সরে আসে। এরপর তাঁর জন্য আগ্রহ দেখানো শুরু করে পাঞ্জাব কিংস। টাইটান্স তারপরেও তাদের দর ডাকা জারী রাখে। যদিও পাঞ্জাবের আক্রমণাত্মক বিডিংয়ের সামনে শেষ অবধি টাইটান্স টিকতে পারে না। পাঞ্জাব তাঁকে কেনে ৯.২৫ কোটিতে।
ট্রেন্ট বোল্টের জন্য রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও রাজস্থান রয়্যালস দর ডাকতে থাকে। বিস্তর ভাবনাচিন্তা চলতে থাকে দুই দলের মধ্যেই। সাড়ে ৫ কোটি অবধি মুম্বই কোন দর ডাকেনি। কিন্তু তারপর তারা আসরে নামে। শেষ অবধি আট কোটি টাকা দিয়ে আরআর তাঁকে কিনে নেয়।
এই তালিকায় সবচেয়ে বেশী নজর কাড়েন শ্রেয়াস আইয়ার। তাঁর জন্য সবচেয়ে বেশী আগ্রহ দেখায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। যদিও দর ডাকা শুরু করেছিল আরসিবি। কিন্তু কেকেআরের দরের সামনে কোন দল টিকতে পারে না। আসরে ছিল দিল্লী ক্যাপিটালস ও লখনউ। কিন্তু দর ৬ কোটি টাকায় ঢুকতেই কেকেআর তাদের প্রথম দর ডাকে এবনহ তারপর তাদের দর ডাকার লক্ষন ডেখেই বোঝা যায় যে শ্রেয়াসকে তারা কোন মতেই হাতছাড়া করবে না। শেষ অবধি এই নিলামের প্রথম দশ কোটি দর পেরনো ক্রিকেটার হিসেবে শ্রেয়াসকে কেকেআর তোলে ১২.২৫ কোটি টাকায়।
মহম্মদ শামির জন্য কেকেআর প্রাথমিকভাবে আগ্রহ দেখালেও গুজরাত টাইটান্স নিলামে তাদের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে শামিকে কেনে ৬.২৫ কোটি টাকায়। দক্ষিণ আফ্রিকার ফাফ ডু প্লেসিকে চেন্নাই আবার ফিরিয়ে আনতে চায়লেও আরসিবির দরের সামনে তারা বেশীক্ষণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেনি। আরসিবি ৭ কোটি টাকায় কেনে ডু প্লেসিকে।
তাঁরই স্বদেশী ডি ককের জন্য নবাগত লখনউ সুপার জায়ান্টস সবচেয়ে বেশী আগ্রহ দেখালো। শুরুতে সিএসকে আগ্রহী হলেও ৪ কোটির পর তাঁর পুরনো দল মুম্বই আসরে নামে। যদিও শেষ অবধি কেএল রাহুলের দলেই গেলেন ডি কক। তালিকার শেষ খেলোয়াড় হিসেবে ওয়ার্নার নিলামে ওঠেন। তাঁর দরের শুরুটা মন্থর হলেও দিল্লী ও চেন্নাই একের পর এক দর ডাকতে থাকে। শেষে ওয়ার্নারের প্রথম আইপিএল দল দিল্লীই ৬.২৫ কোটি টাকায় তাঁকে কিনে নেয়।
কোন মার্কি ক্রিকেটার কোন দলে
শিখর ধাওয়ান – পাঞ্জাব কিংস – ৮.২৫ কোটি টাকা
রবিচন্দ্রন অশ্বিন – রাজস্থান রয়্যালস – ৫ কোটি টাকা
প্যাট কামিন্স – কলকাতা নাইট রাইডার্স – ৭.২৫ কোটি টাকা
কাগিসো রাবাডা – পাঞ্জাব কিংস – ৯.২৫ কোটি টাকা
ট্রেন্ট বোল্ট – রাজস্থান রয়্যালস – ৮ কোটি টাকা
শ্রেয়াস আইয়ার – কলকাতা নাইট রাইডার্স – ১২.২৫ কোটি টাকা
মহম্মদ শামি – গুজরাত টাইটান্স – ৬.২৫ কোটি টাকা
ফাফ ডু প্লেসি – রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর – ৭ কোটি টাকা
কুইন্টন ডি কক – লখনউ সুপার জায়ান্টস – ৬.৭৫ কোটি টাকা
ডেভিড ওয়ার্নার – দিল্লী ক্যাপিটালস – ৬.২৫ কোটি টাকা
অবশিষ্ট অর্থ
চেন্নাই সুপার কিংস – ৪৮ কোটি টাকা
দিল্লী ক্যাপিটালস – ৪১.২৫ কোটি টাকা
গুজরাত টাইটান্স – ৪৫.৭৫ কোটি টাকা
কলকাতা নাইট রাইডার্স – ২৮.৫ কোটি টাকা
লখনউ সুপার জায়ান্টস – ৫২.২৫ কোটি টাকা
মুম্বই ইন্ডিয়ান্স – ৪৮ কোটি টাকা
পাঞ্জাব কিংস – ৫৪.৫ কোটি টাকা
রাজস্থান রয়্যালস – ৪৯ কোটি টাকা
রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর – ৫০ কোটি টাকা
সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ – ৬৮ কোটি টাকা