এলগারের দাপটে পয়া জোহানেসবার্গেই ৭ উইকেটে হার ভারতের

Dean Elgar and Temba Bavuma
Dean Elgar and Temba Bavuma. (Photo Source: Getty Images)

ওয়ান্ডারার্সে কখনও দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টেস্ট হারেনি ভারত। সেই পয়া মাঠ ওয়ান্ডারার্সেই অঘটন। যেখানে ইতিহাস গড়ার সুযোগ ছিল ভারতের সামনে, সেই জোহানেসবার্গেই দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হেরে গেল টিম ইন্ডিয়া। বৃষ্টি বিঘ্নিত চতুর্থ দিনে দুরন্ত ব্যাটিং ডিন এলগারের। ওয়ান্ডারার্সের পিচে কোনওরকম দাগই কাটতে পারলেন না সামি, বুমরা, শার্দূলরা। প্রোটিয়াদের কাছে ৭ উইকেটে হেরে গেল রাহুল দ্রাবিড়ের ভারতীয় দল। কোচ হওয়ার পর প্রথম হার দ্রাবিড়ের।

সেঞ্চুরিয়নের পর জোহানেসবার্গেও ভারতের শক্তি ছিল সেই বোলাররাই। প্রথম ইনিংসে শার্দূল ঠাকুরের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে ম্যাচে ফিরেছিল ভারতীয় দল। তিনি একাই ৭ উইকেট নিয়ে প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে সেই পারফরম্যান্স দেখাতে পারলেন না কোনও ভারতীয় বোলারই। চতুর্থ দিন তো মাত্র এক উইকেট তুলতে পেরেছেন ভারতীয় বোলাররা। আর সেটাও নিয়েছেন সেই শার্দূল ঠাকুরই।

প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে একটা বড় লিডের দরকার ছিল ভারতের। পুজারা, রাহানের ব্যাটে একটা বড় পার্টনারশিপ এলেও, দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে বড় রানের লিড তুলতে ব্যর্থই হয়েছিলেন পরবর্তী ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা। দক্ষিণ আফ্রিকার সামনে মাত্র ২৪০ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছিলেন তারা। তাও আবার হাতে যখন রয়েছে ম্যাচের দু দিন।

ওয়ান্ডারার্সে প্রথমবার টেস্ট ম্যচ হারল টিম ইন্ডিয়া

তৃতীয় দিনই ১১৮ রান করে ফেলেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। হারের আশঙ্কাটা তখন থেকেই দেখা দিয়েছিল। ভারতীয় শিবিরেও যে অস্বস্তি ছিল না তা বলা যায় না। সেদিন মাত্র ২ উইকেট তুলতে পেরেছিলেন সামিরা। হাতে রয়েছে দু দিন সময়। আর জিততে হলে ভারতকে তুলতে হত ৮ উইকেট। অন্যদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা বছরের প্রথম টেস্ট জয়ের থেকে আর মাত্র ১২২ রান পিছনে ছিল সেদিন।

চতুর্থ দিন সকাল থেকেই প্রবল বৃষ্টি জোহানেসবার্গে। ম্যাচ শুরু করার মতো পরিস্থিতিতেই ছিল  না। মধ্যাহ্নভোজ থেকে চা বিরতির সময় পর্যন্ত পেরিয়ে যায়। প্রথম দুটো সেশন খেলাই শুরু করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে ভারতীয় সময় ৭.১৫ মিনিটে শুরু হয় ম্যাচ। আর শুরু থেকেই ছিল এলগার ও ফান ডার ডাসেনের দাপট।

আর তাদের হাত ধরেই জয়ের ভিতটা শক্ত করে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। ফান ডার ডাসেনকে মহম্মদ সামি যখন ফেরান, তখন অনেকটাই দেরী হয়ে গিয়েছে। ম্যাচ ততক্ষণে ভারতের হাতের বাইরে চলে গিয়েছে। ভারতীয় বোলাররা চেষ্টা করলেও, এদিন আর এলগারকে থামানোর কোনও অস্ত্র ছিল না সামি, বুমরা এবং শার্দূলদের থেকে।

ওপেনিং থেকেই একটা দুরন্ত ইনিংস খেলে গিয়েছেন এলগার। বুমরাদের বাউন্স সহ্য করেও, মাটি আঁকড়ে পড়ে ছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক। সহ্য করেছেন একাধিক আঘাত। সব সহ্য করেই ৯৬ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ভারতের জয়ের সমস্ত রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছিলেন তিনি। আর তাঁর দাপটেই শেষ পর্যন্ত জোহানেসবার্গে ভেঙে গেল ভারতের না হারার পরিসংখ্যান। প্রোটিয়াদের মাটিতে টেস্ট সিরিজ জয়ের ইতিহাস গড়তে কেপটাউনে জিততেই হবে টিম ইন্ডিয়াকে।

close whatsapp