আবারও ব্যর্থ মিডল অর্ডার, দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে প্রথম ম্যাচেই হার ভারতের

South Africa Cricket Team
South Africa Cricket Team(Photo by Grant Pitcher/Gallo Images/Getty Images)

টেস্টে শুরুটা তবু জয় দিয়ে করেছিলেন তারা। কিন্তু একদিনের সিরিজে সেটাও করতে পারল না ভারত। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচেই হার টিম ইন্ডয়ার। আবারও একটা ব্যাটিং ব্যর্থতা। সেই মিডল অর্ডারের সমস্যাটা এবারেও ঠিক হল না। আর তাতেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে মুখ থুবড়ে পড়ল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে তেম্বা বাভুমা, ফান ডার ডাসেনরা যেটা করতে পারল, সেটাই করে দেখাতে পারলেন না বিরাট কোহলি। আর সেই পার্থক্যটাই  ভারতকে প্রথম ম্যাচটা হারিয়ে দিল। প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে প্রথম একদিনের ম্যাচেই ৩১ রানে হেরে গেল ভারত।

টেস্ট সিরিজে এগিয়ে থেকেও হার। একদিনের ক্রিকেট খেকেই ঘুরে দাঁড়াতে চেয়েছিল ভারত। কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার একটা পার্টনারশিপই ম্যাচটা ভারতের হাত থেকে বের করে নিয়ে চলে গেল। বাভুমা-ফান ডার ডাসেনের মতো একটা বড় পার্টনারশিপ দরকার ছিল এদিন ভারতেরও। কিন্তু সেটাই কেউ করে উঠতে পারল না। প্রথম পরীক্ষাতেই ব্যর্থ হলেন লোকেশ রাহুল।

পার্লের লো বাউন্সি পিচ। আর সমস্ত কিছু পরীক্ষা করেই জোড়া স্পিনার নিয়ে খেলার নীল নক্সা এঁকেছিলেন লোকেশ রাহুল। ম্যাচ শুরুর আগেই জানিয়েছিলেন পরীক্ষা নীরিক্ষা শুরু। কিন্তু সেই পরীক্ষায় পার্লের পিচে পাশ করতে পারলেন না তিনি। টস হার। আর ঘরের মাঠে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সুযোগটা চাড়তে চাননি প্রোটিয়া অধিনায়ক তেম্বা বাভুমা। যদিও বল হাতে শুরুটা খুব একটা খারাপ করেনি ভারতও।

৫৮ রানের মধ্যেই দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ওপেনারকে ফিরিয়ে দেন ভারতীয় বোলাররা। প্রথম উইকেট মালানকে তুলে নেন জসপ্রীত বুমরাহ। এরপরই প্রোটিয়াদের অন্যতম সেরা তারকা কুইন্টন ডি কক-কে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন অশ্বিন। এরপরই ফিরে যান মার্করামও। ৬৮ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে বূেশ চাপেই পড়ে গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। কিন্তু সেই চাপটাই ধরে রাখতে পারেননি ভারতীয় বোলাররা। টেম্বা বাভুমা ও ফান ডার ডাসেনের ২০০ রানের পার্টনারশিপই দক্ষিণ আফ্রিকার ভিতটা মজবুত করে দেয়। জোড়া শতরান দুই তারকার। বাভুমা করেন ১১০ রান এবং ফান ডার ডাসেন অপরাজিত থাকেন ১২৯ রানে। দক্ষিণ আফ্রিকা করে ২৯৭ রান।

এখনকার ফর্ম্যাটে যদিও ২৯৭ রানকেও খুব একটা নিরাপদ বলা যায়না। আর ম্যাচ যখন ভারতের বিরুদ্ধে, তখন তো এই রান তাড়া করা যাবে বলেই ধরে নেন অনেকে। ব্যাট হাতে এদিনও শুরুতেই ব্যর্থ লোকেশ রাহুল। ফেরেন ১২ রানে। তবে প্রায় ছ মাস পর দলে ফিরে শিখর ধওয়ান কিন্তু লড়াইটা খারাপ করেননি। সঙ্গে অবশ্যই বিরাট কোহলি। এই জুটির হাত ধরেই ভারত ১০০ রানের গন্ডী বেশ সহজেই পেরিয়ে যায়। তাদের পার্টনারশিপ দেখে ধীরে ধীরে ভারতীয় ড্রেসিিংরুমে স্বস্তিও ফিরতে থাকে।

কিন্তু রাহুল দ্রাবিড়ের সেই স্বস্তি দীর্ঘক্ষণের জন্য ছিল না। ৯২ রানেই ভেঙে যায় সেই পার্টনারশিপ। কেশভ মহারাজের বলে ৭৯ রানে ফেরেন ধওয়ান। কিছুক্ষণের মধ্যেই সাজঘরের রাস্তা ধরেন বিরাট কোহলিও। তিনি থামেন ৫১ রানে। ১৫৮ রানে ৩ উইকেট খোয়ায় ভারত। আশাটা তখনও ছিল। কিন্তু এরপরই ৩৬ রানের মধ্যে পরপর তুন উইকেট খোয়ায় ভারত। মিডল অর্ডারের চুড়ান্ত ব্যর্থতাতেই ম্যাচের চিত্র পরিষ্কার হয়ে যায়। শ্রেয়স আইয়ার, ঋষভ পন্থ এবং অভিষেক হওয়া ভেঙ্কটেশ আইয়ার ফেরার পরই, ভারতের হারটা নিশ্চিত হয়ে যায়।

লড়াইটা শার্দূল ঠাকুর চালানোর চেষ্টা চালালেও প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে জয় পাওয়ার জন্য এদিন তা যথেষ্ট ছিল না। পরের ম্যাচে সিরিজ হার নাকি ভারত সমতায় ফিরতে পারে সেটাই দেখার।