প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে সিরিজ জয় ভারতের, টুইটার জুড়ে রোহিতদের প্রশংসা

India vs West Indies
India vs West Indies. (Photo Source: Twitter/BCCI)

প্রথম ম্যাচের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই বোলাররাই জয়ের প্রধান কারিগড়। তবে এদিন চাহাল নন, ভারতীয় দলের জয়ের নেপথ্য নায়ক প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। ১২ রান দিয়ে তিনি একাই নেন ৪ উইকেট।  আবারও একটা দুর্ধর্ষ বোলিং পারফরম্যান্সে ভর করে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে আহমেদাবাদে সিরিজ জিতে নিল ভারত। অধিনায়ক রোহিত শর্মা প্রথম পরীক্ষাতেই ফুলমার্কস পেয়ে উতরে গেলেন। সিরিজ জয়ের আনন্দের মাঝে যদিও দলের ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে কিন্তু একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। দ্বিতীয় ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৪৪  রানে হারাল টিম ইন্ডিয়া।

চোট সারিয়ে ফিরে এই সিরিজেই পূর্ণ সময়ের অধিনায়ক হিসাবে অভিষেক হয়েছিল রোহিত শর্মার। সামনেই ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জ। আহমেদাবাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এই মাঠে সিরিজ জিততে পারেনি ভারত। দায়িত্ব নিয়েই রোহিত শর্মা বদলে দিলেন সেই পরিসংখ্যান। শুধু ম্যাচ জেতাই নয়, ক্যারিবিয়ান ব্রিগেডের বিরুদ্ধে সিরিজও জিতলেন আহমেদাবাদেই।

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক। পরিকল্পনা ছিল ভারতীয় দলকে কম রানের মধ্যে অল আউট করে চাপে ফেলে দেওয়া। সেই পরিকল্পনাতে তারা যে একেবারে সফল হতে পারেনি তা বলা যায়না, কিন্তু ক্যারিবিয়ানদের মতো ভারতীয় দলের বোলাররাও ছিলেন এদিন দুর্ধর্ষ ফর্মে। তাই দিনের শেষে হাসি ফুটেছে সেই ভারত অধিনায়কের মুখেই। টুইটার জুড়ে তাদের ঘিরে শুভেচ্ছা বার্তার ঢল।

প্রথম ম্যাচে দুরন্ত পারফরম্যান্স করতে পারলেও, এই নেমেই সাজঘরে ফিরে যেতে হয় রোহিত শর্মাকে। ক্রিজে বেশীক্ষণ টিকে থাকতে পারেননি বিরাট কোহলিও। তিনি করেন ১৮ রান। তার আগেই অবশ্য মাঠ ছাড়েন ঋষভ পন্থ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে এদিন চূড়ান্ত ব্যর্থ ভারতের টপ অর্ডার। ৪৩ রানের মধ্যে ৩ উইকেট খুইয়ে রীতীমত চাপে পড়ে গিয়েছিল ভারত। সেখান থেকেই ভারতের হাল ধরেন লোকেশ রাহুল ও সূর্যকুমার যাদব।

তাদের ৯১ রানের পার্টনারশিপটা না হলে বোধ হয় এদিন ভারত ১৫০ রানও টপকাতে পারত না। প্রথম ম্যাচে না পারলেও, এদিন ভারতের রান ২০০ রানের দন্ডী টপকাতে পেরেছে মিডল অর্ডারের জন্যই। আর লোকেশ ফেরার পর যে ভারতের মিডল অর্ডার বেশ মজবুত হয়েছে তাও বলা চলে। কিন্তু বডড় রান করার আগেই ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ৪৯ রানে সাজঘরে ফেরেন লোকেশ রাহুল। সূর্য কুমার অবশ্য লড়াইটা চালিয়ে যায়।

১২ রানে ৪ উইকেট নিয়ে এদিন ম্যাচের সেরার শিরোপা ওঠে প্রসিদ্ধ কৃষ্ণার মাথায়

কিন্তু তাঁকেই থামতে হয় ৬৪ রানে। এরপর দীপক হুডা, ওয়াসিংটন সুন্দরদের হাত ধরে কোনওরকমে ভারত পৌঁছয় ২৩৭ রানে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ভারত যে রান করতে পারেনি তা রোহিতদের চোখে মুখেই ছিল স্পষ্ট। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজে সমতা ফেরাতে তখন দরকার ২৩৮ রান। তবে চিন্তা একটাই দলে পোলার্ড নেই। অন্যদিকে এদিনও ভারতকে জিততে হলে একটা দুর্ধর্ষ বোলিং পারফরম্যান্স দেখাতে হবে।

বল হাতে সেই কাজটাই নিখুঁতভাবে করেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। গতম্যাচেও প্রথম ধাক্কাটা তিনিই দিয়েছিলেন। এদিন শুধু প্রথম ধাক্কা দেওয়া নয়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সেরা তিন ব্যাটারকে সাজঘরে ফিরিয়ে ভারতের জয়ের রাস্তাটাও মজবুত করে দেন তিনি। ব্রেন্ডন কিং, অধিনায়ক নিকোলাস পুরাণ এবং ডারেন ব্রাভোকে সাজঘরে ফেরার রাস্তাটা দেখিয়ে দেন তিনি। তিনি একাই নেন চার উইকেট। সেইসঙ্গেই ম্যাচ কার্যত ভারতের হাতে চলে আসে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ অবশ্য লড়াইটা তখনও চালিয়ে যাচ্ছিলেন। একটা শেষ চেষ্টায় ছিলেন ব্রুকস ও অ্যাকিল হোসেন। কিন্তু সেই পার্টনারশিপ ভাঙেন দীপক হুডা। যদিও তখনও পর্যন্ত ভারতকে পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হতে দিচ্ছিলেন না অ্যাকিল হোসেন। সঙ্গে ফ্যাবিয়ান অ্যালেন। সেই পার্টনারশিপ বড় আকার ধারণ করার আগেই অ্যালেনকে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ সিরাজ। এরপর ভারতের জয়টা ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা।

দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরের মাঠে তারা পারেননি। রোহিতের নেতৃত্বে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েই জয় যাত্রা শুরু করল ভারত। সিরিজে ২-০-এ এগিয়ে গেল টিম ইন্ডিয়া।

close whatsapp