মিলার-তেওয়াটিয়ার পার্টনারশিপে ভর করেই জয়ের ধারা অব্যহত গুজরাত টাইটান্সের

Rahul Tewatia
Rahul Tewatia. (Photo Source: IPL/BCCI)

বিরাট কোহলি রানে ফিরলেন ঠিকই। কিন্তু ব্রেবোর্ণ স্টেডিয়ামে জয়ের আশা পূরণ হল না রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর। আবারও একটা টিম গেমের দুরিধর্ষ প্রদর্শন । আর তাতেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে ৬ উইকেটে হারিয়ে আইপিএলের মঞ্চে শীর্ষস্থানই ধরে রাখল গুজরাত টাইটান্স। সেইসঙ্গে প্রথম দল হিসাবে প্লে অফের টিকিটও যে তারা পাকা করে ফেলল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ডেভিড মিলার ও রাহুল তেওয়াটিয়ার পার্টনারশিপে ভর করেই বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে দিল গুজরাত টাইটান্স।

এবারের আইপিএলে গুজরাত টাইটান্স যেন অপ্রতিরোধ্য। বোলিং থেকে ব্যাটিং সব জায়গাতেই যেন তাদের সামনে কেউ দাঁড়াতে পারছে না। ব্যাট হাতে শুভমন গিল এবং ঋদ্ধিমান সাহা শুরুটা করে দিয়ে গেলেও, মাঝে হার্দিক তাড়াতাড়ি ফেরায় একটু চিন্তা বেড়েছিল গুজরাত টাইটান্স শিবিরে। কিন্তু সেই অস্বস্তি বেশীক্ষণের ছিল না। ডেভিড মিলার ও রাহুল তেওয়াটিয়ার বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করেই বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধেও জয়ের ধারা অব্যহত রাখল গুজরাত টাইটান্স।

বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে আইপিএলের শীর্ষেই রইল গুজরাত টাইটান্স

এদিন টস জিতে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। লক্ষ্যটা ছিল হার্দিকদের বিরুদ্ধে বড় রান করার। যদিও শুরুতেই সাজঘরে ফেরেন ফাফ ডুপ্লেসি। তিনি করেন মাত্র শূন্য রান। এরপরই মাঠে আসেন বিরাট কোহলি। টানা ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। এই ম্যাচে রান পেতে যেন মরিয়া ছিলেন বিরাট কোহলি। রজত পাতিদারকে নিয়ে শুরু করেন লড়াইটা। আর সেইসঙ্গেই এবারের আইপিএলে রানের খরাটাও যেন কাটাতে পারেন তিনি।

এবারের আইপিএলে প্রথম অর্ধশতরান করেন বিরাট কোহলি। ৪৫ বলে অর্ধশতরান করার সঙ্গেই রজত পাতিদারের সঙ্গে একটা শক্তিশালী পার্টনারশিপও গড়ে তোলেন তিনি। কিন্তু আফসোস একটাই। বিরাট কোহলি শেষ পর্যন্ত থাকতে পারেননি। ৫৩ বে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেই সাজঘরে ফিরতে হয় তাঁকে। রজত পাতিদারের সঙ্গে ৯৯ রানের পার্টনারশিপ করেন তিনি। এরপরই মাঠে শুরু হয় ম্যাক্সওয়েল ঝড়। যদিও তিনিও বেশীক্ষণ থাকতে পারেননি তিনি। ১৮ বলে ৩৩ রানের ঝোরো ইনিংস খেলে সাজঘরের রাস্তায় হাঁটেন ম্যাডম্যাক্সও। ব্যর্থ হয়েছেন দীনেশ কার্তিকও। শেষপর্যন্ ত গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ১৭০ রান করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু।

অন্যদিকে এদিন শুরু থেকেই বেশ বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা এবং শুভমন গিল। পাওয়ার প্লেতেই এই দুই তারকা প্রায় ৫০ রান করে ফেলেছিলেন। কিন্তু এই দুই ক্রিকেটার পরপর ফিরতেই যেন চাপে পড়ে যায় গুজরাত টাইটান্স। হার্দিক পান্ডিয়া ফেরেন ৩ রানে। আ ৯৫ রানের মাথায় ৪ উইকেট হারাতেই গুজরাত টাইটান্স শিবিরে একটা অস্বস্তির আবহ লক্ষ্য করা যায়।

কিন্তু সেই অস্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হতে দেননি ডেভিড মিলার ও রাহুল তেওয়াটিয়া। সেখান থেকেই বেঙ্গালুরুর বোলারদের বিরুদ্ধে দাপট দেখানো শুরু করেন তারা। প্রথমে খানিকটা ধীরগতিতে খেললেও, সময়যত এগিয়েছে ততই আক্রমণাত্মক হয়েছেন মিলার এবং তেওয়াটিয়া। শেষ তিন ওভারে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর রুপ ধারণ করে এই দুই তারকা। ৩ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাত টাইটান্স। মিলারের ৩৯ রানে রয়েছে ৪টি বাউন্ারি এবং একটি ছয়। আর রাহুল তেওয়াটিয়া  ৪৩ রান করেছেন পাঁচটি চার ও দুটি ওভার বাউন্ডারি মেরে।

close whatsapp