৫১ বলে ৯৪ রান, ধোনিদের কিলার মিলারই

David Miller and Rashid Khan
David Miller and Rashid Khan. (Photo Source: IPL/BCCI)

পুণেতে মিলার দ্য কিলার শো এবং রশিদ খানের ম্যাজিক। আর তাতেই ধারাশায়ী চেন্নাই সুপার কিংস। হার্দিরহীন গুজরাত টাইটান্স শুরুটা ভাল করতে না পারলেও, জয়ের শেষ হাসিটা তাদের মুখেই ফটল।  আর পুণের স্টেডিয়ামে রবিবাসরীয় রাতে সকলে দেখল দ্য মিলার শো। ৫১ বলে ৯৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেন ডেভিড মিলার। তাঁর গোটা ইনিংস জুড়ে রয়েছে ৮টি বাউন্ডারি এবং ৬টি ওভার বাউন্ডারি। গুজরাত টাইটান্স শিবিরে যোগ দিলেও, সেভাবে এখনও পর্যন্ত তাঁকে জ্বলে উঠতে দেখা যায়নি। ধোনিদের বিরুদ্ধেই নিজের স্বমহিমায় ফিরলেন তিনি। আর তাতেই সাফল্ গুজরাত টাইটান্সের। চেন্নাই সুপার কিংসকে ৫ উকেটে হারাল গুজরাত।

আইপিএলের মঞ্চে বরাবরই তিনি বিধ্বংসী ক্রিকেটার হিসাবে পরিচিত। এবার তাঁকে দলে নিয়েছিল গুজরাত টাইটান্স। প্রোটিয়া তারকাকে নিয়ে তারা যে এতটুুকুও ভুল করেনি, তা বুঝিয়ে দিলেন তিনি। বিধ্বংসী ইনিংস যেমন খেললেন তিনি, তেমনই কঠিন পরিস্থিতিতে দলকে বাঁচালোনও ডেভিড মিলার। আর শেষ মুহূর্তে দেখা গেল রশিদ খানের ঝড়। বল হাতে তাঁকে কামাল করতে সকলেই দেখেছে। ব্যাট হাতেও এবার সেটা কতরে দেখালেন তিনি। ক্রিস জর্ডনের এক ওভারেই ম্যাচ শেষ করে দিলেন রশিদ খান।

ডেভিড মিলারের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সে ভর করে চেন্নাইকে হারাল গুজরাত টাইটান্স

চোটের জন্য এদিন ম্যাচের আগেই গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে ছিটকে গিয়েছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। তাঁর জায়গা এদিন গুজরাত টাইটান্সের নেতৃত্বের দায়িত্ব ছিল রশিদ খানের ওপর। টস জিতে তিনিও এদিন প্রথম বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন। শুরু থেকেই চেন্নাই সুপার কিংসের ওপর চাপ তৈরি করতে থাকেন তিনি। কিন্ত পুণের ঘরের ছেলে রুতুরাজ গায়কোয়াড়কে এদিন আটকাতে পারেননি তারা। উথাপ্পা, মৌঈন আলি থেকে শিবম দুবে-রা এদিন শুরুতেই ব্যর্থ। কিন্তু রুতুরাজ তাঁর মাঠে ছিলেন নিজের মেজাজে।

আর তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়ে গিয়েছিলেন অম্বাতি রায়াডু। রুতুরাজ এবং রায়াডুর পার্টনারশিপ না হলে চেন্নাই একশো রান পেরোতে পারত কিনা সন্দেহ রয়েছে। একসময় ৩২ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারিয়েছিল চেন্নাই সুপার কিংস। সেখান থেকেই এই দুই তারকার পার্টনারশিপে ভর করে চেন্নাই পৌঁছয় ১২৪ রানে। সেই সময় ফিরে যান অম্বাতি রায়াডু ফিরে যান ৪৬ রানে। লড়াইটা তখনও অবশ্য রুতুরাজ চালিয়ে যান রুতুরাজ। তবে তাঁকেও থামতে হয় ৭৩ রানে। তাঁর গোটা ইনিংসে রয়েছে ৫টি ছয় ও ৫টি চার।

বাকিটুকু সামলে দেন রবীন্দ্র জাদেজা। চেন্নাই সুপার কিংস থামে ১৬৯ রান। রান কম জিততে হলে প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক বোলিং প্রয়োজন ছিল চেন্নাইয়ের। শুরুর থেকে সেটাই করে গিয়েছেন চেন্নাইয়ের বোলাররা। জাদেজা, মুকেশ এবং থিকসানাদের চাপে শুরু থেকেই চাপে পড়ে গিয়্ছিল গুজরাত টাইটান্স। চূড়ান্ত ব্যর্থ এদিন গুজরাতের টপ অর্ডার ব্যাটাররা।ঋদ্ধিমান, শুভমন গিল, বিজয় শঙ্কর থেকে রাহুল তেওয়াটিয়া-রা এদিন কেউই সাফল্যের মুখ দেখেননি। ৪৮ রানের মধ্যে চার উইকেট হারিয়ে, তখন গুজরাত খাদের কিনারায়। ৮৭ রানের মাথায় আরও এক উইকেট খুইয়ে ফের চাপে গুজরাতে টাইটান্স। একা লড়াই চালিয়ে গিয়েছেন ডেভিড মিলার।

১০ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষস্থানেই নিজেদের জায়গা ধরে রাখল গুজরাত টাইটান্স

যে মিলার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জন্য বিখ্যাত, দলের কঠিন সময় ধৈর্য ধরে ব্যাটিংই ছিল তখন তাঁর অস্ত্র। শুরু করেন বিল্ডআপ। আর সময় যত এগোয় ততই ধীরে ধীরে আক্রমণের জন্য দাঁত নখ বের করতে শুরু করেন ডেভিড মিলার। এরপরই মাঠে শুরি হয় মিলার দ্য কিলার শো। তাঁর ছায় ছয়ের বন্যায় রীতীমত নাস্তানাবুদ হয়ে যায় চেন্নাই সুপার কিংস। আর তাঁর সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত রশিদ খানের। ক্রিস জর্ডনের এক ওভারে ২৫ রান নিয়ে ম্যাচের মোর পুরোপুরি ঘুরিয়ে দেন তিনি। যদিও রশিদ আউট হওয়ার পর চেন্নাই চেপে ধরার একটা চেষ্টা চালায়। কিন্তু ডেভিড মিলারের সামনে এদিন সবই ছিল ব্যর্থ। যদিও শেষ ওভারে তাঁর ক্যাচ ধরেন জাদেজা, কিন্তু নো বলে বেঁচে যান মিলার। এরপর আর কোনও সুযোগ দেননি। এক বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতিয়ে দেন তিনি। ৫১ বলে ৯৪ রানের ইনিংস খেলে মাঠ ছাড়েন তিনি।

close whatsapp