শ্রেয়স আইয়ারের হাত ধরে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইট ওয়াশ করার আশা পূরণ রোহিত শর্মার

Team India
Team India. (Photo Source: BCCI)

সিরিজ জয় আগেই হয়ে গিয়েছিল। অপেক্ষাটা ছিল শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধেও ৩-০ করার। শ্রেয়স আইয়ারের হাত ধরে রোহিত শর্মার সেই স্বপ্নপূরণ। ধরমশালায় তৃতীয় ম্যাচেও দুরন্ত পারফরম্যান্স শ্রেয়স আইয়ারের। এক সিরিজে অর্ধশতরানের হ্যাটট্রিক করলেন তিনি। তাঁর আবারও একটা ঝোরো ইনিংসে শেষ হয়ে গেল শ্রীলঙ্কা বাহিনী। শেষ টি টোয়েন্টিতেও শ্রেয়স আইয়ারের সাফল্যের ধারা অব্যহত। আর সেই সঙ্গেই শ্রীলঙ্কাকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ ৩-০ করল টিম ইন্ডিয়া। এবার ভারতের সামনে লক্ষ্য টেস্ট সিরিজ জয়।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে তিনি সুযোগ পাননি। তাঁর দলে থাকা নিয়েও নানান কথা শোনাযাচ্ছিল। সেইসঙ্গে ভারতীয় দলের মিডল অর্ডারে খেলার জন্য রোহিত শর্মার সেই বার্তা। শ্রেয়স আইয়ারেরে কান পর্যন্ত সবটাই গিয়েছে। অপেক্ষা ছিল একটা সুযোগের। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের টি টোয়েন্টি সিরিজেই নিজের দক্ষতা ফের একবার প্রমাণ করে দিলেন তিনি। পরপর তিনটি ম্যাচেই শ্রেয়স আইয়ারের ব্যাট থেকে এল অর্ধশতরান। ৪৫ বলে ৭৩ রানের ঝোরো ইনিংস খেললেন তিনি। তাঁর গোটা ইনিংসটি সাজানো ৮টি বাউন্ডারি ও ১টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে।

শেষ ম্যাচেও ঝোরো অর্ধশতরান করলেন তিনি। মাত্র ২৯ বলে অর্ধশতরান করেন তিনি। শুধু তাই নয় ভারতের জয়টাও আসে এই তরুণ তারকার হাত ধরেই। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এদিন টস হারে ভারত। প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক। সিরিজ হারলেও, তাদের সামনে এটা ছিল সম্মান রক্ষার লড়াই। আর শুরু থেকেই ভারতের সামনে একটা বড় রান তুলতে চেয়েছিল তারা।

শ্রেয়স আইয়ারের ঝোরো ইনিংসে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কাকে হোয়াইট ওয়াশ ভারতের

কিন্তু এদিন বল হাতে প্রথম থেকেই বিদ্বংসী ফর্মে ছিলেন মহম্মদ সিরাজ, আভেশ খানরা। এদিন জসপ্রীত বুমরাহকে বিশ্রাম দেওয়া হয়েছিল। দলে ছিলেন না ভুবনেশ্বর কুমারও। প্রথমবার এই সিরিজে সুযোগ পেয়েছিলেন মহম্মদ সিরাজ ও আভেশ খান। বল হাতে শুরু থেকেই ভয়ঙ্কর মেজাজে ছিলেন তারা। ২৯ রানের মধ্যেই ভারতের পেস অ্যাটাক ৪ উইকেট তুলে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপকে ধসিয়ে দিয়েছিল।


https://twitter.com/Savyasanchi_/status/1497980096820350979

নিসাঙ্কা, আসালঙ্গা, গুলাথিলাকা ও লিয়ানাগেরা কেউই এদিন দু অঙ্কের রানে পৌঁছতে পারেননি। দাঁড়াতে পারননি চন্ডীমলও। কিন্তু চাপের মুহূর্তে শ্রীলঙ্কার হয়ে লড়াইটা সুরু করেন অধিনায়ক দাসুন সনাকা। তাঁর হাত ধরেই শ্রীলঙ্কা দেড়শো রানের কাছে পৌঁছতে পারে। ভারতীয় বোলাররা চাপ তৈরি করলেও, শেষ চার ওভারেই যেন খানিকটা রাশটা  হাল্কা করে ফেলেন তারা। আর সেই সুযোগকেই কাজে লাগিয়ে রানটা এগিয়ে নিয়ে যান দাসুন সনাকা। তাঁর ৩৮ বলে ৭৪ রানের ইনিংসে ভর করে শ্রীলঙ্কা করেন ১৪৬ রান।

জয়ের জন্য রানটা ভারতীয় দলের কাছে খুব একটা বড় চ্যালেঞ্জ ছিল না ধরমশালার মাঠে। কিন্তু এদিনও ব্যাট হাতে ব্যর্থ রোহিত শর্মা। ৫ রানে ফিরে যান তিনি। আবারও খেলার হাল ধরেন সেই শ্রেয়স আইয়ার। সঙ্গে সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু এদিন তিনি ১৮ রানেই থেমে যান। যদিও ভারতের জয়ের পথে এগোতে এতটুকুও অসুবিধা হয়নি। শ্রেয়স আইয়ারের চওড়া ব্যাটে ভর করে শ্রীলঙ্কান বোলারদের বিরুদ্ধে চাপটা বজায় রেখেছিল ভারতই। মাঝে দীপক হুডার ২১ রানের ইনিংস। এদিন অবশ্য ব্যাট হাতে সেই চমক দেখাতে ব্যর্থ ভেঙ্কটেশ আইয়ার।

শেষ মুহূর্তে শ্রেয়সের সঙ্গী সেই রবীন্দ্র জাদেজা। আর তাঁকে নিয়েই ম্যাচ জিতে মাঠ ছাড়েন ভারতের তরুণ তারকা শ্রেয়স আইয়ার। ৩-০-এ সিরিজ জিতে রোহিতের মাথায় নতুন রেকর্ডের মুকুট।

close whatsapp