তাঁর ওপর ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং হার্দিক বিশ্বাস রেখেছিল, তারই মর্যাদা দিতে পেরে খুশি ঋদ্ধিমান সাহা
আপডেট করা - Jun 4, 2022 4:34 pm

আইপিএলের মঞ্চে প্রথম পাঁচ ম্যাচ রিজার্ভ বেঞ্চে বসে কাটাতে হয়েছিল ঋদ্ধিমান সাহাকে। কিন্তু ম্যাথু ওয়েডের একের পর এক ব্যর্থতা ঋদ্ধিমান সাহার সামনে গুজরাত টাইান্সের হয়ে মাঠে নামার সুযোগটা করে দিয়েছিল। তিনি যে ফুরিয়ে যাননি, সেটাই সকলের সামনে প্রমাণ করার ফের একটা সুযোগ পেয়েছিলেন বাংলার এই তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার। আর ঋদ্ধিমান সাহার সামনে সেই সুযোগ যিনি করে দিয়েছিলেন, সেই হার্দির পান্ডিয়ার কাছেই কৃতজ্ঞ ঋদ্ধি। হার্দিক তাওর ওপর বিশ্বাস রেখেছিল বলেই নিজেকে ফের একবার প্রমাণ করতে পেরেছেন তিনি।
একসময় ভারতের প্রথম চয়েজ উইকেট কিপার হলেও, পরবর্তীকালে ঋষভ পন্থের দাপটে ধীরে ধীরে দ্বিতীয় উইকেটকিপার হয়ে গিয়েছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা। আর দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর তো ভারতীয় দল থেকে কার্যত বেড়িয়েই গিয়েছেন তিনি। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের দল ঘোষণার পরই এই নিয়ে সরব হয়েছিলেন ঋদ্ধিমান। রাহুল দ্রাবিড় থেকে প্রধান নির্বাচক এবহং সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়, সকলের দিকেই তুলেছিলেন অভিযোগের আঙুল।
এবারের আইপিএলেও প্রথম দিন বিক্রি হননি ঋদ্ধিমান সাহা। দ্বিতীয় দিন নিলামের একেবারে শেষ পর্যায়ে এসে গুজরাত টাইটান্স তাঁকে তুলে নিয়েছিল। ১.৯ কোটি টাকায় এবার গুজরাতে গিয়েছিলেন। অপেক্ষা ছিল একটা সুযোগের। হার্দিক সেই সুযোগ তাঁর হাতে তুলে দিতেই, সকলের সামনে ফের একবার নিজেকে প্রমাণ করে দেন বাংার এই তারকা উইকেটকিপার ব্যাটার।
সদ্য সমাপ্ত আইপিএলে ৩১৭ রান রয়েছে ঋদ্ধিমান সাহার
এই প্রসঙ্গে তিনি ঋদ্ধিমান সাহা জানিয়েছেন, “যাদের সকলকে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, হার্দির তাদের সকলের ওপরই নিজের বিশ্বাস রেখেছিলেন। মেগা নিলামে প্রথমে আমি অবিক্রিত ছিলাম। আইপিএলের শুরুর দিকে সুযোগও পাইনি। এরপরই একদিন তিনি আমার কাছে আসেন এবং জানান যে ওপেনিংয়ের দায়িত্ব নিতে হবে আমাকে। নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছিলাম। একইসঙ্গে হার্দিকই আমায় ফের নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চটা তৈরি করে দিয়েছিলেন”।
ঋদ্ধিমান সাহা আরও জানিয়েছেন, “তাঁর এই আঅবদান কখনোই ভুলতে পারব না। তাঁর বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে নিজের সেরাটা দিয়েছি আমি। শুধু আমিই নই, আমাদের দলের প্রত্যেকেই নিজেদের কর্তব্য পালনে পুরোপুরি সচেষ্ট ছিলেন। একটি চ্যাম্পিয়ন দল হয়ে উঠতে এটাই সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয়”।
এবারের আইপিএলে প্রথম পাঁচ ম্যাচে খেলার সুযোগ মেলেনি ঋদ্ধিমান সাহার। ম্যাথু ওয়েডের ব্যর্থতার পর তাঁকেই ওপেনিংয়ের দায়িত্ব তুলে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। আর সেই সিদ্ধান্ত যে একেবারে ভুল ছিল না, তা প্রমাণ করে দেখিয়ে দিয়েছেন ঋদ্ধিও। তাঁর ব্যাট থেকে ১১ ম্যাচে এসেছে ৩১৭ রান। করেছেন তিনটি অর্ধশতরানও। এবারের গুজরাতের আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অন্যতম প্রধান কারিগড় ঋদ্ধিমান সাহা।