অসিথা ফার্নান্ডোর দুর্ধর্ষ স্পেলে বাংলাদেশকে ১০ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ জয় শ্রীলঙ্কার

Asitha Fernando
Asitha Fernando. (Photo by MUNIR UZ ZAMAN/AFP via Getty Images)

ঘরের মাঠে শুক্রবার মান বাঁচানোর লড়াই ছিল বাংলাদেশের সামনে। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এদিন বাংলাদেশের ব্যাটারদের একটা বড় পারফরম্যান্স দেখানোর প্রয়োজন ছিল। কিন্তু পারল না বাংলাদেশ। সাকিব অল হাসান ও লিটন দাস লড়াইটা করলেও, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে জেতার জন্য তা এদিন যথেষ্ট ছিল না। ঘরের মাঠে দ্বিতীয় টেস্টে ১০ উইকেটে হেরে সিরিজও হাতছাড়া হয়ে গেল বাংলাদেশের। অসিথা ফার্নান্ডোর দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল এদিন শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় ইনিংস।

চতুর্থ দিনই রানের পাহাড় গড়ে তুলেছিল শ্রীলঙ্কা। যদিও লিডের অঙ্কটা তত বড় ছিল না। প্রথম টেস্ট ড্র। দ্বিতীয় টেস্টও ড্র করতে হলে বাংলাদেশকে পঞ্চম দিন ব্যাটিং করতে হত। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংস শ্রীলঙ্কার বোলাররা দুর্ধর্ষ ফর্মে ছিল। বিশেষ করে অসিথা ফার্নান্ডো। তাঁর দুর্ধর্ষ স্পেলেই তো শেষ হয়ে গেল বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার হয়ে কেরিয়ারের প্রথম ছয় উইকেট নিলেন তিনি। সেইসঙ্গে শ্রীলঙ্কার সিরিজ জয়ের নায়কও এখন তিনিই। তাঁকে নিয়েই আপ্লুত সকলে।

দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার হিসাবে এক টেস্টে দু ইনিংস মিলিয়ে ১০ উইকেট নিলেন অসিথা ফার্নান্ডো

চতুর্থ দিনই বাংলাদশের চপ অর্ডার চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছিল। ৩৪ রানে ৪ উইকেট খুইয়ে চাপটা সেই সময়থেকেই বেড়ে গিয়েছিল। ।দিও মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাসের ওপরই ভরসা করেছিল তখন সকলে। হবে নাই বা কেন প্রথম ইনিংসে তো এই দুই ব্যাটারই বাংলাদেশ শিবিরের ত্রাতা ছিলেন। কিন্তু পঞ্চম দিন শুরু হতেই বদলে গিল গোটা চিত্রটা। সময় যত এগিয়েছে ততই চিন্তার রেখা গাড় হয়েছে বাংলাদেশ অধিনায়ক থেকে টিম ম্যানেদজমেন্ট সদস্যদের কপালে।

এদিন মাঠে নামার পরই ২৩ রানে মুশফিকুর রহিমকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন সৌসল রজিথা। এরপরই শের ই বাংলার বাইশগজে শুরু অসিথা ফার্নান্ডোর তান্ডব। যদিও সাকিব অল হসান এবং লিটন দাস একটা পার্টনারশিপ গড়ে তোলার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। ১০৩ রানের পার্টনারশিপও গড়ে ফেলেছিলেন তিনি। কিন্তু এই দিনটা ছিল অসিথা ফার্নান্ডোর। তাঁর ধাক্কাতেই বাংলাদেশের বড পার্টনারশিপের আশা ভঙ্গ হয়। সেইসঙ্গে জয়ের আশাও শেষ হয়ে যায়। প্রথমেই লিটন দাসকে ৫২ রানে সাজঘরে ফেরান অসিথা। ক্রিজে সাকিবও বেশীক্ষণ আর থাকতে পারেননি। ৫৮ রানে তাঁকেও অসিথা ফার্নান্ডোই সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন।

এই ব্যাটার সাজগরে ফেরার সঙ্গে শ্রীলঙ্কার জয়ের ভিতটাও মজবুত হয়ে যায়। এরপর আর কেউই শ্রীলঙ্কার বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। একাই মাত্র ৫১ রান দিয়ে ৬ উইকেট নিয়ে এদিন শ্রীলঙ্কার জয়ের নায়ক অসিথা ফার্নান্ডো। ১৬৯ রানেই শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশ। শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য তখন মাত্র ২৯ রান প্রয়োজন।

ঘরের মাঠে বাংলাদেশের হার সেই সময় শুধুই সময়ের অপেক্ষা। ১০ উইকেটে বাংলাদেশকে হারিয়ে টেস্ট সিরিজ জিতে নিল শ্রীলঙ্কা। ফের একবার দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ব্যাটিং লাইনআপের বিধ্বস্ত হওয়ার চিত্র দেখল সকলে।

close whatsapp