বড় মঞ্চের বড় নায়ক, প্রমান করলেন বিরাট কোহলি

Virat Kohli and Faf du Plessis
Virat Kohli and Faf du Plessis. (Photo Source: IPL/BCCI)

অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। অবশেষে জবাবটা আইপিএলের মঞ্চেই দিলেন বিরাট কোহলি। গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু এদিন তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নেমেছিল। এদিনই তাদের বিরাট কোহলিকে বোধহয় সবচেয়ে বেশী দরকার ছিল। আর সেই মঞ্চেই জ্বলে উঠলেন বিরাট। ৫৪ বলে ৭৩ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে বেঙ্গালুরুর জয়ের রাস্তাটা তিনিই এদিন পাকা করে দিয়ে যান। বিরাট কোহলির চওড়া ব্যাটে ভর করে ৮ উইকেটে গুজরাতের টাইটান্সদের হারিয়ে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে উঠে এল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। যদিও এখনও তাদের গুজরাত ম্যাচের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে।

বড় ম্যাচ সবসময়ই বড় খেলোয়াড়দের জন্য। বিশ্ব ক্রীড়া জগতে এই কথাটা যে ধ্রুব সত্য তা আরও একবার সকলে দেখতে পেল। গোটা প্রতিযোগিতায় বিরাট কোহলি ব্যর্থ। এই ম্যাচে নামার আগে ১৩টি ম্যাচে মাত্র ১টি অর্ধশতরান ছিল তাঁর। আইপিএলের প্লে অফের লক্ষ্যে এদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামনে এটাই যেন ছিল ফাইনাল। সেখানেই হার্দিক পান্ডিয়াদের বিরুদ্ধে দ্বলে উঠলেন বিরাট কোহলি। ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম ফের এবার দেখল বিরাট দাপট। ওয়াংখেড়েতে ৭৩ রানের ইনিংসে এদিন বিরাট কোহলি মারেন ৮টি চার এবং ২টি ওভার বাউন্ডারি। প্রতিপক্ষের তারকা বোলারদের রীতিমত নাস্তানাবুদ করেন তিনি।

১৪ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে আইপিএলের প্লেঅফের দৌড়ে এখনও রইল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

বিরাট কোহলির ব্যাটে রান না থাকায় অনেকেই নানান কথাবার্তা বলতে শুরু করেছিলেন। দাঁতে দাঁত টেপে সমস্তক্ছু শুনে গিয়েছেন তিনি। অবশেষে বোধহয় জবাব দেওয়াটা শুরু করলেন বেঙ্গালুরুর প্রাক্তন অধিনায়ক। তাঁর একার হাতেই এদিন বিধ্বস্ত হল গুজরাত টাইটান্স। এবারের আইপিএলে দ্বিতীয় অর্ধশতরান পাওয়ার সঙ্গে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্সের নায়কের নামও সেই বিরাট কোহলি। ওয়াংখেড়ের বাইশগজে এদিন শুধুই দেখা গেল বিরাট কোহলির দাপট। আর শেষ মুহূর্তে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের একটা ঝোরো ইনিংস। তাতেই বাজিমাত।

টস জিতে গুজরাত টাইটান্স অধিনায়ক এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। শুভমন গিল এদিন শুরুতেই ব্যর্থ হয়েছিলেন। ম্যাথু ওয়াডও ১৬ রানে লাদঘরে ফেরেন। যদিও তাঁর আউট নিয়ে খানিকটা বিতর্ক রয়েই গিয়েছে। পাওয়ার প্লে -তে দুই উইকেট খুইয়ে শুরু থেকেই এদিন চাপে পড়ে গিয়েছিল গুজরাত। এরপর ক্রিজে আসেন হার্দিক পান্ডিয়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঋদ্ধিমান সাহাও ফিরে যান ৩১ রানে। সেই থেকে দলের হাল ধরেন একা হার্দিক পান্ডিয়া।

শেষপর্যন্ত এদিন ক্রিজে টিকে ছিলেন গুজরাত টাইটান্স অধিনায়ক। কখনও ক্রিজে তাঁর সঙ্গী হয়েছেন ডেভিড মিলার তো কখনও তাঁর সঙ্গী হয়েছেন তেওয়াটিয়া, রশিদ খান। হার্দিক এদিন শেষপর্যন্ত না থাকলে গুজরাত বোধহয় লড়াই করার মতো রানও তুলতে পারতেন না। ৪৭ বলে হার্দিকের ৬২ রানের ইনিংসটাই শেষপর্যন্ত গুজরাত টাইটান্সকে পৌঁছে দেয়১৬৮ রানে। আর শেষ মুহূর্তে রশিদ খানের ৬ বলে ১৯ রানের ঝোরো ইনিংস।

কিন্তু দিনটা এদিন ছিল বিরাট কোহলির। ব্যাট হাতে নামার পর থেকেই ছিলেন আক্রমণত্মক মেজাজে। বিরাট কোহলির চোখে মুখেও ছিল আত্মবিশ্বাসের একটা ছাপ। গুজরাত বোলারদের বিরুদ্ধে প্রথম থেকেই ছিল দাপুটে ইনিংস। সেইসঙ্গে যোগ্য সঙ্গত ফাফ ডুপ্লেসিরও। বিরাট কোহলি ও ডুপ্লেসির ওপেনিং পার্টনারশিপই ছিল ১১৫ রানের। সেটাই বেঙ্গালুরুর জয়ের যথেষ্ট ছিল। যদিও রশিদ খানের বলে ডুপ্লেসিকে ৬ রানের জন্য অর্ধশতরান মাঠে ফেলেই যেতে হয়। কিন্তু বিরাট মাঠে থাকলে কোনও চিন্তাই থাকে না কারোর। ৭৩ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে বিরাট যখন ফেরেন তখন বেঙ্গালুরুর রান ১৪৬। জয়টা তখন সময়ের অপেক্ষা। ৮ বল বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে নেয় বেঙ্গালুরু।

close whatsapp