ড্যানিয়েল স্যামসের শেষ ওভারেই বাজিমাত, গুজরাত টাইটান্সের সামনে থেকে জয় ছিনিয়ে নিল মুম্বই

Daniel Sams
Daniel Sams. (Photo Source: IPL/BCCI)

ঋদ্ধিমান সাহা-শুভমন গিল সেঞ্চুরী পার্টনারশিপ গড়ে দিয়ে গেলেও, জিততে পারল না গুজরাত টাইটান্স। আইপিএলের সবচেয়ে ধারাবাহিক দলই পরপর দু ম্যাচ হারল ক্যাশরিচ লিগের মঞ্চে। রুদ্ধশ্বাস শেষ ওভার। সেখানেই অসাধারণ বোলিং করে হারা ম্যাচ রোহিত শর্মাকে জিতিয়ে দিয়ে গেলেন ড্যানিয়েল স্যামস। শেষ ওভারে গুজরাতের জিততে দরকার ছিল ৯ রানের। ক্রিজে ডেভিড মিলার থাকলেও পারলেন না তিনি। ৫ রানে এই ম্যাচ গুজরাতের থেকে ছিনিয়ে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। পচা শামুকে পা কেটে প্লে অফে প্রথম দল হিসাবে নিজেদের জায়গা পাকা করার অপেক্ষাটা রয়েই গেল গুজরাত টাইটান্সের।

ব্রেবোর্ণ স্টেডিয়ামে এদিন একটা হাড্ডহাড্ডি লড়াইয়ের স্বাক্ষী রইলেন সকলে। গুজরাতের জয়ের মঞ্চটা এদিন প্রস্তুত করে দিয়ে গিয়েছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা এবং শুভমন গিল। কিন্তু মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও এদিন হাল না ছাড়ার মনোভাবে ছিল। শেষ ওভার পর্যন্ত ম্যাচ ছাড়েনি তারা। গুজরাতের ওপেনিং পার্টনারশিপটা ভাঙার পরই যেন চেপে ধরেছিল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। যদিও তখনও পর্যন্ত ম্যাচের রাশ গুজরাতের দিকেই ছিল। হার্দিকের রান আউট এবং শেষ ওভারে ড্যানিেল স্যামসের ওভারটাই যে এদিনের ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট তা বলার অপেক্ষা রাখে না। আইপিএলের মঞ্চে গুজরাত টাইটান্সকে ৫ রানে হারিয়ে দ্বিতীয় জয়টা তুলে নিল মুম্বই ইন্ডিয়ানম্স।

আইপিএলে পরপর দু ম্যাচ হারল গুজরাত টাইটান্স

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হর্দিক পান্ডিয়া। ব্যাট হাতে শুরুটা অবশ্য এদিন ভালভাবেই করেছিলেন রোহিত শর্মা। দীর্ঘদিন পর রোহিতকে ফের সেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দেখা যায়। সঙ্গে ইশান কিষাণও ছিলেন ফর্মে।  কিন্তু রশিদ খানের ওভারেই ম্যাচ বদে যায় চিত্রটা। রোহিত শর্মাকে ৪৩ রানে থামিয়ে দেন তিনি। এরপরই ৪৫ রানে ইশান কিষাণকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন আলজারি জোসেফ। এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফিরতেই মুম্বইয়ের রানে গতি কমতে থাকে।  পরপর সূর্যকুমার, তিলক বর্মা এবং পোলার্ডরা ফিরে যাওয়ার পর তো একসময় মুম্বইয়ের দেড়শো রানের গন্ডী টপকানো অসম্ভব মনে হচ্ছিল।

এদিন অবশ্য রোহিতকে হতাশ করেননি টিম ডেভিড। তাঁর ঝোরো ৪৪ রানে ভর করে ১৭৭ রানে পৌঁছয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। কিন্তু গুজরাত টাইটান্সের বিরুদ্ধে জেতার জন্য এই রান যে যথেষ্ট নয়, তা এদিন ব্যাট হাতে নামা থেকেই বোঝাতে শুরু করেছিলেন ঋদ্ধিমান সাহা ও শুভমন গিল। ব্যাট হাতে শুরু থেকেই ছিল আক্রমণাত্মক মেজাজে। তাদের হাত ধরেই একশো রানের গন্ডী টপকে যায় গুজরাত টাইটান্স।

ঋদ্ধিমান সাহার ৪০ বলে ৫৫ রানের ইনিংসে রয়েছে ২টি ছয় ও ছটি বাউন্ডারি। অন্যদিকে শুভমন ফেরেন ৫২ রানের ইনিংস খেলে। সেই সময় বেশীরভাগ লোকই ম্যাচ গুজরাতের পক্ষে বলেই মনে করছিল। কিন্তু মুম্বই ইন্ডিয়ান্সও এদিন হাল ছাড়ার দল ছিল না। ক্রমশই চেপে ধরতে শুরু করেছিল তারা।  ১৫৬ রানের মাথায় হার্দিক পান্ডিয়া রান আউট। সেটাই এদিনের ম্যাচ ঘোরানোর জন্য যথেষ্ট ছিল। কিন্তু ক্রিজে ছিলেন ডেভিড মিলার। ১৯ নম্বর ওভারে জসপ্রীত বুমরার ওভারে ১১ রান নিয়ে ম্যাচ ফের গুজরাতের দিকেই নিয়ে চলে এসেছিলেন তিনি।

কিন্তু খেলার আসল ক্লাইম্যাক্স যে শেষ ওভারে অপেক্ষা করছে তা হয়ত কউই জানতেন না। শেষ ওভারে গুজরাতের জিততে দরকার ছিল ৯ রান। ড্যানিয়েল স্যামসের ওভারে রাহুল তেওাটিয়া রান আউট। ক্রমশই তখন মিলারের ওপরে চাপ বাড়ানোর কৌশল।  ওভারের শেষ দুটো বল ব্যাটেই লাগাতে পারেননি তিন। মাত্র তিন রান দেন এই বোলার। ৫ রানে ম্যাচ জিতে নেয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।

close whatsapp