একবছর মধ্যাহ্নভোজ করেননি কুমার কার্তিকেয়, তাঁর ছোটবেলার কোচের মুখে উঠে এল সেই পরিশ্রমের কাহিনী
আপডেট করা - May 6, 2022 7:22 pm

আইপিএলের মঞ্চ সবসময়ই নতুন তারকার জন্ম দেয়। এবারেও তার অন্যথা নয়। আর সেই সমস্ত তারকাদেরই উঠে আসার পিছনে থাকে নানান কাহিনী। মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের জার্সিতে অভিষেক ম্যাচেই তাঁর স্পিনের জাদুতে সকলকে চমকে দিয়েছেন কুমার কার্তিকেয়। হয়ত উইকেট পেয়েছেন একটি। কিন্তু সেই সঞ্জু স্যামসনের একটা উইকেটই সেদিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে জয়ের দিকে অনেকটা এগিয়ে দিয়েছিল। সেইসঙ্গে কুমার কার্তিকেয়র ৪ ওভারে মাত্র ১৯ রান দেওয়া। প্রথম ম্যাচেই এমন পারফরম্যান্সে সকলের প্রশংসা কুরিয়ে নিয়েছিলেন তিনি।
এরপর থেকেই এমন একজন তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে খোঁদ খবর নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছিল। উত্তর প্রদেশ থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটারের জীবন কিন্তু একেবারেই সোজা ছিল না। ছোট থেকেই তাঁর জীবনের নিত্য সঙ্গী ছিল লড়াই। হার মানেননি। আর সেজন্যই আজ বোধহয় এই জায়গায় পৌঁছতে পেরেছেন। কারণ একটাই, ক্রিকেট খেলতে চান তিনি।
ক্রিকেট অ্যাকাডেমিতে যখন দুপুরের খাবার দেওয়া হয়েছিল তাঁকে, কেঁদে ফেলেছিলেন কুমার কার্তিকেয়। টানা একবছর দুপুরের খাওয়া কী সেটাই নাকি একসময় ভুলে গিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু কখনোই হেরে যাননি এই তরুণ ক্রিকেটার। তাঁর চোখে সবসময়ই ছিল একটাই লক্ষ্য বড় ক্রিকেটার হয়ে ওঠা। তাঁর ছোটবেলার কোচ সঞ্জয় ভরদ্বাজের মুখেই শোনা গেল কুমার কার্তিকেয়র সেই অসামান্য লড়াইয়ের কাহিনী।
ক্রিকেটার হওয়ার লক্ষ্যে কুমার কার্তিকেয়র পরিশ্রমের কাহিনী শোনালেন তাঁর ছোটবেলার কোচ
টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে নিজের দায়গা পাওয়ার জন্য রিস্ট স্পিনের কৌশল শিখতে মরিয়া ছিলেন তিনি। সেভাবেই নিজেকে দিনের পর দিন প্রস্তুত করে গিয়েছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। একসময় গাজিয়াবাদের এক কারখানায় লেবারের কাজও করেছেন তিনি। অ্যাকাডেমি থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে যেতেন সেই কাজ করতে। সেইসঙ্গে চালিয়ে গিয়েছেন তাঁর রিস্ট স্পিনার হয়ে ওঠার লড়াই। তাঁর বোলিং দক্ষতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন তাঁর ছোট বেলার কোচ। বিশেষকরে তাঁর স্পিন বোলিংয়ের সময় আঙুলের ব্যবহার ও আরও মুগ্ধ করেছে সকলকে। সেই প্রশিক্ষণ নেওয়ার জন্য কুমার কার্তিকেয়র পরিশ্রমের কথাই শোনা গেল সঞ্জয় ভরদ্বাজের গলায়।
ইএসপিএন ক্রিকইনফোতে কুমার কার্তিকেয়র ছোটবেলার কোচ সঞ্জয় ভরদ্বাজ জানিয়েছেন, “অ্যাকাডেমিতে যখন তাঁকে প্রথমবার মধ্যাহ্নভোজ দেওয়া হয় তিনি কেঁদে ফেলেছিলেন, কারণ টানা একবছর দুপুরের খাওয়ার খাননি তিনি। তাঁর খেলার প্রতি আগ্রহ এবং নিষ্ঠা দেখার পরই কুনার কার্তিকেয়কে আমার বন্ধু অজয় দ্বিবেদীর কাছে পাঠাই। এরপরই ডিভিশন ক্রিকেট খেলেন তিনি এবং সেখানেই ৫০-এর ওপর উইকেটও নেন এই তারকা ক্রিকেটার”।
যখন কুমার কার্তিকেয়কে ভরদ্বাজ অ্যাকাডেমিতে ট্রায়ালের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, তিনি জানিয়েছিলেন তাঁর কাছে দেওয়ার মতো অর্থ নেই। এরপরই অ্যাকাডেমি থেকে৮০ কিলমিটার দূরে গাজিয়াবাদে একটি জায়গায় লেবারের কাজ নিয়েছিলেন কুমার কার্তিকেয়। সকালে যখন অ্যাকাডেমিতে আসতেন তিনি শুধুমাত্র একটা বিস্কুটের প্যাকেট থাকত সঙ্গে।
যদিও এখন সমস্ত লড়াই জিতে আইপিএলের মঞ্চে চলে এসেছেন এই তরুণ ক্রিকেটার। যদিও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে প্রথম দিকের আটটি ম্যাচে খেলার সুযোগ পাননি তিনি। মহম্মদ আরশাদ ছিটকে যাওয়ার পরই মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরে অভিষেকের সুযোগ হয় কুমার কার্তিকেয়র। আর তাঁর অভিষেক ম্যাচেই এবার প্রথম জয় পায় মুম্বই ইন্ডিয়ান্স।