ব্রেবোর্ণে ডেভিড ওয়ার্নারের বিধ্বংসী ইনিংসেই সূর্যাস্ত হায়দরাবাদের, জয়ে ফিরল দিল্লি ক্যাপিটালস

Delhi Capitals
Delhi Capitals. (Photo Source: IPL/BCCI)

ডেভিড ওয়ার্নারের মধুর প্রতিশোধ। আর তাতেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে জয়ের রাস্তায় ফিরল দিল্লি ক্যাপিটালস। ওয়ার্নারের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সই এদিন দিল্লি ক্যাপিটালসের জয়ের রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছিল। বাকি কাজটুকু বল হাতে করে দিলেন দিল্লির বোলাররা। ৫৮ বলে ৯২ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেন এদিন ডেভিড ওয়ার্নার। সেইসঙ্গে গতবছরের অপমানের প্রতিশোধটাও বোধহয় নিয়ে ফেললেন তিনি। ব্রেবোর্ণ স্টেডিয়ামে ওয়ার্নারের হাতেই সূর্যাস্ত হায়দরাবাদের। ২১ রানে জিতল দিল্লি ক্যাপিটালস।

২০১৬ সালে ডেভিড ওয়ার্নারের নেতৃত্বে আইপিএল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। কিন্তু গতবছর সেই ডেভিড ওয়ার্নারের সঙ্গেই  সানরাইজার্স হায়দরাবাদের সম্পর্ক তিক্ততার মাত্রা ছাড়িয়েছিল। প্রথম পর্বে ভারতের মাটিতে ডেভিড ওয়ার্নার রান পাননি। এরপর যখন সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে আইপিএলের ম্যাচ শুরু হয় সেই সময়ই এই তারকা ক্রিকেটাকে অধিনায়কের পদ থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় তারা। শুধু তাই নয় প্রতিযোগিতার মাঝপথে ওয়ার্নারকে দল থেকে সরিয়েও দেয় তারা।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে লিগ টেবিলে পাঁচ নম্বরে উঠে এল দিল্লি ক্যাপিটালস

এবারের আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালস শিবির নিয়েছিল ডেভিড ওয়ার্নারকে। আর  সকলে অপেক্ষায় ছিল ডেভিড ওয়ার্নারের মাঠে নামার যদিও মাঠে নামার আগে এই ব্যপার নিয়ে একেবারেই ভাবতে নারাজ ছিলেন ওয়ার্নার। বাইশগজেই জবাবটা দেবে ভেবেছিলেন তিনি। এদিন টস জিতে উইলিয়ামসন বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই সুযোগটাই করে দিয়েছিলেন ডেভিড ওয়ার্নারকে। আর ব্যাট হাতে শুরু থেকেই তিনি ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে।

দিল্লি ক্যাপিটালসের টপ অর্ডার কিন্তু ব্যর্থ। কিন্তু ওয়ার্নারের ব্যাট চললে যে আর কিছুই লাগে না, সেটা এদিন হায়দরাবাদ বুঝে গেল। এদিন ওয়ার্নারের ব্যাট থেকে শুধুই ছিল চার ও ছয়ের বন্যা। যে উমরান মালিকের গতি নিয়ে এত কথা হচ্ছিল, তিনিই এদিন এক ওভারে দিয়েছেন ২১ রান। শুধু তিনিই নন, হায়দরাবাদের কোনও বোলারই এদিন ওয়ার্নারের সঙ্গে মাথা তুলে দাঁড়াতে পারেননি। আর সেইসঙ্গে ওয়ার্নারকে যোগ্য সঙ্গত রভম্যান পাওয়েলের। তাঁর ব্যাটিং পারফরম্যান্সও এদিন মুগ্ধ করল গোটা ব্রেবোর্ণ স্টেডিয়ামকে। দুই তারকার চার, ছয়ে এদিন বিধ্বস্ত হয়ে গিয়েছিলেন হায়দরাবাদের বোলাররা।

৫৮ বলে ওয়ার্নারের ৯২ রানের ইনিংসটি সাজানো ১২টি বাউন্ডারি এবং ৩টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। অন্যদিকে রভম্যান পাওয়েলের ৬৭ রানের ইনিংসে রয়েছে ৩টি বাউন্ডারি এবং ৬টি ওভার বাউন্ডারি। শুদু আফসোস একটাই মাত্র ৮ রানের জন্য এদিন শতরানটা হাতছাড়া হয়েছে ডেভিড ওয়ার্নারের। এদিন তাঁকে আউট করার ক্ষমতা আর কোনও বোলারের মধ্যেই ছিল না। নির্ধারিত ওভারে দিল্লি ক্যাপিটালস করে ২০৭ রান।

দিল্লির রানের পাহাড়ের জবাবে জিততে হলে তখন সানরাইজার্স হায়দরাবাদকেও আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে হত। কিন্তু দিল্লির বোলারদের দাপটে ৩৭ রানের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান অভিষেক শর্মা, উইলিয়ামসন এবং রাহুল ত্রিপাঠি। আর সেই সময় থেকেই ম্যাচের ভবিষ্যত কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল। তবুও নিকোলাস পুরান একটা চেষ্টা চালিয়েছিল। কিন্তু ৬২ রানে ফেরার পর দিল্লির ম্যাচ জয় তখন সময়ের অপেক্ষা। ডেভিড ওয়ার্নারের দক্ষ হাত ধরেই ফের জয়ের সরণীতে ঋষভ পন্থের দিল্লি।

close whatsapp