সূর্যকুমারের হাত ধরেই জন্মদিনে জয়ের হাসি রোহিত শর্মার মুখে, আইপিএলে প্রথম জয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের

Suryakumar Yadav and Tilak Varma2
Suryakumar Yadav and Tilak Varma2 ( source ipl/bcci)

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। অবশেষে এবারের আইপিএলে জয়ের মুখ দেখল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। লো স্কোরিং ম্যাচে বেশ কষ্ট করেই প্রথম জয় ছিনিয়ে নিতে হল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে। রাজস্থান রয়্যালসকে ৫ উইকেটে হারাল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। যদিও মু্বইয়ের ম্যাচের নায়ক কিন্তু সূর্যকুমার যাদব। সেইসঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন তিলক বর্মা। এই দুই তারকার পার্টনারশিপে ভর করেই শেষপর্যন্ত আইপিএলের মঞ্চে দীর্ঘ কাঙ্খিত সেই জয় তুলে নিল পাঁচবারের আইপিএল চ্যাম্পিয়নরা।

রোহিত শর্মা প্রতিদিনের মতো এদিনও ব্যর্থ হয়েই ফিরেছেন। কিন্তু তাঁর জন্মদিনে সেরা উপহারটা দিলেন সূর্যকুমার যাদবই। এবারের আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে একমাত্র ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন সূর্যকুমার যাদবই। এদিনও যখন মুম্বই ইন্ডিয়ান্স চাপে পড়ে গিয়েছিল, ত্রাতার নাম সেই সূর্যকুমার যাদব। আর তাতেই জন্মদিনে আইপিএলের মঞ্চে প্রথম জয় পেলেন রোহিত শর্মা। খানিকটা হলেও হয়ত স্বস্তির আবহ ফিরল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স শিবিরে।

টানা ৮ ম্যাচ হারের পর অবশেষে আইপিএলে প্রথম জয়ের মুখ দেখল মুম্বই ইন্ডিয়ান্স

শনিবার জন্মদিন ছিল রোহিত শর্মার। এদিন বহু রোহিত ভক্তই দ্য হিটম্যানের ব্যাট থেকে বড় রানের আশায় টিভির সামনে এবং গ্যালারীতে বসেছিলেন। কিন্তু সেই আশা তাদের পূরণ হয়নি। তবে মুম্বইয়ের জয় দেখার আশা পূরণ হয়েছে। টস জিতে এদিন রোহিত শর্মা প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। প্রতিপক্ষ শিবিরে রয়েছে জস বাটলারের মতো ব্যাটার। রাজস্থানকে আটকাতে হলে তাঁকেই যে তাড়াতাড়ি ফেরাতে হবে সে ব্যপারে কোনও সন্দেহ নেই। মুম্বইয়ের ছকও হয়ত তেমনই ছিল।

বাটলারকে তাড়াতাড়ি ফেরাতে অবশ্য তারা পারেননই ঠিকই, কিন্তু মুম্বইয়ের বোলারদের বুদ্ধিদীপ্ত এবং হিসাবী বোলিং কিন্তু বাটলারকে নিজের খেলা খেলতেও দেয়নি এদিন। বাটলার ৬৭ রান করলেও, বড় পার্টনারশিপ করার জন্য সঙ্গে কাওকেই পাননি। দেবদূত পাড়িক্কল, সঞ্জু স্যামসন থেকে হেটমায়ার এবং রিয়ান পরাগরা সকলেই বেশীক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। বাটলার একা লড়াইটা চালানোর চেষ্টা করলেও ৬৭ রানে থামতে হয় তাঁকে। তিনি যখন সাজঘরে ফেরেন তখন রাজস্থান রয়্যালসের রান ১২৬। সেখান থেকে আর মাত্র ৩২ রানই যোগ করতে পেরেছিলেন রাজস্থানের বাকি ব্যাটাররা। ১৫৮ রানেই শেষ হয় রাজস্থান রয়্যালসের ইনিংস।

কম রানের লক্ষ্য ঠিকই, কিন্তু ডি ওয়াই পটেলের পিচ এদিন ছিল বোলারদের পক্ষেই। শুরুতেই ২৩ রানের মধ্যে রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ইশান কিষাণ খানিকটা আক্রমণাম্তক থাকলেও ২৬ রানে ফিরতে হয় তাঁকেও। সেইসময় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের রান ২ উইকেটে ৪২। রাজস্থান বোলারদের ক্রমশই চাপ বাড়ানোর কৌশল তখন। সেই জায়গা থেকে ফের মুম্বইয়ের ত্রাতা সেই সূর্যকুমার যাদব। তিলক বর্মাকে নিয়ে তিনি যদি ৮১ রানের সেই পার্টনারশিপটা না গড়তেন, তবে হয়ত এদিনও মুম্বইয়ের জয়ের আশা অধরাই থেকে যেত।

৩৯ বলে সূর্যকুমার যাদব ৫১ রান করে এওদিন সাজঘরে ফেরেন। তাঁর গোটা ইনিংসে রয়েছে ৫টি বাউন্ডারি এবং দুটো ওভার বাউন্ডারি। তবে সূর্য যেসময় আউট হয় ততক্ষণে ম্যাচ মুম্বইয়ের হাতে। তিলকও সূর্যকুমারের পরেই মাঠ ছাড়েন। বাকিটা কায়রণ পোলার্ড ও টিম ডেভিডই সামলে দেন। আইপিএলের মঞ্চে প্রথমবারের জন্য জয়ের হাসি দেখা যায় রোহিত শর্মার মুখে।

close whatsapp