রাহুলের যোগ্য নেতৃত্ব ও বোলারদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সে পঞ্জাবকে হারিয়ে তিন নম্বরে লখনউয়ের জায়ান্টসরা

Lucknow Super Giants
Lucknow Super Giants. (Photo Source: IPL/BCCI)

পুণেতে এদিন ব্যাটাররা নয়, বাজিমাত করলেন বোলররা। দুই দলেরই বোলারদের হাত থেকে দেখাগেল দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স। যদিও শেষপর্যন্ত বাজিমাত করলেন লখনউ সুপার জায়ান্টস বোলাররাই। কম রান নিয়ে মাঠে নামলেও, মহসিন খান, ক্রুণাল পান্ডিয়া এবং দুশমন্ত চামিরাদের দুর্ধর্, লড়াইয়ের সামনে শেষপর্যন্ত হাল মানতেই হল পঞ্জাব কিংসকে। গতবার যে দলের অধিনায়ক ছিলেন, সেই দলকেই হারিয়ে যেন মধুর প্রতিশোধ নিলেন লোকেশ রাহুল। পঞ্জাব কিংসকে ২০ রানে হারাল লখনউ সুপার জায়ান্টস।

লখনউ সুপার জায়ান্টস এদিন মাত্র ১৫৩ রান সঙ্গে নিয়ে লড়াইে নেমেছিল। তাদের বিরুদ্ধে এদিন বল হাতে ক্রজে আগুব ঝড়িয়েছিলেন কাগিসো রাবাডায এই ম্যাচ জিততে তেমনই একটা দুর্ধর্ষ বোলিং পারফরম্যান্স দেখাতে হত লখনউ সুপার জায়ান্টসকেও। ক্রুণাল পান্ডিয়া. নহসিন খান এবং দুশমন্ত চামিরা-রা সেটাই করে দেখাতে পেরেছেন। যথাযথ টিম গেমেই এদিন পঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে দিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। গতবার এই পঞ্জাবকে নেকৃত্ব দিলেও এবার লোকেশ রাহুলের ওপর ভরসা রাখেনি পঞ্জাব কিংস।

পঞ্জাব কিংসকে হারিয়ে আইপিএলের পয়েন্ট টেবিলে তিন নম্বরে উঠে এল লখনউ সুপার জায়ান্টস

সেই সিদ্ধান্ত যে কটা ভুল ছিল, সেটা হয়ত এদিন মাঠে দাঁড়িয়েই প্রাক্তন দলকে বুঝিয়ে দিলেন লোকেশ রাহুল। টস জিতে এগিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন পঞ্জাব অধিনায়ক ময়াঙ্ক আগরওয়াল। শুরু থেকেই লক্ষ্য ছিল লোকেশ রাহুল এবং কুইন্টন ডিকক-কে বড় রান করতে না দেওয়া। ৬ রানের মধ্যেই লোকেশ রাহুলকে ফিরিয়ে দেন কাগিসো রাবাডা। সেইসঙ্গেই লখনউকে আরও চেপে ধরে পঞ্জাব বোলাররা। কুইন্টন ডিকক এবং দীপক হুডা ক্রিজে থাকলেও, পঞ্জাব বোলারদের দাপটে সেভাবে আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলতে পারেননি।

তারা ৮৫ রানের পার্টনারশিপ করেছিল ঠিকই, কিন্তু অনেকটাই ধীর গতিতে। কুইন্টন ডিকক ৪৬ রানে  সাজঘরে ফেরেন এবং দীপক হুডা থামেন ৩৪ রানে। আর সেইসঙ্গেই লখনউয়ের রানের গতি আরও কমে যায়। আর সৌজন্যে একজনই কাগিসো রাবাডা। তিনি একাই এদিন লখনউয়ের চারটি উইকেট তুলে নেন। মাত্র ৩৮ রান দিয়ে লোকেশ রাহুল, ক্রুণাল পান্ডিয়া, চামিরা এবং বাদোনিদের সাজঘরে ফিরিয়ে দেন তিনি। লখনউ সুপার জায়ান্টস থেমে যায় ১৫৩ রানে।

আইপিএলের মঞ্চে জয়ের জন্য সহজ লক্ষ্য তখন পঞ্জাব কিংসদের সামনে। কিন্তু লোকেশ রাহুলদের শিবিরও এদিন ছিল হার না মানা মনোভাব। ময়াঙ্ক আগরওয়াল শুরুটা আক্রমণাত্মক করার চেষ্টা করলেও ২৫ রানে তাঁকে থামিয়ি দেন দুশমন্ত চামিরা। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধওয়ানকে ফেরান রবি বিষ্ণোই। আর সেই থেকেই পঞ্জাবের বিরুদ্ধে চাপ বাড়ানোর কৌশল লোকেশ রাহুলের। যে লিভিংস্টোনকে সবচেয়ে বেশী ভয় ছিল. তাঁকে ফিরিয়ে দিয়ে লখনউ শিবিরকে ৫০ শতাংশ স্বস্তি এনে দেন মহসিন খান। আর শেষের দিকে বেয়ারস্টোকে দুশমম্ত চামিরা তুলে নিতেই লখনউয়ের জয় কার্যত নিশ্চিত।

এদিন লখনউ বোলারদের হিসাবী বোলিং এবং লোকেশ রাহুলের বুদ্ধিদীপ্ত নেতৃত্বের কাছে হার মানতেই হয় পঞ্জাব কিংসকে। মহসিন খান একাই নেন তিনটি উইকেট। এছাড়া দুটো করে উইকেট পান ক্রুণাল পান্ডিয়া এবং দুশমন্ত চামিরা। লখনউয়ের ১৫৩ রান তাড়া করতে নেমে ১৩৮ রানেই থামতে হয় পঞ্জাব কিংসকে।

close whatsapp