হার্দিক পান্ডিয়া ঝড়ে রাজস্থানকে উড়িয়ে আইপিএলের শীর্ষে গুজরাত টাইটান্স

Hardik Pandya
Hardik Pandya. (Photo Source: IPL/BCCI)

এমনই একটা ইনিংসের অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। অবশেষে আইপিএলের মঞ্চে ফের এবার দেখা গেল হার্দিক পান্ডিয়া ঝড়। আর তাতেই জয়ের রাস্তায়  গুজরাত টাইটান্স। দুর্ধর্ষ রাজস্থান রয়্যালসকে ৩৭ রানে হারিয়ে দিল গুজরাতের টাইটান্সরা। দলকে জেতানোর সঙ্গে হয়ত সমস্ত সমালোচকদের এবার জবাবটাও দিয়ে দিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ৫২ বলে ৮৭ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলে ম্যাচের নায়কের তকমাটাও নিয়ে নিলেন তিনি। শুধু ব্যাট হাতেই নয়, বল হাতেও আরও একবার গর্জে উঠলেন তিনি।

ফের হার্দিককে ব্যাট ও বল হাতে স্বচ্ছন্দে দেখা না গেলে ভারতীয় দলের ফেরার তাঁর কোনও সুযোগ নেই। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দল ঘোষণার পর এমনই মন্তব্য শোনা গিয়েছিল ভারতীয় দলের প্রধান নির্বাচকের মুখে।  সেই থেকেই হয়ত জবাব দেওয়ার একটা অপেক্ষা করছিলেন হার্দিক পান্ডিয়া। এবার গুজরাত টাইটান্সের অধিনায়ক হয়েছেন তিনি। প্রথম ম্যাচ থেকেই বল হাতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। উইকেটও পেয়েছেন হার্দিক। কিন্তু বড় রানটা পাচ্ছিলেন না। রাজস্থানের বিরুদ্ধে ৮৭ রানের বিরাট ইনিংস খেলে সেই জবাবটাও বাইশগজ থেকেই দিয়ে দিলেন তিনি।

আইপিএলের মঞ্চে অলরাউন্ডার হিসাবে ফের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স হার্দিক পান্ডিয়ার

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাজস্থান রয়্যালস অধিনায়ক সঞ্জু স্যামসন। গুজরাতকে শুরু থেকেই চাপে রাখতে চেয়েছিলেন তিনি। ১৫ রানের মধ্যে ২ উইকেট তুলে নিয়ে সেই কাজটাও গুজরাত বোলাররা একেবারে পরিকল্পনা অনুযায়ীই করেছিলেন। কিন্তু হার্দিকের ব্যাট যেদিন চলবে, সেদিন যে কোনও পরিকল্পনাই সফল হবে না, তা এদিন ফের বুঝে গেল সকলে।  ওয়েড, শুভমন গিল ওবং বিজয় শঙ্কর তিনজনই এদিন ব্যর্থ হয়ে ফিরে গিয়েছেন। সেই থেকেই ক্রিজে দলের হাল ধরা শুরু।

শুরু থেকে অবশ্য তেমন আক্রমণাত্মক ছিলেন না হার্দিক। একটু ঠান্ডা মাথাতেই এদিন খেলা শুরু করেছলেন তিনি। সময় যত এগিয়েছে ততই ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে এদিন হার্দিক পান্ডিয়া। আর সেইসঙ্গেই শুরু করেছিলেন তান্ডব। তাঁকে আউট করার সাধ্য এদিন রাজস্থানের কোনও বোলারের পক্ষেই সম্ভব ছিল না। হার্দিক পান্ডিয়ার গোটা ইনিংস জুড়ে রয়েছে চারটি ওভার বাউন্ডারি এবং ৮টি বাউন্ডারি। আর তাঁর সঙ্গে সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত অভিনব মনোহর এবং ডেভিড মিলারের। শেষ মুহূর্তে মিলারের ১৪ বলে ৩১ রানে গুজরাত টাইটান্স করে ১৯২ রান।

বড় রান করলেও, রাজস্থান শিবিরেও রয়েছে তারকা ব্যাটাররা। বাটলার, সঞ্জু স্যামসন, ফানডার ডুসেন এবং শিমরণ হেটমায়ারদের মতো বিধ্বংসী ব্যাটাররা।  যাদের মধ্যে একজন দাঁড়িয়ে গেলেই ম্যচের মোর ঘুরে যেতে পারে। কিন্তু গুজরাত বোলাররাও এদিন বল হাতে যথেষ্ট সাবধান ছিলেন। যদিও ব্যাট হাতে জস বাটলার এদিনও কিন্তু শুরুটা ভালই করেছিলেন। কিন্তু ৫৪ রানেই তাঁকে থামিয়ে দেন লোকি ফার্গুসন।  ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগে হার্দিক পান্ডিয়াই সঞ্জু স্যামসনকে রান আউট করে প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দেন। তখনও অবশ্য ক্রিজে ছিলেন শিমর হেটমায়ার।

আইপিএলের লিগ টেবিলে শীর্ষে পৌঁছে গেল হার্দিক পান্ডিয়ার গুজরাত টাইটান্স

মহম্মদ সামি তাঁকে সাজঘরে ফেরাতেই গুজরাতের জয় কার্যত পাকা। তখনও নিশাম ছিলেন, অধিনায়ক হার্দিকই তাঁকে প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখিয়ে গুজরাতকে কাঙ্খিত জয় এনে দেন।

close whatsapp