কামিন্স ঝড়ে তছনছ রোহিতের মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, ৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষ নাইটরা

Pat Cummins and Venkatesh Iyer
Pat Cummins and Venkatesh Iyer. (Photo Source: IPL/BCCI)

নাইট জার্সিতে আইপিএলের প্রথম ম্যাচে নেমেই বাজিমাত প্যাট কমিন্সের। তিনি শুধু এলেনই না, নাইটদের খাদের কিনারা থেকে ম্যাচও জিতিয়ে দিলেন প্যাট কামিন্স। আইপিএলের মঞ্চে দ্বিতীয় দ্রুততম অর্ধশতরান করে প্রথম ম্যাচেই সেরার পুরষ্কারটাও জিতে নিলেন তিনি। কামিন্স ঝড়ে উড়ে গেল রোহিত শর্মার মুম্বই ইন্ডয়ান্স। সমস্ত হিসাব নিকাশ বদলে দিয়ে তিন ওভারে নাইট রাইডার্সকে জিতিয়ে দিলেন  কামিন্স। পাঁচ উইকেটে মুম্বইকে হারাল কেকেআর। আর তা দেখেই এখন সকলে মুগ্ধ।

আইপিএলে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের সঙ্গে পরিসংখ্যানের বিচারে বহু পিছিয়ে রয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এদিন কী পরিসংখ্যান শ্রেয়স আইয়াররা বদলাতে পারবেন। ম্যাচের একটা সময় পর্যন্ত মনে হচ্ছিল নাইট রাইডার্স হয়ত পারবে না। কিন্তু কামিন্সের একটা ঝোরো ইনিংস এদিন গোটা ম্যাচের চিত্রটা ঘুরিয়ে দিয়েছে। চার ওভার বাকি থাকতেই নাইট রাইডার্সকে ম্যাচ জিতিয়ে দেন প্যাট কামিন্স। ১৫ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে এদিন মাঠে শুধুই দেখা গেল ছয়ের বন্যা। রোহিত, শ্রেয়সদের মায়ক হয়ে ওঠার মঞ্চে এদিনের নায়কের মুকুট মাখায় তুললেন প্যাট কামিন্সই।

আইপিএলের মঞ্চে যুগ্ম দ্রুততম অর্ধশতরানের মালিক প্যাট কামিন্স

ম্যাচে যে এমন কিছু একটা অপেক্ষা করছে তা হয়ত রোহিত শর্মাও ভাবতে পারেননি। টস দিতে এদিন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকেই  প্রথম ব্যাটিংসের সুযোগ দিয়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। শুরু থেকেই মুম্বইকে চাপে রাখার কৌশল ছিল তদের। আর সেই পরিকল্পনাতে নাইট রাইডার্সের প্রধান অস্ত্র ছিলেন উমেশ যাদব। শুরুতেই রোহিত শর্মাকে ফিরিয়ে দিয়ে আসল কাজটা করে দিয়েছিলেন তিনি। ইশান কিষাণকেও ১৪ রানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন প্যাট কামিন্স। এদিনই কামিন্স প্রথমবার নাইট জার্সিতে মাঠে নেমেছিলেন।

তিলক বর্মার ক্যাচ অজিঙ্ক রাহানে এদিন মিস না করলে, মুম্বই হয়ত দেড়শো রানের গন্ডীও টপকাতে পারত না। কিন্তু তা হয়নি। সূর্যকুমার যাদবের সঙ্গে তাঁর পার্টনারশিপটাই  মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে খেলায় ফিরিয়েছিল। সূর্যকুমার করেন ৫২ রান এবং তিলক বর্মা করেন ৩৮ রান। আর শেষ মুহূর্তে পোলার্ডের ৫ বলে ২২ রানে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স করে ১৬১ রান।

আইপিএলের মঞ্চে সেই রান তাড়া করে জেতাই যায়। কিন্তু নাইট ব্যাটাররাও এদিন শুরু থেকে খানিকটা অগোছালো ছিল। ৩৫ রানের মধ্যেই দলের সেরা দুই তারকা অজিঙ্ক রাহানে ও অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার ফিরে যান। স্যাম বিলিংস আক্রমণাত্মক খেললেও ১৭ রানে থামতে হয় তাঁকেও। এরপর আন্দ্রে রাসেলও ব্যর্থ।  ৫ বলে ১১ রান করে তিনিও ফিরে যান। ওপেন করতে নেমে ক্রিজে তখনও টিকে ছিলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। কিন্তু নাইটদের রান তখন ৪ উইকেটে ১০১। ক্রমশই তখন দাঁত নখ বের করে নাইটদের ওপর আক্রমণের থাবাটা আরও জোরালে করছে মুম্বই ইন্ডিয়ানম্স। কিন্তু এরপরই যে ম্যাচের আসল ক্লাইম্যাক্সটা বাকি রয়েছে, তা হয়ত রোহিত শর্মাও বুঝতে পারেননি। মাঠে আসেন প্যাট কামিন্স।

মুম্বই ইন্ডিয়ান্সকে হারিয়ে লিগ টেবিলের শীর্ষ কলকাতা নাইট রাইডার্স

আর ক্রিজে পা রাখা থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন তিনি।  তাঁর ব্যাটিংয়ের শুরুটাই করেন ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। অবশ্যই ভেঙ্কটেস আইয়ারের যোগ্য সঙ্গদ ছিল এদিন। কিন্তু কামিন্স যেন অন্য মেজাজেই ছিলেন। চাপের মুহূর্তে যে অভিজ্ঞতাই শেষ কথা সেটাও আরেক দিকে দাঁড়িয়ে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে পাঠ দিয়ে গেলেন।

বুমরাহ থেকে বুমরাহ থেকে টাইমাল মিলস, কামিন্সের তান্ডবের সামনে সকলেই উড়ে গেলেন। একের পর এক বল তাঁর সামনে পড়ছে আর দায়িত্ব নিয়ে সেগুলোকে বাউন্ডারির বাইরে পাঠিয়ে দিচ্ছেন প্যাট কামিন্স। মাত্র ১৪ বলেই অর্ধশতরান করে ফেলেন প্যাট কামিন্স। গোটা ইনিংস জুড়ে একাই মেরেছেন ৬টি ওভার বাউন্ডারি। চার রয়েছে ৪টি। চার ওভার বাকি থাকতেই নাইট রাইডার্সকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তনি। ১৫ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলে কামিন্সি যে ম্যাচের সেরা নায়ক তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

close whatsapp