দীনেশ কার্তিক ও শাহবাজ আহমেদের ঝোরো পার্টনারশিপে রাজস্থানের জয়ের রথ থামাল বেঙ্গালুরুর চ্যালেঞ্জার্সরা

Harshal Patel and Yuzvendra Chahal
Harshal Patel and Yuzvendra Chahal. (Photo Source: IPL/BCCI)

দীনেশ কার্তিক ও শাহবাজ আহমেদের ঝোরো পার্টনারশিপের সঞ্জু স্যামসনদের জয়ের রথ থামিয়ে দিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এদিন ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দুই রয়্যালসদের লড়াইয়ে শেষ হাসি ফুটল চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়কের মুখেই। আবারও সেই দীনেশ কার্তিক। তিনি যে সত্যিই একজন যোগ্য ফিনিশার, তা এদিন রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ফের হয়ত বুঝিয়ে দিলেন তিনি। আর নাইট রাইডার্স এবার তাঁকে ছেড়ে যে ভুল করেছেন তাও এখন হয়ত বুঝতে পারছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ৪ উইকেটে দ্বিতীয় জয় তুলে নিল।

এবারের আইপিএল শরু হওয়ার আগেই দীনেশ কার্তিক তাঁর লক্ষ্যের কথা জানিয়েছিলেন। বেঙ্গালুরুর হয়ে ফিনিশারের ভূমিকা পালন করতে চেয়েছিলেন তিনি। পরপর তিন ম্যাচে সেটাই করেদেখালেন দীনেশ কার্তিক। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধেও তাঁর পারফরম্যান্সের জেরেই প্রথম জয় পেয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। তেমনই রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধেও তিনি চ্যালেঞ্জার্সদের ত্রাতা। চাহাল, নভদীপ সাইনির লড়াই তিনি একাই ব্যর্থ করে দিলেন। নিশ্চিত হারের মুখ থেকে দলকে শুধু বাঁচালেনই নয়, একটা অসাধারণ ইনিংসও এদিন উপহার দিলেন সকলকে।

আবারও ফিনিশারের ভূমিকায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে জেতালেন দীনেশ কার্তিক

টস জিতে এদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরু থেকেই যথেষ্ট হিসাবী বোলিং করেছেন সিরাজ,  হর্শাল পটেলদের।  শুরুতেই যশস্বী জয়সওয়ালকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন ডেভিড উইলি। জস বাটলারের দুটো ক্যাচ মিস না হলে, তিনিও হয়ত তাড়াতাড়িই সাজঘরে ফিরে যেতেন এদিন। কিন্তু তা হয়নি। বরং দেবদূত পাড়িকল্লের সঙ্গে একটা ভাল পার্টনারশিপ গডে তোলেন তিনি। যদিও ৩৭ রানেই থামতে হয় পাড়িক্কলকে। এরপরই সঞ্জু স্যামসনই আউট ৮ রানে। ক্রিজে থাকলে, ততটা আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার সাহস তখন দেখাতে পারেননি জস বাটলার।

বাকি সময়টা শিমরণ হেটমায়ারকে নিয়ে খেলা শুরু করেন তিনি। দুই বিধ্বংসী তারকাই তখন যথেষ্ট সাবধানী ছিলেন। সময় ক্রমশই বেড়িয়ে যায়। শেষের দিকে বাটলারের খানকটা আক্রমণাত্মক খেলায় রাজস্থান রয়্যালস পৌঁছয় ১৬৯ রানে। বাটলার করেন ৪৭ বলে ৭০ রানের ইনিংস।  ওয়াংখেড়ের পিচে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সামনে তখন লক্ষ্য ১৭০ রান।

বিরট কোহলিদের বিরুদ্ধে এদিন শুরু থেকেই তেতে ছিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে দুর্ধর্ষ বোলিং করে তিনিই ম্যাচটা জেতাতে চেয়েছিলেন তিনি। সেই পরিকল্পনা প্রায় সফলও হয়ে এসেছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে দীনেশ কার্তিকের ইনিংসই রাজস্থানের সমস্ত আশা শেষ করে দেয়। বেঙ্গালুরু শুরুটা ভাল করলেও, যজবেন্দ্র চাহালের এক ওভারেই যেন হঠাত্ খেলা বদলে যায়। প্রথমে ডুপ্লেসিকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপরই এক ওভারে বিরাট কোহলিকে রান আউট ও ডেভিড উইলিকে সাজঘরে ফিরিয়ে, ম্যাচের হাল রাজস্থানের দখলে এনে দেন তিনি। মাঝে নভদীপ সাইনির উইকেট। আর ৬২ রানের মধ্যে চার উইেট খুইয়েই চাপে পড়ে যায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও।

আনক্যাপড ক্রিকেটার হিসাবে বেঙ্গালুরুর জয়ের নেপথ্য কারিগড় বাংলার শাহবাজ আহমেদ

সেই সময় থেকেই বেঙ্গালুরুর হাল ধরেন শাহবাজ আহমেদ। আর সেই থেকেই মাঠে শুরু দীনেশ কার্তিকের ঝড়। দুই তারকার ব্যাট থেকেই তখন বাউন্ডারি আর ওভার বাউন্ডারির ঝড়। নঙদীপ সাইনির এক ওভারেই এদিন ম্যাচের অবশ্য ঘুরিয়ে দেন দীনেশ কার্তিক। তিনি যে সত্যিই একজন যোগ্য ফিনিশার তা ফের বুঝিয়ে দিলেন এই দক্ষিণি তারকা ক্রিকেটার। ২৩ বলে ৪৪ রানের বিধ্বংসী পারফরম্যান্স খেলেন দীনেশ কার্তিক। তাঁর গোটা ইনিংসে ৭টা চার এবং একটি ছয় রয়েছে। অন্যদিকে শাহবাজ আহমেদের ৪৫ রানের ইনিংসটি সাজানো ৪টি বাউন্ডারি ও ৩টি ছয় দিয়ে। ।দিও শেষ পর্যন্ত ক্রিজে টিকে থাকতে পারেননি শাহবাজ আহমেদ।

পাঁচ বল বাকি থাকতেই এদিন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে তাদের কাঙ্খিত জয় এনে দেন দীনেশ কার্তিক।

close whatsapp