লোকেশ রাহুলের ক্যাপ্টেনস নক ও আভেশের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে হায়দরাবাদ বধ লখনউ সুপার জায়ান্টসের

Lucknow Super Giants
Lucknow Super Giants. (Photo Source: IPL/BCCI)

লোকেশ রাহুলের ক্যাপ্টেন্স নক ও আভেশ খানের চার উইকেট। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয় লখনউ সুপার জায়ান্টসের। ম্যাচের শেষ ওভার পর্যন্ত টানটান উত্তেজনা। শেষপর্যন্ত লোকেশ রাহুলের মুখেই ফুটল জয়ের হাসি। ডি ওয়াই পটেল স্টেডিয়ামে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে এদিন রানে হারিয়ে আইপিএলের মঞ্চে দ্বিতীয় জয় তুলে নিল লখনউ সুপার জায়ান্টস। যদিও এদিনের ম্যাচের শুরুতে রাহুল ও দীপক হুডার ৮৭ রানের পার্টনারশিপটাই লখনউয়ের জয়ের ভিতটা বোধহয় গড়ে দিয়ে এসেছিলেন।

প্রথম দুই ম্যচেই এবার প্রত্যাশা মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেননি লোকেশ রাহুল। যদিও তাঁর ওপর সকলে ভরসা রেখেছিল। ম্যাচের দিনও লোকেশ রাহুলকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গিয়েছিল সুনীল গাভাসকরের মুখে। তিনি যে এতটুকু ভুল ছিলেন না তা এদিন মাঠে নেমে বুঝিয়ে দিলেন লোকেশ রাহুল। কঠিন সময়ে দলের হালই শুধু ধরলেন না, দীপক হুডার সঙ্গে তাঁর পার্টনারশিপটাই এদিন লখনউ সুপার জায়ান্টসের জয়ের রাস্তাটা তৈরি করে দিয়েছিল।

সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে আইপিএলের দ্বিতীয় জয় পেল লখনউ সুপার জায়ান্টস

আর সই পথে হেঁটেই লখনউ সুপার জায়ান্টসকে একটা পারফেক্ট জয় এনে দিলেন আভেশ খান। টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সানরাইজার্স হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। আর পরিকল্পনা মাফিক শুরুটাও তারা ভাল করেছিলেন। ২৭ রানের মধ্যে তিন উইকেট খুইয়ে চাপে পড়ে গিয়েছল লখনউ সুপার জায়ান্টস। ডিকক এবং এবং লুইস দুজনেই ফেরেন ১ রানে। মনীশ পান্ডে এদিনও ব্যর্থ। তিনি করেন মাত্র ১১ রান। রীতিমত চাপে পড়ে গিয়েছিল সেই সময় লখনউ।

সেই কঠিন পরিস্থিতি থেকেই দলকে টেনে তোলার কাজটা শুরু করেন লোকেশ রাহুল। সঙ্গে দীপক হুডা। ধীরে ধীরে তাদের পাল্রটনারশিপটাই যেন ম্যাচের রাশ উইলিয়ামসনদের হাত থেকে হাল্কা করতে শুরু করে। লোকেশ রাহুল ও দীপক হুডা এদিন ৮৭ রানের পার্টনারশিপ তৈরি করেন। এরপরই দীপক হুডা ফেরেন ৩৩ বলে ৫১ রানের ইনিংস খেলে। সেই সময় লখনউয়ের রান  ১১৪ রান। যদিও লোকেশ রাহুলের ব্যাট সেই সময় আর থেমে থাকেনি। তাঁর হাত ধরেই প্রায় দেড়শোর গন্ডীতে পৌঁছে যায় লখনউ সুপার জায়ান্টস। ৫০ বলে ৬৮ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেন লোকেশ রাহুল। তাঁর অধিনায়কোচিত ইনিংসটি এদিন সাজানো  ৬টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে। লখনউ সুপার জায়ান্টস করে ১৬৯ রান।

টি টয়োন্টির মঞ্চে এই রান তাড়া করে জেতাটা হয়ত খুব একটা কঠিন নয়। অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ থেকেঅ লখনউ এবার লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এদিনও তাদের বল হাতে সেই মানসিকতার ছবিই দেখা গেল তাদের মধ্যে। সেখানেই এদিন বল হাতে হায়দরাবাদের সামনে তান্ডব চালালেন আভেশ খান। সেইসঙ্গে লোকেশ রাহুলের যোগ্য অধিনায়কত্ব তো রয়েছেই।

একাই চার উইকেট নিয়ে এদিন ম্যাচের সেরা আভেশ খান

শুরুতেই দুই ওপেনারকে এদিন সাজঘরের রাস্তাটা দেখিয়ে দিয়েছিলেন আভেশ খান। হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনকে ১৬ রানে থামান তিনি। এরপরই অভিষেক শর্মাকেও সাজঘরের রাস্তাটা দেখিয়ে দেন। রাহুল ত্রিপাঠি অবশ্য এদিন লড়াইটা চালানোর চেষ্টা করেছিলেন। মার্করামকে নিয়ে পার্টনারশিপও গড়ার কাজটা শুরু করেছিলেন। সেই সময় লখনউয়ের ত্রাতা  আবার ক্রুণাল পান্ডিয়া। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগেই মার্করামকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপরই রাহুল ত্রিপাঠিও ছিলেন কিছুক্ষণের অতিথি। তাঁকেও প্যাভিলিয়নের রাস্তা দেখান সেই ক্রুণাল পান্ডিয়া।

তখনও ম্যাচ পুরোপুরি লখনউ সুপার জায়ান্টসের হাতে আসেনি। আবার লোকেশ রাহুলের ত্রাতা সেই আভেশ খান। নিকোলাস পুরাণ ও আব্দুল সামাদের উইকেট তুলে নিয়ে লখনউয়ের জয় নিশ্চিত করে দিয়ে আসেন তিনি। ১৫৭ রানেই থামতে হয় সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে। দুই ম্যাচ জিতে চার পয়েন্ট তুলে নিল লখনউ সুপার জায়ান্টস।

close whatsapp