রাতের ইডেনে সূর্যদয় যাদবের, ছয় উইকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারাল ভারত

India vs West Indies
India vs West Indies. (Photo Source: Twitter)

ব্যাট হাতে রোহিত শর্মা শুরুটা ভাল করে দিয়ে গেলেও, ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচ বেশ কষ্ট করেই জিততে হল ভারতকে।  ব্যাট হাতে আবারও ব্যর্থ বিরাট কোহলি। আবারও সেই সূর্য কুমারের যাদবের ব্যাটেই মানরক্ষা ভারতের। শেষপর্যন্ত থেকে চাপের মুহূর্তে ১৮ বলে ৩৪ রানের দুরন্ত ইনিংস খেলে ম্যাচ জেতালেন ভারতকে।কিন্তু মিডল অর্ডারের ব্যর্থতার চিন্তাও পিছু ছাড়ছে না ভারতীয় দলের। যদিও শেষপর্যন্ত কোনওরকমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিতল ভারত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ৬ উইকেটে জিতল টিম ইন্ডিয়া।

দর্শকহীন ইডেন গার্ডেন্স। প্রখমবার ইডেনের গ্যালারীতে নেই দর্শকের গর্জন। নিঃশব্দে হয়ে গেল ভারত বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম টি টোয়েন্টি ম্যাচ। নিউ নর্মালে অবশ্য এটাই এখন চেনা দৃশ্য। পোলার্ড, নিকোলাস পুরাণ এবং রোহিত শর্মাদের চার ছক্কা থাকলেও, এদিন ইডেনে সেই গর্জন দেখা গেল না। তার মধ্যেই প্রথম ম্যাচ অবশ্য জিতে নিল ভারতীয় দল। যদিও শেষপর্যন্ত সূর্যকুমার যাদব না থাকলে হয়ত সেটা হত না।

একদিনের সিরিজ জয়ের পর ভারতের সামনে লক্ষ্য এবার টি টোয়েন্টি সিরিজেও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানো। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে বুধবার ক্যারিবিয়ান ব্রিগেডের বিরুদ্ধে যাত্রা শুরু করেছিল ভারত। টস জিতে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মার। ইডেনে রাতের দিকে শিশির পড়ে, বোলিংয়ে সমস্যা হতে পারে, এই সমস্ত কিছু চিন্তা করেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি।

বল হাতে ভারতীয় বোলাররা যে খুব একটা খারাপ পারফরম্যান্স করেছেন এমনটা একেবারেই বলা যায়না। তবে পেসারদের থেকে ইডেন গার্ডেন্সে এদিন ভারতীয় স্পিনাররাই বেশী সফল। তিন স্পিনারের দখলে যায় পাঁচ উইকেট। আর দুই পেসার মিলিয়ে পান ২ উইকেট। যদিও ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এদিন প্রথম ধাক্কাটা দেন ভুবনেশ্বর কুমার। প্রথম ওভারেই মাত্র ৪রানে ব্রেন্ডন কিংকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন ভুবি। যদিও এরপর বেশ দলের রান ভালভাবেই এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন নিকোলাস পুরাণ ও কাইল মেয়ার্স।

সূর্যকুমার যাদবের শেষ মুহূর্তে ১৮ বলে ৩৪ রানে ইনিংসেই প্রথম টি টোয়েন্টি জয় ভারতের

সেই সময়ই ভারতের স্পিন আক্রমণ। প্রথম পার্টনারশিপ ভাঙার কাজটা করেন য়ুজবেন্দ্র চাহাল। মেয়ার্সকে ফিরিয়ে দেন তিনি। এরপরই অভিষেক ম্যাচেই চমক রবি বিষ্ণোইয়ের। রভম্যান পাওয়েল ও রসটন চেসকে ফিরিয়ে দিয়ে ক্যারিবিয়ান ব্রিগেডকে চাপে ফেলে দেন তিনি। কিন্তু নিকোলাস পুরাণ তখনও মাঠে ছিলেন। এরপরই আকিল হোসেনকে সাজঘরে ফিরিয়ে দেন দীপক চাহার। এরপর অধিনায়ক পোলার্ডের সঙ্গে জুটি বেধে পুরাণের খানিকটা ঝোরো ইনিংস। আর তাতেই দেড়শো রানের গন্ডী টপকাতে পারে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ৭ উইকেটে ১৫৭ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

ব্যাট হাতে শুরু থেকেই এদিন বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন রোহিত শর্মা। তাঁর একের পর এক বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি দেখে একটা সময় মনে হচ্ছিল খুব তাড়াতাড়িই হয়ত ম্যাচটা শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু রোহিত শর্মা  ১৯ বলে ৪০ রানের ইনিংস খেলে সাজঘরে ফিরতেই বদলে যায় চিত্রটা। রোহিতের ৪০ রানের ইনিংসটা সাজানো ৪টি টার ও ৩টি ছয় দিয়ে।

এরপর ক্রীজে লড়াইটা চালাচ্ছিলেন বিরাট কোহলি ও ইশান কিষাণ। হয়ত ইডেন গার্ডেন্সে এদিনই বিরাটকে রানে ফিরতে দেখতে চেয়েছিলেন তাঁর ভক্তরা। কিন্তু তা হল না। ইশান কিষাণ ৩৫ রানের কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাগ আউটে ফেরেন বিরাট কোহলিও। ছয় মারার চেষ্টা করলেও বাউন্ডারি লাইনে ক্যাচ আউট হন তিনি। বিরাট করেন ১৭ রান। এরপরই ৮ রানে মাঠ ছাড়েন ঋষভ পন্থ। সেই থেকেই একা হাতে লড়ইটা শুরু সূর্যকুমার যাদবের।

সঙ্গী তখন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। চাপের মুহূর্তে মাতা ঠান্ডা রেখে খেলা চালিয়ে যান তিনি। শর্ট রান ও মাঝেমধ্যে একটা করে বড় শট। সুন্দর প্ল্যানিংয়ে চাপের মুহূর্ত থেকে দলকে টেনে তোলাই শুধু নয়, ইডেন গার্ডেন্সে বছরের প্রথম জয়টাও এনে দিলেন তরুণ সূর্যকুমার যাদব। সিরিজে ১-০-এ এগিয়ে গেল ভারত। শেষটা অবশ্য বড় ছয় মেরে করলেন ভেঙ্কটেশ আইারই।

close whatsapp