আইপিএল ২০২২: যে পাঁচ ক্রিকেটার আরও বেশী দাম পেতে পারতেন
আশা করা হয়েছিল তাঁরা যা পেয়েছেন তার চেয়ে অনেক বেশী দাম পাবেন মেগা নিলামে
আপডেট করা - Feb 14, 2022 5:58 pm

২০০ জনেরও বেশী ক্রিকেটার আইপিএল ২০২২ মেগা নিলামে বিভিন্ন দলে বিক্রি হলেন ১২ ও ১৩ই ফেব্রুয়ারি জুড়ে। যেখানে বেশ কিছু ক্রিকেটারের দাম ১০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। ১৫.২৫ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়া ঈশান কিষাণ ছিলেন আইপিএল ২০২২ মেগা নিলামের সবচেয়ে দামী ক্রিকেটার। দীপক চাহার পেয়েছেন ১৪ কোটি টাকা। কিছু ক্রিকেটারের জন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিরা ১০ কোটি টাকার বেশী অকাতরে খরচ করলেও, আইপিএলের অনেক তারকাই তুলনামূলক সস্তায় বিক্রি হয়েছেন।
যদিও বেশ কিছু ক্রিকেটারের দাম প্রত্যাশা মতো বাড়েনি। যাঁদের মধ্যে অনেকেই আইপিএলে বহুদিনের তারকা। ফ্র্যাঞ্চাইজিদের মধ্যে এসব ক্রিকেটারদের বিশেষ আগ্রহ দেখা যায়নি। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কারা রইলেন এই তালিকায়।
কোন ক্রিকেটাররা আরও বেশী অর্থ পেতে পারতেন
১. ডেভিড ওয়ার্নার (৬.২৫ কোটি টাকা)
নিলামের আগে ডেভিড ওয়ার্নার বেশ কিছু দলের মধ্যে একটি বড় বিডিং যুদ্ধ শুরু হবে, এমন প্রত্যাশা করা হয়েছিল। আইপিএলে ১৫০টি ম্যাচে ওয়ার্নার ৪১.৫৯ গড়ে এবং ১৩৯.৯৬ স্ট্রাইক রেটে ৫৪৪৯ রান করেছেন, বিদেশী ক্রিকেটারদের মধ্যে যা সর্বোচ্চ। তাঁর দখলে চারটি সেঞ্চুরি, যা আইপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। হাফ সেঞ্চুরির (৫৪) সংখ্যায় তিনি সবার আগে।
তিনি যে বেশী দামে বিক্রি হবেন তা আশা করা হয়েছিল, তবে ২ কোটি টাকার বেস প্রাইসের ওয়ার্নারের জন্য দিল্লি ক্যাপিটালস ছাড়া চেন্নাই সুপার কিংস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের মধ্যেই কেবল আগ্রহ দেখা যায়। শেষ অবধি দিল্লি ভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে ৬.২৫ কোটি টাকায় কেনে।
২. যুজবেন্দ্র চাহাল (৬.২৫ কোটি টাকা)
যুজবেন্দ্র চাহাল আরসিবির বোলিং লাইনআপের অন্যতম প্রধান বোলার ছিলেন। তিনি আইপিএল ২০১১ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের অংশ ছিলেন। পরে ২০১৪ সংস্করণে, তাঁকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর দ্বারা বাছাই করা হয়েছিল। সেখান থেকেই তিনি আইপিএলের অন্যতম ঘাতক লেগ-স্পিনার হয়ে ওঠেন। ১১৪টি আইপিএল ম্যাচে ১৩৯টি উইকেট নিয়েছেন।
তাদের হয়ে আট বছর খেলা স্পিনারের জন্য যদিও আরসিবির দিক থেকে কোন আগ্রহ দেখা যায়নি এবং চাহালের জন্য তারা একবারও বিড না করায় অনেকেই অবাক হয়েছেন। রাজস্থান রয়্যালস তাঁকে ৬.৫০ কোটি টাকায় কিনে নেওয়ার আগে মুম্বই এবং দিল্লি তাঁকে নেওয়ার জন্য দর ডেকেছিল কিন্তু কোন দলের মধ্যেই অতিরিক্ত উৎসাহ দেখা যায়নি।
৩. জেসন রয় (২ কোটি টাকা)
আইপিএলের বড় নামের মধ্যে এই নিলামের অন্যতম সস্তা দরের ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের আক্রমণাত্মক ওপেনার জেসন রয়। পিএসএলে দারুণ ফর্মে রয়েছেন রয়। তিনি সম্প্রতি টুর্নামেন্টে একটি সেঞ্চুরিও করেছেন এবং পরের ম্যাচেই বিস্ফোরক ভঙ্গিতে হাফ-সেঞ্চুরি করেছেন।
জেসন রয়ের নামে মাত্র একটি দল বিড করে সঙ্গেসঙ্গেই তাঁকে পেয়ে যায়। গুজরাত টাইটান্স তাঁর ন্যূনতম মূল্য ২ কোটি টাকায় দর ডাকা শুরু করার পর মনে করা হয়েছিলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দলগুলির মধ্যে। তবে সেই বিডটিই একমাত্র দর হিসেবে থেকে যায় এবং টাইটান্স তাঁকে ২ কোটিতেই কেনে। টি-টোয়েন্টিতে রয় মোট ৭১৪২ রান করেছেন ২৭০ ম্যাচে।
৪. মণীশ পাণ্ডে (৪.৬০ কোটি টাকা)
আশ্চর্যজনকভাবে কম দাম পাওয়া নামগুলির মধ্যে একটি হল মণীশ পাণ্ডে। কর্ণাটক ব্যাটারটি ১ কোটি টাকার ন্যূনতম মূল্য নিয়ে নিলামে এসেছিলেন। মণীশ এখনও পর্যন্ত আইপিএলের সমস্ত সংস্করণের অংশ হয়েছেন। ২০০৯ সালে তিনি শিরোনাম হয়েছিলেন যখন তিনি প্রথম ভারতীয় ব্যাটার হিসেবে আইপিএলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। তাঁর আইপিএল কেরিয়ারে তিনি পাঁচটি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন – মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, পুনে ওয়ারিয়র্স ইন্ডিয়া, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ।
মণীশের জন্য তাঁর আগের ফ্র্যাঞ্চাইজি এসআরএইচ এবং দিল্লি ক্যাপিটালসের মধ্যে একটি বিডিং দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছিল, যদিও এসআরএইচ অচিরেই বিডিং প্রত্যাহার করে এবং সেখান থেকে লখনউ বিডিং দ্বন্দ্বে প্রবেশ করে এবং ভারতীয় মিডল অর্ডার ব্যাটারকে মাত্র ৪.৬০ কোটি টাকায় কেনে।
৫. কুইন্টন ডি কক (৬.৭৫ কোটি টাকা)
এই তালিকার শেষ নাম হিসেবে আসবেন দক্ষিণ আফ্রিকান উইকেটকিপার-ব্যাটার কুইন্টন ডি কক। ডি কক মার্কি খেলোয়াড়দের মধ্যে ছিলেন এবং তাঁর ন্যূনতম মূল্য ছিল ২ কোটি টাকা। এই বাঁহাতি ব্যাটার তাঁর পুরো আইপিএল কেরিয়ারে ৭৭টি ম্যাচ খেলেছেন এবং প্রায় ১৩১ স্ট্রাইক রেটে ২২৫৬ রান করেছেন। ডি কক এখনও পর্যন্ত ৪টি ফ্র্যাঞ্চাইজির হয়ে খেলেছেন- সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর ও মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।
আগে ভাবা হয়েছিল যে তাঁর ২০২১ আইপিএলের দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স তাঁকে ফিরিয়ে আনার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করবে। যদিও তাদের দিক থেকে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি এবং সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদ, দিল্লি ক্যাপিটালস ও লখনউ সুপার জায়ান্টসের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত বিডিং যুদ্ধের পরে, লখনউ ফ্র্যাঞ্চাইজি তাঁকে ৬.৭৫ কোটি টাকায় কিনতে সক্ষম হয়।