কাস্টমসের চিঠিতে চাপের মুখে সিএবি

Snehashish Ganguly (Source: X)

স্থানীয় ক্রিকেটে গড়াপেটার অভিযোগ নিয়ে ডামাডোল অব্যাহত বঙ্গ ক্রিকেটে। বুধবার এই নিয়ে সিএবি সভা ডাকলেও কর্তাদের মনোভাব বা কথাবার্তা থেকে মনে হয়নি, এমন তোলপাড় করা অভিযোগ নিয়ে তারা বিশেষ চিন্তিত। এমনকি কঠোর পদক্ষেপের বিষয়েও বিশেষ আশার কথা শোনা যায়নি, কোনো কর্তার মুখে। সিএবি প্রেসিডেন্ট স্নেহাশিস গঙ্গোপাধ্যায় নিজের দাবীতে অনড় থেকে বলেন, অন্য রাজ্য থেকে বাংলায় যে কোনো রকমের ক্রিকেট খেলতে এলে বোর্ডের ‘নো অবজেকশন’ চিঠি লাগবে। তাঁর এই মন্তব্যে বিভ্রান্তি আরো বেড়েছে।

প্রায় তিন ঘন্টা ধরে সভা করেও স্নেহাশীস গঙ্গোপাধ্যায়রা যে কোন দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। তাতেও রাজ্য সংস্থার ভাবমূর্তি মোটেও উজ্জ্বল হচ্ছে না। বল ক্রমাগত ঠেলে দেওয়া হচ্ছে অ্যাপেক্স কাউন্সিলের কোর্টে। কিন্তু টাউন ও মহামেডান স্পোর্টিং, যাদের ম্যাচে গড়াপেটা হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের কি শাস্তি দেওয়া হবে? সেরকম কোনো প্রতিশ্রুতিও আসেনি বোর্ডের তরফে। মহামেডান কর্তারা সবাই এসে নাকি স্বীকার করেছেন ভুল করে একের পর এক দৃষ্টিকটু ভাবে আউট হতে দেখা গেছে। আম্পায়ারের রিপোর্ট এইতো পরিষ্কার লেখা ছিল অক্রিকেটিয় শট খেলে মহামেডানের ব্যাটসম্যানরা আউট হয়েছে। তবু এতো গড়িমসি কেন? স্পষ্ট হয়নি বিষয়টি। বিষয়টি ক্রমাগত ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কাস্টমসের একটি চিঠি আরো বিতর্ক বাড়িয়েছে। একই প্রোটেস্ট হয়েছে, তাঁদের এক খেলোয়াড় অধিরাজ জোহরির বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অন্য রাজ্য থেকে এলেও ‘নো অবজেকশন’ নিয়ে আসেনি।

কাস্টমস সিএবি তে চিঠি জমা দিয়ে বলেছে এই ‘নো অবজেকশন’ দেওয়ার প্রথাটাই তো নেই। দু তিন বছর আগে সিএবি থেকে বোর্ড এর কাছে গোটা বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়েছিল। যেখানে বোর্ড স্পষ্টত জানিয়ে দেয়, অন্য রাজ্য থেকে এসে ক্লাব ক্রিকেট খেলতে হলে নো অবজেকশনের দরকার নেই।

সেইমতো সিএবির নিয়মের বইতেও সংশোধন করা হয়েছিল। এখনকার স্থানীয় ক্রিকেটেও বোর্ডের থেকে এমন কোন চিঠি আর প্রয়োজন হতো না। তাহলে নতুন করে এই নো অবজেকশন সার্টিফিকেট আনার বিষয়টি স্নেহাশিস কী করে বলছেন, এই নিয়ে গুরুতর বিতর্ক ছড়িয়েছে। আশ্চর্যজনকভাবে কাস্টমসের চিঠি নিয়ে সিএবি কর্তারা কার্যত মুখে কুলুপ এঁটেছেন। কেউই কোনও সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ খোলেননি এমন চিঠির ব্যাপারে। তবে গড়াপেটার অভিযোগ নিয়ে তুলাধনা হতে থাকা রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা যে কাস্টমসের চিঠিতে আরো চাপে পড়ে গিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই।

close whatsapp