ব্যাটারদের ব্যর্থতায় দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে বিশ্রী হার ভারতের

Nandre Burger
Nandre Burger. ( Photo Source: PHILL MAGAKOE/AFP via Getty Images )

বিরাট কোহলি একা লড়াইটা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও বাকি ব্যাটারদের চূড়ান্ত ব্যর্থতাই তাঁকে এগিয়ে যেতে দিল না। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে এক ইনিংস ও ৩২ রানে হেরে গেল ভারতীয় দল। নান্দ্রে বার্গার এবং কাগিসো রাবডার বিধ্বংসী পেসের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ল ভারতীয় দল। প্রথম ইনিংসে ২০০ রানের গন্ডী টপকাতে পেরেছিল ভারত। দ্বিতীয় ইনিংসে তো ১৫০ রানে পর্যন্তও পৌঁছতে পারল না তারা। বিরাট কোহলি ৭৬ রান পেলেও, যোগ্য সঙ্গতের অভাবে শেষপর্যন্ত হার মানতেই হল তাঁকেও।

তৃতীয় দিনও দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ব্যাট হাতে বিধ্বংসী ফর্মে ছিলেন ডিন এলগার। তবে এদিন পিচে বোলারদের জন্যও যথেষ্ট সাহায্য ছিল। কিন্তু ডিন এলগারকে সেভাবে রুখতে ব্যর্থই হচ্ছিল ভারতীয় দলের বোলাররা। এদিন শুরু থেকেই খানিকটা আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার এই তারকা ব্যাটার। আর সেইসঙ্গেই ভারতের বিরুদ্ধে বড় রানের রাস্তাতে হাঁটা শুরু করেছিল তারা। ডিন এলগার এবং সেষের দিকে মার্কো য়্যানসেনের হাত ধরে ভারতের বিরুদ্ধে ৪০০ রানের গন্ডী টপকে দিয়েছিল প্রোটিয়া বাহিনী।

১৮৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা হয়েছেন ডিন এলগার

সেইসঙ্গে ভারতের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে তারা লিড নিয়েছিল ১৬৩ রান। লিডের সংখ্যাটা অবশ্য খুব একটা বেশী না হলেও, তৃতীয় সেঞ্চুরীয়নের পিচে যে তা যথেষ্ট ছিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কার্যত ব্যাট হাতে মাঠে নেমেই বুঝতে পেরেছিল ভারতীয় শিবির। কার্যত ভারতের বিরুদ্ধে কাগিসো রাবাডা এবং নান্দ্রে বার্গারের বিধ্বংসী স্পেলই দক্ষিণ আফ্রিকার কাজটা অনেকটা সহজ করে দিয়েছিল। মাত্র ৩৪.১ ওভারেই ভারতীয় দলকে থামিয়ে এক ইনিংস ও ৩২ রানে জয় তুলে নিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। দুই ম্যাচের সিরিজে ০-১-এ পিছিয়ে পড়ল ভারতীয় দল।


https://twitter.com/Yogendrakr7/status/1740387673309904924

প্রপথম ইনিংসে বড় রান করতে পারেননি রোহিত শর্মা। এই ইনিংসেও সেই একই চিত্র বজায় রইল। শুরুতেই সেই কাগিসো রাবাডার সামনে আত্মসমর্পন করলেন রোহিত শর্মা। তাঁকে বোল্ড করেই সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন কাগিসো রাবাডা। এরপর থেকেই মাঠে ছিল নান্দ্রে বার্গারের দাপট। যশস্বী জয়সওয়াল থেকে কেএল রাহুল, রবিচন্দ্রন অশ্বিনদের বেশীক্ষণ ক্রিজেই থাকতে দেননি তিনি। যশস্বী ফিরে যান ৫ রানে এবং অশ্বিন করেন শূন্য রান।

শুভমন গিল কিছুক্ষণ বিরাট কোহলির সঙ্গে থাকলেও তাঁকে থামিয়ে দেন মার্কো য়্যানসেন। শুভমন গিলকে ২৬ রানে এবং শ্রেয়স আইয়ারকে ৬ রানেই সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরী করলেও এদিন ৪ রানেই ফিরে যেতে হয়েছিল লোকেশ রাহুলকে। ভারতীয় দলের হয়ে একাই এদিন লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন বিরাট কোহলি। কিন্তু তাঁকে সঙ্গ দেওয়ারই কেউ ছিলেন না।

তিনি অর্ধশতরান করলেন ঠিকই, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে জেতার জন্য এদিন সেটা যথেষ্ট ছিল না। যদিও বিরাট চেষ্টাটা চালিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত সেই মার্কো য়্যানসেনের কাছেই থামতে হয় তাঁকে। ৭৬ রানে তিনি সাজঘরে ফেরার সঙ্গেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিজয়োল্লাস শুরু।

close whatsapp