ইংল্যান্ড সফরে রবি শাস্ত্রীর সঙ্গে একটি কথোপকথনের পরে বদলে গিয়েছিল জাডেজার কেরিয়ারের গতিপথ
অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে দুটি টেস্টেই ম্যাচের সেরা হয়েছেন জাডেজা
আপডেট করা - Feb 27, 2023 2:35 pm

ভারতের প্রাক্তন প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী ভারতের অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাডেজার সঙ্গে হওয়া তার এক সময়ের আকর্ষণীয় কথোপকথনের বিষয়ে বলেছেন। তিনি মনে করেন এই আলোচনার ফলে জাডেজার কেরিয়ারে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছিল।
রবীন্দ্র জাডেজা চলমান বর্ডার-গাভাস্কার ট্রফিতে অসামান্য ফর্মে রয়েছেন। ভারত ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে। উভয় টেস্টেই জাডেজা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে উভয় ম্যাচেই ম্যান অফ দ্য ম্যাচ পুরস্কার জিতেছেন। প্রথম টেস্টে হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানোর পরে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ম্যাচে দশ উইকেট নিয়েছিলেন।
পুরুষ দলের প্রাক্তন কোচ এবং ধারাভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী এখন ২০১৮-এর একটি কথোপকথন প্রকাশ করেছেন যা তাঁর ও সৌরাষ্ট্রর ক্রিকেটারের মধ্যে হয়েছিল। শাস্ত্রী প্রকাশ করেছেন যে জাডেজাকে ২০১৮-তে লর্ড’স টেস্ট থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তার পরে শাস্ত্রী ও বোলিং কোচ ভরত অরুণ জাডেজাকে আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার করতে এবং কিছু উপদেশ দেওয়ার জন্য একসঙ্গে বসেছিলেন। জাডেজার ব্যাটিং দক্ষতা উন্নত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন শাস্ত্রী, যাতে ভারতের প্রধান অলরাউন্ডার হয়ে উঠতে পারেন তিনি।
“তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে তোমার প্রতিভা আছে” – জাডেজাকে উদ্বুদ্ধ করতে গিয়ে বলেছিলেন শাস্ত্রী
“আমি মনে করি সে ক্ষুধার্ত, সে অত্যন্ত ফিট। সে খেলাধুলার প্রতি খুব আবেগপ্রবণ। আমার খুব বেশী কথোপকথন মনে নেই, তবে সেটা ২০১৮ সফরে লর্ডসে হয়েছিল। সেই ম্যাচটি সে খেলেনি। আমরা আড্ডা দিচ্ছিলাম, বোলিং কোচ ভরত অরুণও ছিল।
“আমরা বলেছিলাম, তোমার কাছে সবকিছু আছে, শুধু তোমার ব্যাটিংয়ে ফোকাস করো। নেটে সেটা নিয়ে একটু কঠোর পরিশ্রম করো কারণ তোমার মধ্যে খেলা আছে, তোমার প্রতিভা আছে। তোমার যে প্রতিভা আছে তা তোমাকে উপলব্ধি করতে হবে। তোমাকে বিশ্বাস করতে হবে যে তোমার প্রতিভা আছে,” ৬০ বছর বয়সী আইসিসি রিভিউয়ের একটি পর্বে বলেছেন।
প্রাক্তন অলরাউন্ডার বলেছেন যে এত কিছু তাঁকে ও ভরত অরুণকে করতে হয়েছিল কেবল রবীন্দ্র জাডেজাকে এটা বোঝানোর জন্য যে তাঁর মধ্যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং তিনি যেন উদ্বুদ্ধ হন। শাস্ত্রী আরও উল্লেখ করেছেন যে জাডেজাকে সেই কথোপকথন গুরুত্ব দিতে দেখে এবং নিজের উপর কঠোর পরিশ্রম করতে দেখে তিনি অত্যন্ত খুশি হয়েছিলেন। তিনি যোগ করেছেন যে এর ফলে তিনি একজন ম্যাচ-উইনার বিকল্প হয়ে উঠেছিলেন কোচ ও টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে।
“পরে একবার সুযোগ পেলে, সে আর পিছনে ফিরে তাকায়নি। গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে, কঠিন পরিস্থিতিতে রান করেছে এবং তারপরে অবশ্যই বল হাতে সে তার কাজ করেছে। বিদেশী কন্ডিশনে একজন স্পিনার বাছাই করা একজন কোচের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়ায়। যদি শুধুমাত্র একজনকে বাছাই করতে হয়, তাহলে সেটা দুঃস্বপ্ন কারণ অশ্বিনের রেকর্ডের দিকে তাকান এবং তারপরে আপনার কাছে জাডেজাও আছে, ফলে এটা কঠিন হয়ে যায়,” বলেছেন শাস্ত্রী।