ভারত হারলেও, নটিংহামে সূর্যকুমার যাদবের বিধ্বংসী সেঞ্চুরী মন জিতে নিল সকলের

Suryakumar Yadav
Suryakumar Yadav. ( Photo Source: BCCI/Twitter )

নটিংহামে ভারত হারল ঠিকই, কিন্তু মন জিতে নিলেন সূর্যকুমার যাদব।। ইংল্যান্ডের ঘরের মাঠে তাদের হোয়াইট ওয়াশ করতে পারল না ভারত। কিন্তু সূর্যকুমার যাদবের দুর্ধর্ষ একটা লড়াই অনেককিছুর জবাব দিয়ে দিল এদিন। পঞ্চম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে দেশের জার্সিতে আন্তর্জাতিক টি টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরী করলেন তিনি। সেইসঙ্গে গোটা নটিংহাম এদিন স্বাক্ষী হয়ে রইল সূরযকুমারের ভয়ঙ্কর তান্ডবের। ১১৭ রানের ইনিংস জুড়ে শুধুই ছিল এদিন চার ও ছয়ের দাপট। শুধু আফসোস একটাই ম্যাচটা জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলেন না। ১৭ রানে হেরে গেল ভারত। সিরিজ ভারতের ২-১-এ।

এদিন সূর্যকুমার যাদব যখন ব্যাটিংয়ে এসেছিলেন, সেই সময়, কার্যত ভারতের হাতটা নিস্চিত ছিল। সেই জায়গা থেকেই শ্রেয়স াইয়ারকে সঙ্গে নিয়ে ১১৯ রানের সর্বোচ্চ পার্টনারশিপ গড়ে তুলেছিলেন তিনি। সেইসহ্গে ৫৫ বলে ১১৭ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংসও খেললেন সূর্যকুমার যাদব। তাঁর গোটা ইনিংসটা জুড়ে রয়েছে ১৪টি বাউন্ডারি ও ৬টি ওভার বাউন্ডারি। আর এই পারফরম্যান্সটা যে আসন্ন বিশ্বকাপের দলে সুযোগ পাওয়ার জন্য সূর্যকুমারকে অনেকটাই এগিয়ে দিল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

পঞ্টম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসাবে আন্তর্জাতিক টি২০-তে সেঞ্চুরী করলেন সূর্যকুমার যাদব

টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ইংল্যান্ড অধিনায়ক জস বাটলার। অন্যদিকে সিরিজ জয় হয়ে যাওয়ার ফলে ভারতীয় দলে এদিন ছিল চারটি পরিবর্তন। তরুণ ক্রিকেটারদেরই খেলার সুযোগ করে দিয়েছিলেন রোহিত শর্মা। উমরান মালিক, আভেশ খান, শ্রেয়স আইয়ার এবং রবি বিষ্ণোইদেরই এদিন সুযোগ করে দেওয়া হয়েছিল। ঘরের মাঠে সিরিজ হারলেও, হোয়াইট ওয়াশ এড়ানোই ছিল এদিন ইংল্যান্ডের প্রধান লক্ষ্য।

যদিও শুরুটা যে তারাও খুব একটা ভাল করতে পেরেছিল তা নয়। বরং ৬১ রানের মধ্যেই ২ উইকেট খুইয়ে প্রথমে খানিকটা চাপে পড়ে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। ওপেনিং জুটি ব্যর্থ হলেও, এদিন ডেভিড মালান ছিলেন বিধ্বংসী ফর্মে। সেইসঙ্গে তাঁকে যোগ্য সঙ্গক দিয়েছিলেন লিয়াম লিভিংস্টোন। আর তাদের হাত  ধরেই যেন ভারতের বিরুদ্ধে বড় রানের রাস্তাটা তৈরি করে ফেলেছিল ইংল্যান্ড। সেই থেরেই ভারতীয় বোলারদের ওপর চাপ বাড়ানোর কৌশল দুই তারকা ক্রিকেটারের।

ডেভিড মালান এদিন সাজঘরে ফেরেন ৩৯ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলে। যদিও শেষ পর্যন্ত ক্রিজে ছিলেন লিয়াম লিভিংস্টোন। তাঁর ৪২ রানে ভর করেই শেষপর্যন্ত ২১৫ রনে পৌঁছয় ব্রিটিশ বাহিনী। লক্ষ্যটা কঠিন হলেও, ভারতীয় দল কিন্তু সেই চ্যালেঞ্জটা এদিন গ্রহন করেছিল। যদিও প্রথম থেকেই প্রয়োজন ছিল একটা আক্রমণাত্মক ইনিংসের। কিন্তু শুরুতেই ২ রানে সাজঘরে ফেরেন ঋষভ পন্থ।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি২০ সিরিজ জয়ের ধারা অব্যহত ভারতের

আবূারও ব্যর্থ বিরাট কোহলি। তিনি ফেরেন ১১ রানে। রোহিত শর্মাও থামেন ১১ রানেই। সেই থেকেই ক্রিজে লড়াইটা শুরু সূর্যকুমার যাদব এবং শ্রেয়স আইয়ারের। সময় যত এগোনো শুরু হয় ততই সেই  আক্রমণাত্মক হয়ে ুঠতে শুরু করেন সূর্যকুমার যাদব। তাঁর হাত ধরে ভারতের রানও এগোনো শুরু। সেইসঙ্গেই একসময় পিছিয়ে থাকা ভারতের ফের যেন জয়ের স্বপ্নটাও জাগতে শুরু করে।

শ্রেয়স আইয়ারের সঙ্গে ১১৯ রানের দুর্ধর্ষ পার্টনারশিপও গড়েন এদিন সূর্যকুমার যাদব। কিন্তু শ্রেয়স আউট হতেই, ফের খেলা ঘিরে খানিকটা অনিশ্চয়তা দেখা দিতে শুরু করে। সূর্যকুমার ।াদবের সেই সময় যে সঙ্গতটা প্রয়োজন ছিল, তা দিতে ব্যর্থ হ দীনেশ কার্তিক এবং রবীন্দ্র জাদেজা। যদিও সূর্যকুমার কিন্তু লড়াইটা শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যান। ৫৫ বলে ১১৭ রানের ইনিংস জুড়ে রয়েছে ১৪টি চার ও ৬টি ছয়। কিন্তু শেষরক্ষা আর হল না।

মোঈন আলির ওভারে তিনি আউট হতেই স্বস্তির নিঃশ্বাস তখন ব্রিটিশ শিবিরে। ১৯৮ রানেই শেষ হয়ে যায় ভারত। ১৭ রানে ব্রিটিশদের কাছে শেষ ম্যাচে হেরে যায় টিম ইন্ডিয়া।

close whatsapp