শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে অজিদের স্বপ্ন ভেঙে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ড

England_win
England_win. ( Image source: twitter )

লো স্কোরিং ম্যাচে লড়াইটা হাড্ডহাড্ডি হলেও শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পৌঁছে গেল ইংল্যান্ড। সেইসঙ্গেই ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের স্বপ্ন শেষ অস্ট্রেলিয়ার। এদিন শ্রীলঙ্কারক বিরুদ্ধে ৪ উইকেটে ম্যাচ জিতে নিল ব্রিটিশরা। ইংল্যান্ডের বোলারদের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স এবং অ্যালেক্স হেলসের ঝোড়ো ইনিংসে ভর করেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের টিকিট পাকা করে নিল ব্রিটিশ বাহিনী। ক্ষীণ আশা থাকলেও, ইংল্যান্ডের জয়ের পরই সমস্ত আশা শেষ হয়ে গেল অস্ট্রেলিয়ারও।

এদিন গ্রুপ ওয়ানের শেষ ম্যাচে নেমেছিল ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। সিডনিতে ইংল্যান্ডের সমর্থকরা তো বটেই, এদিন অস্ট্রেলিয়ান সমর্থক থেকে ক্রিকেটারদের চোখও ছিল এই ম্যাচেই। গতম্যাচে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে জিততে পারলেও, ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এই ম্যাচেই ভাগ্য নির্ণয় হত অস্ট্রেলিয়ার। সেখানে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে শ্রীলঙ্কা লড়াইটা অবশ্য অসাধারণ করেছিল। কিন্তু এতটাই কম রান তারা করেছিল, তাই হয়ত শেষরক্ষা করতে পারেনি শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ড জিতে সেমিফাইনালে পৌঁছলেও, তাদের ব্যাটিং নিয়ে কিন্তু একটা চিন্তা রয়েই যাচ্ছে।

শ্রীলঙ্কাকে হারানোর মঞ্চে ম্যাচের সেরা হয়েছেন আদিল রসিদ

টস জিতে এদিন প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক দাসুন শনাকা। লক্ষ্যটা ছিল বড় রান গড়ে তোলা। সেখানেই শুরু থেকেই এদিন বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন পাথুম নিসাঙ্কা। তিনি যতত্ষণ এদিন মাঠে ছিলেন ইংল্যান্ড বোলারদের ওপর চাপ বজায় রাখতে পেরেছিল শ্রীলঙ্কা। ৪৫ বলে ৬৭ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন এদিন পাথুং নিসাঙ্কা। তাঁর হাত ধরে ১০  ওভারের মধ্যেই ৮৪ রানে পৌঁছে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। কিন্তু আদিল রসিদের বলে নিসাঙ্কা সাজঘরে ফিরলেই,  শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামতে শুরু করে।

শনাকা, আসালঙ্কা থেকে ডিসিলভা এবং ওয়ানিন্দু হাসারঙ্গারা সকলেই এদিন চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়ে মাঠ ছে়ড়েছিলেন। আর তাতেই কার্যত ম্যাচের ভবিষ্যত নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। ১৪১ রানেই শেষ হয়ে গিয়েছিল শ্রীলঙ্কা। সেমিফাইনালে পৌঁছতে ইংল্যান্ডের লক্ষ্য তখন ১৪২ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অসাধারণ করেছিলেন পাওয়ার প্লেতেই ৭৫ রানে করে ফেলেছিল  ইংল্যান্ডের ওপেনিং জুটি। কিন্তু খেলায় ছিল এদিন টানটান উত্তেজনা। হঠাত্ই শ্রীলঙ্কার স্পিন আক্রমণ ব্রিটিশদদের ওপর চাপ বাড়ায় এদিন।

স্পিনারদের দিয়ে ১২ ওভার করান শ্রীলঙ্কা অধিনায়ক। হেলস এবং বাটলার ফেরার পরই ব্রুকস, লিভিংস্টোন, মোঈন আলি  এবং স্যাম কারাণরা পরপর সাজঘরে ফেরেন। আর তাতেই ফের একবার ম্যাচ জেতা নিয়ে প্রত্যাশা বাড়ে শ্রীলঙ্কার। সেই জায়গা থেকেই ইংল্যান্ডেরক হাল ধরে রেখেছিলেন এদিন বেন স্টোকস। তাড়াহু়ড়ো নয়, ঠান্ডা মাথায় সিঙ্গলস খেলেই শেষ পর্যন্ত শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে পৌঁছে দেওয়াক কারিগড় সেই বেন স্টোকস।

close whatsapp