রাজস্থানের রানের পাহাড়ে ঢাকা পড়ল হায়দরাবাদের সূর্য, বড় জয় দিয়ে শুরু সঞ্জু স্যামসনদের

Sunrisers Hyderabad vs Rajasthan Royals
Sunrisers Hyderabad vs Rajasthan Royals. (Photo Source: IPL/BCCI)

আইপিএলের শুরুটা রয়্যালসদের মতোই করল রাজস্থান। প্রথম ম্যাচেই কেন উইলিয়ামসেনর সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে বিরাট জয় রাজস্থান রয়্যালসদের। ব্যাট হাতে সঞ্জু স্যামসন, দেবদূত পাডিক্কলরা যেমন দাপট দেখালেন। তেমনই বল হাতে একাই হায়দরাবাদ শিবিরকে শেষ করে দিলেন যুজবেন্দ্র চাহাল। রাজস্থানের সেই রানের পাহাডের সামনে দেড়শো রানও এদিন টপকাতে পারল না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। ৬১ রানে ম্যাচ জিতে নেয় রাজস্থান রয়্যালস। অবশ্যই হায়দরাবাদ শিবিরকে প্রথম ধাক্কাটা দিয়েছিলেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। এবারের আইপিএলে কেন অশ্বিন, চাহালকে রাজস্থানের অন্যতম অস্ত্র বলা হচ্ছে, সেটা হয়ত এই ম্যাচ থেকেই স্পষ্ট।

এবারের আইপিএলে রাজস্থানের দলে যেমন রয়েছে বেশকিছু তারকার নাম। তেমনই রাজস্থানের কোচিং স্টাফেও তারকাদের ছড়াছড়ি। এবারের আইপিএলেও সঞ্জু স্যামসনের ওপরই নেতৃত্বের ভরসা রেখেছিল রাজস্থান রয়্যালস। আর সেই সিদ্ধান্তটা যে এতটুকু ভুল ছিল না, তা হয়ত প্রথম দিন কার্যত স্পষ্ট করে দিলেন সঞ্জু স্যামসন।

রাজস্থান রয়্যালসের জয়ের মঞ্চেই টি টোয়েন্টি ক্রিকেটে ২৫০ উইকেটের মালিক যুজবেন্দ্র চাহাল

টস জিতে এদিন রাজস্থানের বিরুদ্ধে প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হায়দরাবাদ অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। লক্ষ্য ছিল মাঠর শিশিরের সমস্যা এ়ড়ানো। আর রাজস্থানকে কম রানের মধ্যে আটকে দেওয়া। শুরুতে ভুবনেশ্বর কুমার বেশ ভয়ঙ্কর লাগলেও, শেষপর্যন্ত সেই ধারা হায়দরাবাদের বোলাররা ধরে রাখতে পারেননি। ৫৮ রানের মধ্যে যশস্বী জয়সওয়ালকে সাজঘরে ফেরান উমরান মালিক। যদিও রাজস্থানের রান আটকানোর জন্য তা যথেষ্ট ছিল না। বাটলারও অবশ্য এদিন বড় রান পাননি। তিনি ফেরেন ৩৫ রানে।

এরপর থেকেই মাঠে শুরু সঞ্জু স্যামসনের রানের ঝড়। সঙ্গে যোগ্য সঙ্গত দেবদূত পাড়িক্কলের। দুই তারকার বিধ্বংসী ইনিংসেই এদিন শেষ হয়ে নাস্তানাবুদ হয়ে যায় হায়দরাবাদের বোলিং লাইনআপ। ২৭ বলে ৫৫ রান করে এদিন মাঠ ছাড়েন সঞ্জু স্যামসন। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫টি ছয় ও ৩টি বাউন্ডারি।  একইসঙ্গে ৪টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারি দিয়ে সাজানো দেবদূত পাড়িক্কলের ৪১ রানের ইনিংস। রাজস্থানের বড় রানের লক্ষ্য তখনই কার্যত পাকা। বাকিটা সামাল দিয়ে দেন শিমরন হেটমায়ার। ১৩ বলে ৩২ রানের ঝোরো ইনিংস খেলে রাজস্থানের রাঁ পৌঁছে দেন ২১০ রানে।

রাজস্থানের রানের পাহাড় টপকাতে হলে শুরু থেকেই এদিন ঝোরো ইনিংস খেলতে হত কেন উইলিয়ামসনদের। কিন্তু রাজস্থানের বোলারদের দাপটে শুরু থেকেই বিধ্বস্ত হতে থাকে হায়দরাবাদ ব্যাটাররা। অবশ্যই শুরুটা করেন প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা। কেন উইলিয়ামসন ও রাহুল ত্রিপাঠি দুই তারকাকে সাজঘরের রাস্তাটা দেখিয়ে দেন তিনি। এরপর মাঠে শুধুি যুজবেন্দ্র চাহালের স্পিনের জাদু।

হায়দরাবাদের অভিষেক শর্মা, রোমারিও শেফার্ড ও আব্দুল সামাদদের প্যভিলিয়নে ফিরিয়ে দিয়ে রাজস্থানের জয়টা তিনিই পাকা করে দিয়ে যান। ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে একাই ৩ উইকেট তুলে নিয়ে এদিন হায়দরাবাদের মিডল অর্ডার শেষ করে দিন তিনি। মাঝে অবশ্য আরেক বিধ্বংসী তারকা নিকোলাস পুরাণের উইকেট তুলে নেন ট্রেন্ট বোল্ট। রাজস্থানের ২১০ রানের জবাবে নেমে ১৪৯ রানেই শেষ হয়ে যায় সানরাইজার্স হায়দরাবাদ। দেড়শো রানের গন্ডীও টপকাতে পারলেন না কেন উইলিয়ামসনরা।

close whatsapp