বাটলারের সেঞ্চুরি ও চাহালের হ্যাটট্রিকে নাইটদের বিরুদ্ধে রুদ্ধশ্বাস জয় রাজস্থানের রয়্যালসদের

Rajasthan Royals vs Kolkata Knight Riders
Rajasthan Royals vs Kolkata Knight Riders. (Photo Source: IPL/BCCI)

ব্রেবোর্ণ স্টেডিয়ামে বাটলার ও চাহালের যুগলবন্দী, তাতেই শেষ কলকাতা নাইট রাইডার্স। জস বাটলারের একটা বিধ্বংসী শতরান আর ১৭ নম্বর ওভারে চাহালের হ্যাটট্রিক। কলকাতার নাইটদের ধরাশায়ী করে দিল রাজস্থান রয়্যালসষ। নাইট রাইডার্স লড়াইটা করল ঠিকই, কিন্তু রাজস্থান রয়্যালসের রানের পাহাড় টপকানো এদিন অসম্ভই ছিল। ম্যাচের শেষপর্যন্ত চলল একটা হাড্ডহাড্ডি লড়াই। জস বাটলারের জবাবে এদিন শ্রেয়স আইয়ারও একটা দুর্ধর্ষ ইনিংস খেললেন। কিন্তু দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়তে পারলেন না তিনি।চাহাল কাটাতেই আটকে গেল তারা। হ্যাটট্রিক সহ ৫ উইকেট নেন তিনি। ৭ রানে জিতল রাজস্থান রয়্যালস।

এবারের আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের স্তম্ভ হয়ে গিয়েছেন জস বাটলার। প্রথম  ম্যাচ টুকু বাদ দিলে প্রতি ম্যাচেই রাজস্থানের হয়ে বড় ইনিংস খেলেছেন। কলকাতা নাইট রাইডার্সের বিরুদ্ধে বরাবরই জস বাটলারের রেকর্ড ভাল। এদিনও সেই পরিসংখ্যানটা বদলালো না। এবারের আইপিএলের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা তাদের বিরুদ্ধেই করলেন জস বাটলার। নাইট রাইডার্স লড়াইটা চালিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু ১৭ নম্বর ওভারে চাহালের একটা হ্যাটট্রিকেই যেন সমস্ত চিত্রটা বদলে গেল এদিন।

জস বাটলাারের শতরান ও চাহালের পাঁচ উইকেটে জয় পেল রাজস্থান রয়্যালস

টস জিতে এদিন প্রথমে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্স অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার। লক্ষ্যটা ছিল রাজস্থানকে কম রানের মধ্যে আটকে দেওয়া। কিন্তু তাঁর পুরো পরিকল্পনাটাই এদিন ভেস্তে গিয়েছে। আর তার একমাত্র কারণ আর কেউ নন জস বাটলার। ম্যাচের প্রথম ওভারটুকু শুধু বাদ দিয়েছেন তিনি। এরপর থেকেই ভয়ঙ্কর  ফর্মে ছিলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে শুধুই চার ছয়ের বন্যা ছিল এদিন। কামিন্স থেকে উমেশ যাদব, বরুণ চক্রবর্তীরা কেউই রেহাই পাননি বাটলারের তান্ডব থেকে।

দেবদূত পাড়িক্কল অবশ্য বেশীক্ষণ সঙ্গ দিতে পারেনি তাঁকে। যদিও এদিন বটলারের কাওকেই দরকার ছিল না। তিনি একা হাতেই রাজস্থানের রান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেন। পাড়িক্কল ফেরার পর, বাটলারের সঙ্গে জুুটি বাঁধেন সঞ্জু স্যামসন। সেই সময় দুই তরফ থেকেই রানের ঝড় উঠেছিল। তাদের পার্টনারশিপের হাত ধরে রাজস্থান ১৫.২ ওভারেই পৌঁছয় ১৬৪ রানে। এরপর থামতে হয় সঞ্জু স্যামসনকে। কিন্তু জস বাটলারকে থামানো ছিল এদিন কার্যত অসম্ভব। ৬১ বলে ১০৩ রনের ইনিংস খেলে রাজস্থানের বড় রানের পথটা তিনিই তৈরি করে দিয়ে সাজঘরে ফেরেন। তাঁর গোটা ইনিংসে রয়েছে ৯টি বাউন্ডারি ও ৫টি ওভার বাউন্ডারি। শেষটুকু শিমরণ হেটমায়ারের হাত ধরে ২১৭ রানে পৌঁছয় রাজস্থান। এবারের আইপিএলে এখনও পর্যন্ত এটাই সবচেয়ে বেশী।

রাজস্থানের রানের পাহাড় টপকে জিততে হলে এদিন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক পারফরম্যান্স করার প্রয়োজন ছিল নাইট রাইডার্সের। সেই লক্ষ্যে ফিঞ্চের সঙ্গে এদিন নারিনকে নামিয়েছিল কেকেআর। কিন্তু প্রথম বলেই রান আউট সুনীল নারিন। সেইসঙ্গেই যেন চাপে নাইট রাইডার্স। ক্রিজে অ্যারণ ফিঞ্চের সঙ্গে তখন শ্রেয়স আইয়ার। লড়াইটা সেই থেকে শুরু করেন তারা। অ্যারণ ফিঞ্চ তখন বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন। একের পর এক ছয়-চারে প্রতিপক্ষকে নাজেহাল করতে থাকেন তিনি। সেইসঙ্গে ধীরে ধীরে আক্রমণাত্মক খেলা শুরু শ্রেয়স আইয়ারেরও। অ্যারণ ফিঞ্চের সঙ্গে তখন শ্রেয়সের ১০৭ রানের পার্টনারশিপ নাইট শিবিরে জয়ের আশা জাগিয়ে তুলেছে।

আইপিএলের ২১ তম হ্যাটট্রিক পেলেন যুজবেন্দ্র চাহাল

ফিঞ্চ ফেরেন ২৮ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলে। কিন্তু নাইট রাইডার্সের রান এগোতে অসুবিধা হয়নি। কারণ অধিনায়ক শ্রেয়স তখন ক্রিজে নিজের চেনা ছন্দে। নীতিশ রানাকে নিয়েই রাজস্থানের বোলারদের ওপর শাসন চালাচ্ছেন তিনি। রানা যখন ফেরেন তখন রাজস্থান ১৪৮। কিন্তু ওভার মাত্র ১২। শ্রেয়সের হাত ধরে নাইট শিবিরের চোখে তখনও জয়ের আশা জ্বল জ্বল করছে। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। যুজবেন্দ্র চাহালের শেষ ওভারেই যেন অপেক্ষা করছিল সেরা ক্লাইম্যাক্সটা। শ্রেয়স আইয়ার, শিবম মাভি এবং প্যাট কামিন্স পরপর তিনজনকে সসাজঘরে ফিরিয়ে রাজস্থানের জয় নিশ্চিত করে দেন তিনি। যদিও শেষপর্যন্ত উমেশ যাদব একটা লড়াই করেছিলেন, কিন্তু ভাগ্য তাদের সঙ্গে ছিল না। ২১০ রানেই শেষ হয়ে যায়  কলকাতা নাইট রাইডার্স।

 

close whatsapp