বাংলা

“ঘটনাটি নিয়ে আমি একেবারেই গর্বিত নই”, টুপি ছোঁড়ার ঘটনা প্রসঙ্গে রাহুল দ্রাবিড়ের অনুশোচনা

ফের উঠে এল ২০১৪-র ঘটনা

Rahul Dravid
Rahul Dravid. (Photo Source: Twitter)

ভারতীয় ক্রিকেটের অন্যতম ঠাণ্ডা মাথার ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিত রাহুল দ্রাবিড়। তাঁর চারিত্রিক গুণ ও ব্যক্তিত্বের জন্য সবারই পছন্দের পাত্র তিনি। তিনি যে কখনো মাথা গরম করতে পারেন সেটা ভাবাই যায় না। কিন্তু পরিস্থিতি যদি খুবই তীব্র হয়ে যায়, চাপ যদি মাত্রাছাড়া হয় তখন মাথা ঠিক রাখা হয়তো সব সময় সম্ভব হয় না। একই জিনিস ঘটেছে রাহুল দ্রাবিড়ের ক্ষেত্রেও। 

ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালে যখন তিনি রাজস্থান রয়ালসের মেন্টরের দায়িত্বে ছিলেন। ম্যাচটি ছিল মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে। লিগ পর্যায়ের শেষ ম্যাচ ছিল সেটি। প্রথমে ব্যাট করে তারা তোলে ১৮৯।  ওই ম্যাচটি রাজস্থানের না জিতলেও চলত। কিন্তু কোয়ালিফাই করার জন্য মুম্বইকে ১৪.৩ ওভারে আটকাতে হত। 

১৯০ তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝোড়ো গতিতে রান করতে থাকে মুম্বই। ১৪.৩ ওভারে মুম্বইয়ের স্কোর দাঁড়ায় ১৮৯-এ। তখন সবাই ভেবেছিলেন রাজস্থান মুম্বইকে আটকে দিয়েছে এবং মুম্বইকে ছিটকে দিয়ে রাজস্থান প্লে-অফে পৌঁছে গেছে। কিন্তু তখনই আসে আরো একটি নতুন আপডেট। 

সেই আপডেট থেকে জানা যায় পরবর্তী বলে অর্থাৎ ১৪.৪ ওভারে যদি মুম্বই ছয় মারে তাহলে রয়ালসকে ছিটকে দিয়ে মুম্বই চলে যাবে শেষ চারে। কারণ ওই ছয়ের জোরেই মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের নেট রান রেট রাজস্থান রয়ালসের নেট রান রেটকে টপকে যাবে। জেমস ফকনারের পরবর্তী বলটি আদিত্য তারে ফাইন লেগের উপর দিয়ে ছয় মেরে বসেন। সেই ছক্কার ফলে রাজস্থানকে ছিটকে যেতে দেখে দ্রাবিড় ডাগ আউটে দাঁড়িয়ে হতাশায় তাঁর পরনের টুপিটি ছূঁড়ে ফেলে দেন। যদিও তৎক্ষণাতই তিনি টুপিটি তুলে নেন। 

ক্রেডের ইউটিউব চ্যানেলে ওই ঘটনা প্রসঙ্গে রাহুলকে বলতে শোনা যায়, “ঘটনাটি নিয়ে আমি একেবারেই গর্বিত নই। কারণ আমি সব সময়ই আমার আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সব সময়ই চাপ থাকে। এই ধরনের মঞ্চে আপনার দিকে সবারই নজর। মাঠে ও মাঠের বাইরে আপনার প্রতিটি কাজই সবার গোচরে। তাই যতোটা সম্ভব নীরব থেকে নিজের কাজ করে যাওয়ায় উচিত হবে।”

প্রাক্তন ক্রিকেটার আরো বলেন যে এই ধরনের মুহূর্ত তাঁর জীবনে আগেও এসেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি জোড়েন, “এমন নয় যে ওইদিনই প্রথম ওইরকম কিছু ঘটেছিল। এরকম হয়েই থাকে। তফাত বলতে সেইদিনের ঘটনাটা সবার সামনে ঘটে গিয়েছিল। অন্য সময় ড্রেসিংরুমের অন্তরালে ঘটেছিল।”