বেঙ্গালুরুর চ্যালেঞ্জার্সদের জেতালেন প্রাক্তন নাইট অধিনায়ক, ব্যাটারদের ব্যর্থতাই ডোবাল নাইটদের

Dinesh Karthik and Harshal Patel
Dinesh Karthik and Harshal Patel. (Photo Source: IPL/BCCI)

আইপিএলে শুুুরুটা জয় দিয়ে করলেও, দ্বিতীয় ম্যাচেই থেমে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্সের জয়রথ। বিশ্রী ব্যাটিং পারফরম্যান্সের জেরেই রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু কাছে ৩ উইকেটে হেরে গেল কলকাতা নাইট রাইডার্স। বোলাররা চেষ্টা করলেও, ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় রান করতে না পারাটাই এদিন কলকাতা নাইট রাইডার্সের হারের জন্য প্রধান কারণ। শ্রেয়স আইয়ারদের হারিয়েই এবারের আইপিএলে প্রথম জয়টা পেল বিরাট কোহলিদের রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আর সেই জয়টা এল প্রাক্তন নাইট অধিনায়ক দীনেশ কার্তিকের হাতেই। যোগ্য ফিনিশারের ভূমিকা পালন করলেন তিনি।

প্রথম ম্যাচে চেন্নাই সুপার কিংসকে হারিয়ে এবারের আইপিএলে যাত্রা শুরু করেছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। দ্বিতীয় ম্যাচেই নাইটদের সামনে ছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। এই ম্যাচ শুরু হওয়ার আগে পর্যন্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী কলকাতা নাইট রাইডার্স বেঙ্গালুরুর থেকে এগিয়ে থেকেই নেমেছিল। ২৯ বারের সাক্ষাতে ১৬ বারই জিতেছিল নাইট রাইডার্স। কিন্তু এদিন খানিকটা হলেও বদলে গেল সেই হিসাবটা।

খারাপ ব্যাটিংয়ের জন্যই হার নাইটদের, ম্যাচ শেষে কম রান নিয়েই দলের সকলের লড়াইয়ে খুশি শ্রেয়স আইয়ার

কম রানের ম্যাচে লড়াইটা হাড্ডহাড্ডি হলেও, শেষপর্যন্ত ফাফ ডুপ্লেসির মুখেই শেষ হাসিটা ফুটল। উমেশ যাদব, সাউদি এবং নারিনদের সৌজন্যে একসময় ম্যাচের রাশ নাইটদের দখলে চলেও এসেছিল, কিন্তু শেষরক্ষাটা হল না। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর ব্যাটারদের কাছে হার মানতেই হয় নাইট বোলারদের।

টস জিতে এদিন নাইট রাইজার্সকেই প্রতম ব্যাটিংয়ের সুযোগটা দেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর অধিনায়ক ফাফ ডুপ্লেসি। ওয়াংখেড়ের পিচে এদিন শুরু থেকেই হাল্কা বাউন্সের প্রধান্য ছিল। আর সেটাই একেবারে কাজে লাগিয়েছেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। আর তাতেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে এদিন নাইট রাইডার্সের ব্যাটিং লাইনআপ। মাঝে আন্দ্রে রাসেল ও শেষের দিকে উমেশ যাদব যদি ১২ বলে ১৮ রান না করতে পারতেন তবে হয়ত এদিন একশো রানও টপকাতে পারত না বনাইট রাইডার্স।

শুরুতেই ১০ রানে ভেঙ্কটেশ আইয়ারকে ফিরিয়ে দেন আকাশদীপ। এরপরই অজিঙ্ক রাহানেকে ফিরিয়ে দেন মহম্মদ সিরাজ। এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই ভয়ঙ্কর ফর্মে ছিলেন সিরাজ। উইকেট একটি পেলেও, নাইট ব্যাটারদের ওপর ক্রমশ চাপ রেখেছিলেন তিনি। নাইট রাইডার্সের হয়ে শ্রেয়স আইয়ারও এদিন চূড়ান্ত ব্যর্থ। তিনি ফেরেন ১৩ রানে। ১৪ রানেই থামতে হয় স্যাম বিলিংসকে। রাসেল একটু চালিয়ে খেললেও তাঁকে থামতে হয় ২৫ রানে। তিনিই অবশ্য এদিন নাইট রাইডার্সের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন। নাইট রাইডার্স করে ১২৮ রান।

নাইটদের জিততে হলে তখন দরকার একটা অভাবনীয় বোলিং পারফরম্যান্স। এদিন নািট রাইডার্সের বোলাররা সেটা করেওছেন। কিন্তু ব্যাটাররা রানটা এতটাই কম করে ফেলেছিলেন যে, লড়াই করেই শেষরক্ষা করতে পারেননি নাইট বোলাররা। শুরু থেকেই দুর্ধর্ষ ফর্মে ছিলেন উমেশ যাদব। অনুজ রাওয়াত, বিরাট কোহলিকে শুরুতেই ফিরিয়ে দেন তিনি। মাঝে টিম সাউদির শিকার ফাফ ডুপ্লেসি। ১৭ রানের মধ্যে ৩ উইকেট খুইয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে গিয়েছিল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুও। বিরাট ফেরেন ১২ রানে এবং ডুপ্লেসির রান ৫।

এবারের আইপিএলে প্রথম ম্যাচ জিতল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু

সেই থেকেই রাদারফোর্ড ও ডেভিড উইলি রান এগোনের কাজটা শুরু করেন। কিন্তু নাইট বোলাররাও চাপটা তাদের ওপর বজায় রেখেছিল।ডেভিড উইলিকে সাজঘরের রাস্তা দেখিয়ে দেন  নারিন। এরপই ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা শাহবাজকে ফিরিয়ে, ফের ম্যাচের রাশটা নিজেদের দিকে নিয়ে আসেন নাইট বোলাররা। কিন্তু মাঝে আবারও চ্যালেঞ্জার্সদের দাপট। সেই সময় নাইট রাইডার্সের ত্রাতা টিম সাউদি। এক ওভারে পরপর দুটো উইকেট। নাইট সমর্থকদের হয়ত তখনও খানিকটা আশা জেগেছিল। কিন্তু মাঠে যে তখও ছিলেন দীনেশ কার্তিক। আর চাপের মুহূর্তে কেমনভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে ম্যাচ ফিনিশ করতে হয় সেটাই দেখিয়ে দিলেন বেঙ্গালুরুর নতুন ফিনিশার দীনেশ কার্তিক।

close whatsapp