শ্রেয়াস আইয়ারের অবর্তমানে কেমন দেখাচ্ছে কেকেআরের ব্যাটিং লাইন-আপ?

দলে বাঁ-হাতি ব্যাটারের আধিক্য রয়েছে

Rinku Singh and Nitish Rana
Rinku Singh and Nitish Rana. (Photo Source: IPL/BCCI)

আইপিএল ২০২২-এ ১৪ ম্যাচ খেলে ১০৪ উইকেট হারিয়েছিল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর)। ১৪টি ম্যাচের মধ্যে চারটিতে তারা অল আউট হয়ে যায়। জাসপ্রিত বুমরাহ্‌, আভেশ খান, উমরান মালিকদের মতো পেসারদের কেকেআরের বিরুদ্ধে সাফল্য প্রমাণ করেছিল যে উচ্চ গতির পেসারদের সামলাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছে কেকেআর।

তারপরেও কেকেআরের হয়ে শ্রেয়াস আইয়ার ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে ৪০১ রান করেছিলেন। পিঠের চোটের কারণে আসন্ন মরসুমের বেশীরভাগ ম্যাচেই খেলতে পারবেন না শ্রেয়াস, ফলে কেকেআরের ব্যাটিং লাইন-আপের উপর চাপ আরও বাড়বে। শ্রেয়াসের বিকল্প হিসেবে বেশ কিছু নাম উঠে আসছে, যাঁর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মনদীপ সিং ও শাকিব আল হাসান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শাকিব ভালো ফর্মে আছেন এবং স্পিনের বিরুদ্ধে তিনি অসামান্য ব্যাটিং করেন। কিন্তু পেসারদের সামলাতে গিয়ে তাঁকেও সমস্যায় পড়তে হয়। অন্যদিকে, মনদীপ সিং দীর্ঘদিন ধরে আইপিএলে খেললেও, খুব কম ক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পেরেছেন।

ভরসা রাখা যেতে পারে নীতীশ রানা, রিঙ্কু সিং, আন্দ্রে রাসেলদের উপরে

এমন অবস্থায় দলের ব্যাটিংয়ের মূল স্তম্ভ হয়ে উঠতে পারেন সদ্য অধিনায়ক নির্বাচিত হওয়া নীতীশ রানা। ২০১৮-তে কেকেআরে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর থেকে নীতীশ পরবর্তী পাঁচ মরসুমের প্রত্যেকটিতেই ৩০০ রানের বেশী করেছেন। আইপিএল ২০২২-এ ২৭.৭৭ গড় ১৪৩.৮২ স্ট্রাইক রেটে নীতীশ ৩৬১ রান করেছিলেন। নীতীশের একটি বড় গুণ হল ওপেনিং বা মিডল অর্ডার যে কোনো পজিশনেই ব্যাটিংয়ের স্বাচ্ছন্দ্য। কেকেআর এই মরসুমে নীতীশের কাছ থেকে এমন নমনীয়তা আশা করবে।

২০১৮ থেকে কেকেআরের সঙ্গে জড়িত থাকলেও ধারাবাহিকভাবে সুযোগ পান না এই ব্যাটার। তবে গত মরসুমে বেশ কিছু ঝকঝকে ইনিংস খেলায়, আগামী মরসুমে রিঙ্কুকে নিয়মিত একাদশে দেখা যেতে পারে। আইপিএল ২০২২-এ ৭ ইনিংসে ১৪৮.৭২ স্ট্রাইক রেট বজায় রেখে রিঙ্কু ১৭৪ রান করেছিলেন। রাজস্থান রয়্যালসের বিরুদ্ধে ৪২* (২৩) ইনিংসের জন্য ম্যাচের সেরাও নির্বাচিত হয়েছিলেন। মিডল অর্ডারে কেকেআরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যাটার হবেন রিঙ্কু।

আইপিএল ২০২১-এর দ্বিতীয় পর্বে কেকেআরের অসামান্য কামব্যাকের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন ভেঙ্কটেশ আইয়ার। তবে পরবর্তী মরসুমে সেই ফর্মের ধারেকাছেও ছিলেন না এবং ওপেনার হিসেবে মরসুম শুরু করার পরে ব্যর্থ হওয়ায় দল তাঁকে মিডল অর্ডারে পাঠিয়েছিল। সেখানেও রানে না ফেরায় ভেঙ্কটেশকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পেসারদের বিরুদ্ধে আগ্রাসীভাবে শুরু করার ক্ষমতা রাখেন ভেঙ্কটেশ এবং কেকেআরকে যদি গত মরসুমের ব্যর্থতা ঝেড়ে ফেলতে হয়, তবে ভেঙ্কটেশের ফর্মে থাকা আবশ্যিক।

ফিনিশার হিসেবে খেললেও, বিগত বেশ কয়েক মরসুম ধরে কেকেআরের সবচেয়ে ভরসাযোগ্য ব্যাটারের নাম আন্দ্রে রাসেল। গত মরসুমে রাসেল ৩৩৫ রান করেছিলেন ১৭৪.৪৮ স্ট্রাইক রেটে। রাসেল এমন একজন প্রভাবশালী ব্যাটার, যিনি একক দক্ষতায় ম্যাচের রঙ পাল্টে দিতে পারেন। তাঁর পাওার-হিটিং ক্ষমতাকে কেকেআরের ম্যানেজমেন্ট কাজে লাগাতে পারলে ২০০ রানের কাছাকাছি স্কোর তোলা অসম্ভব হবে না।

close whatsapp