অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসকে শেষশ্রদ্ধা প্রদর্শনে কালো আর্মব্যান্ড পরে মাঠে নামলেন চেন্নাই ও গুজরাত ক্রিকেটাররা

Chennai Super Kings and Gujarat Titans' players-wearing-armbands
Chennai Super Kings and Gujarat Titans’ players-wearing-armbands. (Photo Source: Disney+Hotstar)

ভারতীয় সময় রবিবার ভোররাত। গোটা ক্রিকেট বিশ্বের কাছে সেই দুঃসংবাদটা।  ভয়াবহ গাড়ী দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। আর তাতেই বিশ্ব ক্রিকেট জুড়ে  নেমে এসেছিল একের শোকের ছায়া। মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই ইহলোক ত্যাগ করেছেন অস্ট্রেলিয়া তথা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা তারকা। তাঁর মৃত্যু খবরে হতভম্ব হয়ে গিয়েছে সকলে। সোশ্যাল সাইট জুড়ে এদিন শুধুই অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের বন্দনা। সকলের মুখেই ছিল তারকা কিংবদ্তীর সমৃতিচারণা। আইপিএলের মঞ্চ থেকেই তাঁকে বিশেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন চেন্নাই সুপার কিংস ও গুজরাত টাইান্সের।

অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি এই আইপিএলের মঞ্চেও অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্স সকলে দেখেছেন। সেই তারকাকেই মাঠ থেকে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন চেন্নাই সুপার কিংস ও গুজরাত টাইটান্স তারকারা। তাঁর উদ্দেশ্যে এদিন কালো আর্মব্যান্ড পরেই মাঠে নেমেছিলেন দুই দলের ক্রিকেটাররা। প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটারের প্রতি এমনভাবেই শোকপ্রকাশ আইপিএলের তারকাদের।

অস্ট্রেলিয়ার পাশাপাশি আইপিএলের সঙ্গেও অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের নীবিড় যোগাযোগ রয়েছে। ডেকান চার্জার্সের হয়ে এই মঞ্চে প্রথমবার নেমেছিলেন তারকা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার। সেই দলের হয়েই আইপিএলের মঞ্চে ৫৩ বলে ১১৭ রানের সেই দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয় মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়েও ২০১১ সালে আইপিএলের মঞ্চে মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলেছিলেন তিনি।

আইপিএলে ডেকান চার্জার্সের পাশাপাশি মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের হয়েও খেলেছেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস

কিন্তু  রবিবার ভারতীয় সময় মাঝরাতেই সব শেষ। এক ভয়াবহ গাড়ী দূর্ঘটনায় প্রাণ হারান অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। দ্রুত উদ্ধ্বার করে তাঁর চিকিত্সার চেষ্টা করা হলেও,শেষরক্ষা হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন তারকা ক্রিকেটার মাত্র ৪৬ বছর বয়সেই বিশ্ব ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন। আইপিএল চলছে এখন। এখানেও তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। এমন তারকার বিদায়ে সকলেই বিমর্ষ। সেজন্য এদিন কালো আর্মব্যান্ড পরেই মাঠ থেকে সাইমন্ডসকে শেষ শ্র্দ্ধা জানালেন চেন্নাই সুপার কিংস ও গুজরাত টাইটান্স ক্রিকেটাররা।

অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেটে সোনালী সময়ের স্বাক্ষী তিনি। তাঁর হাত ধরে বহু ম্যাচ জিতে অসম্ভবকে সম্ভব করেছে অস্ট্রেলিয়া। ২০০৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার অপরাজিত থেকে বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম প্রধান কারিগড় ছিলেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। টেস্ট ক্রিকেটে সাইমন্ডসের তেমন সাফল্য নেই। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট ক্রিকেটও বেশী খেলেননি। কিন্তু একদিন এবং টি টোয়েন্টি ফর্ম্যাটে অ্যান্ড্রু সাইমনন্ডস ছিলেন বিধ্বংসী এক তারকা।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৯৮টি একদিনের ম্যাচ খেলেছেন অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস। টেস্ট খেলেছেন ২৬টি। শুধু তাই নয় ২০০৩ এবং ২০০৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম সদস্য ছিলেন তিনি। ২০০৩ বিশ্বকাপে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের দুর্ধর্ষ পারফরম্যান্সে ভর করে বহু সাফল্য পেয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অ্যান্ড্রু সাইমন্ডসের সেই ইনিংস এখনও সকলের স্মৃতিতে টাটকা। ওয়াসিম আক্রম, ওয়াকার ইউনিস এবং শোয়েব আখতারের মতো বোলিং লাইনআপের বিরুদ্ধে ১২৫ বলে ১৪৩ রানের দুর্ধর্ষ ইনিংস খেলেছিলেন সাইমন্ডস। শুধু তাই অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১৩টি টি টোয়েন্টিও খেলেছেন এই তারকা ক্রিকেটার।

close whatsapp