জ্যাকস ও মৃত্যুঞ্জয়ের হাত ধরে সিলেটকে হারিয়ে শীর্ষেই রইল চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স

Chattogram Challengers
Chattogram Challengers. (Photo by MUNIR UZ ZAMAN/AFP via Getty Images)

মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরির দুর্ধর্ষ বোলিংয়ে কাজে এল না আনামুল ও কলিন ইনগ্রামের লড়াই। সিলেট সানরাইজার্সকে হারিয়ে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষেই নিজেদের জায়গা ধরে রাখল চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। সিলেট সানরাইজার্সকে ১৬ রানে হারাল চট্টোগ্রামের চ্যালে়ঞ্জার্সরা। লড়াইটা হাড্ডহাড্ডি হলেও, শেষপর্যন্ত জয়ের হাসি ফুটল চট্টোগ্রামের চ্যালেঞ্জার্সদের মুখেই। আর একাই তিন উইকেট নিয়ে দলের নায়কও এদিন মৃত্যুঞ্জয়ই। তাঁর হাত ধরেই তো এদিন চাপ কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়ায় চট্টোগ্রাম।

গতকালই হেরেছিল সিলেট সানরাইজার্স। এদিন জিততেই গত তাদের। লড়াইটা করেওছিল সিলেট সানরাইজার্স বাহিনী। কিন্তু চট্টোগ্রানের রানের পাহাড় টপকাতে তারা ব্যর্থই হয়।  আনামুলের ব্যাটে ভরসা জাগলেও, সেই মৃত্যুঞ্জয়ের বোলিংয়েই নিজেদের জয়ের স্বপ্ন পূরণ করে চট্টোগ্রাম। আর তাতেই ম্যাচ শেষে স্বস্তিতে চট্টোগ্রাম শিবির।

এদিন টস জিতে চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে প্রথম ব্যাটিংয়ের সুযোগ দেন সিলেট সানরাইজার্স  অধিনায়ক। আর সেটাই বোধ হয় এদিনের ম্যাচে সবচেয়ে বড় ভুল ছিল মোসাদ্দেক হোসেনের। এই সুযোগ কাজে লাগাতে এতটুকু ভুল করেনি চট্টোগ্রামের চ্যালেঞ্জার্সরা।  কেনার লুইস না পারলেও, শুরু থেকেই বিধ্বংসী মেজাজে ছিলেন জ্যাক উইলস। ১৯ বলে ৫২ রানের ইনিংস খেলে তিনিই এদিন চট্টোগ্রামের বড় রানের ভিতটা গড়ে দিয়েছিলেন। এরপর বাকিটা সামাল দেন আফির হোসেন, সাব্বির রহমান এবং শেষ মুহূর্তে বেনি হওয়েল । তিনি করেন ২১ বলে ৪১ রান।

প্রথমে ব্যাট করে ৫ উইকেট খুইয়ে ২০২ রান করে চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। জয়টা কার্যত তখনই পাকা তাদের। কিন্তু সিলেট সানরাইজার্সও সহজে ছেড়ে দেওয়ার দল নয়। বড় লক্ষ্য হলেও, টি টোয়েন্টি ২০০ রানও এখন টপকে যাওয়া খুব একটা কঠিন নয়। সিলেটেরও দরকার ছিল একটা বড় ইনিংসের। আর শুরু থেকেই সেটা আরম্ভ করেছিলেন আনামুল হক।

এদিন ওপেনিংয়ে নেমে ব্যর্থ লিন্ডলে সিমন্স। কিন্তু আনামুল ছিলেন আক্রমণাত্মক। সঙ্গে কলিন ইনগ্রাম। একসময় এই দুজনের পার্টনারশিপ রীতিমত চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স অধিনায়ককে। অবশেষে সেই পার্টনারসিপ ভাঙেন মেহিদি হাসান। ইনগ্রামকে ৫০ রানে সাজঘরে ফেরান তিনি। কিন্তু তখনও পুরোপুরি চিন্তামুক্ত হতে পারেননি তারা। কারণ পিচে রয়েছেন আনামুল হক। সেই কাজটাই করলেন মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী।

৭৮ রানেই থামতে হয় আনামুল হককে। তাঁকে সাজঘরে ফিরিয়েই চট্টোগ্রাম শিবিরে অক্সিজেন জোগায় মৃত্যুঞ্জয়। তখন সিলেটের রান ৪ উইকেটে ১৬১। এরপর মাঠে শুধুই মৃত্যুঞ্জয়ের দাপট। একে একে রবি বোপারা এবং অধিনায়ক মাসোদ্দেক হোসেনদের প্যাভিলিয়নে ফিরিয়ে দেন তিনি। আর তাতেই জয় পাকা হয়ে যায় চট্টোগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের। ১৮৬ রানেই গুটিয়ে যায় সিলেট সানরাইজার্স।

close whatsapp